Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে জেলা রাজ্য

পরিযায়ী শ্রমিকদের হাজার খানেক সাইকেল আজও পড়ে রয়েছে বাংলা-ওড়িশা সীমান্তে

বঙ্গবাণী ডেস্ক,পশ্চিম মেদিনীপুরঃ গতবছর লকডাউনের সময় ভিন রাজ্য থেকে বাড়ি ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের সাইকেল আজও পড়ে রয়েছে বাংলা-ওড়িশা সীমান্তের দাঁতনে।  দাঁতনে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে একটি পেট্রল পাম্পের পিছনে পড়ে রয়েছে পরিযায়ী শ্রমিকদের রেখে যাওয়া সাইকেল গুলি। সরকারি ব্যবস্থাপনায় সাইকেল রেখে বাড়ি ফিরে গেছেন সরকারি বাসে। অনেকে পরে এসে রেখে যাওয়া মোট বাইক গুলি ফেরৎ নিয়ে গেলেও, কেউই আসেন নি সাইকেল ফেরত নিতে। 

সাইকেল গুলি যে পরিযায়ী শ্রমিকদের ছেড়ে যাওয়া সেকথা স্বীকার করছেন জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। এক আধিকারিক বলেন, ‘পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকে সাইকেল রেখে বাসে বাড়ি ফিরে ছিলেন। পরে কিছু লোক এসে মোটর সাইকেল গুলি ফেরত নিয়ে গেলেও, সাইকেল গুলি কেউ নিতে আসেন নি। আমরা সাইকেল গুলিকে এক জায়গায় গচ্ছিত করে রেখেছি।’   

গতবার লকডাউনের ভয়ঙ্কর ছবি সবার জানা। শ্রমিকদের কাজ নেই। পকেট টাকা নেই। খাবারের সংস্থান নেই। তাই ট্রেনের ওপর ভরসা না করে প্রাণের দায়ে সাইকেলে, পায়ে হেঁটে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার সেই ভয়ঙ্কর ছবি সকলেরই নজরে এসেছে। এমনই হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু সহ বিভিন্ন রাজ্যে থেকে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে ওড়িশা পেরিয়ে বাংলায় পৌঁছে ছিলেন। পুলিশ, প্রশাসন, ও স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে চেকিং পয়েন্ট করা হয়েছিল বাংলা-ওড়িশা সীমান্ত দাঁতনের সোনাকোনিয়ায়। সেখানে ভিন রাজ্য থেকে ফেরা মানুষজনের করোনা পরীক্ষা করা, ক্যাম্পে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, বর্ধমান বা অন্যান্য জেলার শ্রমিকদের সরকারি গাড়িতে নিজের জেলায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল প্রশাসন। তাতে কয়েক’শো কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে আসা ক্লান্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকেই দ্রুত বাড়ি ফেরার তাগিদে নিজেদের সাইকেল, মোটর সাইকেল রেখে দিয়ে সরকারি গাড়িতে বাড়ি ফিরে যান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর কেউ কেউ এসে মোটর বাইক গুলি নিয়ে গেলেও, অধিকাংশ পরিযায়ী শ্রমিক সাইকেল নিতে আসেন নি। সেই সাইকেল গুলিই এভাবে গচ্ছিত করে রেখেছে দাঁতন থানার পুলিশ।

      

দাঁতনের বাসিন্দা বিমল দাস বলেন, ‘গতবছর লকডাউনের সময় পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাটা ছিল দূরহ ব্যাপার। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার অনেকে সাইকেল রেখে সরকারের ব্যবস্থা করা গাড়িতে ফিরেছেন। একবছর ধরে সাইকেল পড়ে রয়েছে। কেউ অবশ্য হাত দেয়নি।  সবাই জানেন এগুলি পরিযায়ী শ্রমিকদের ছেরে যাওয়া সাইকেল। কে আর নেবে!’ পরিযায়ী শ্রমিকদের হাজার খানেক সাইকেল আজও পড়ে রয়েছে বাংলা-ওড়িশা সীমান্তে।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *