Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে জেলা রাজ্য

ইয়াসে’র তাণ্ডবে লন্ডভন্ড ওড়িশার গ্রামগুলি

বঙ্গবাণী নিউজ,বালেশ্বরঃ ‘ইয়াস’ এর তান্ডবে লন্ডভন্ড ওড়িশার বালেশ্বর ও ভদ্রক জেলার বেশকিছু গ্রাম। ভেঙে পড়েছে কয়েক হাজার মাটির বাড়ি। রাস্তার উপর ভেঙে পড়ে আছে বড় বড় গাছ। ঝড়ের পর রীতিমত শ্মশান হয়ে দিয়েছে গ্রাম গুলি। জানা গেছে, ঝড়ের ফলে ওড়িশায় মৃত্যু হয়েছে এক শিশু সহ ৩ জনের। ঝরের পর গাছপালা সরিয়ে বালেশ্বর শহরকে দ্রুততার সঙ্গে স্বাভাবিক করা হলেও, অন্যান্য এলাকা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে বেশকিছু দিন।

‘ইয়াস’ এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বালেশ্বর ও ভদ্রক জেলায়। ময়ূরভঞ্জ জেলার উপর দিয়ে ঝড় বয়ে যাওয়ায় সেখানেও ক্ষতি হয়েছে বেশকিছু ঘরবাড়ির। ওড়িশা উপকূলবর্তী এলাকা থেকে প্রায় ৬ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ স্থানে উদ্ধার করে আনা হয়েছিল ঝড়ের আগে। যার মধ্যে অনেকেই দুর্যোগ কমার পর বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি ফিরে গেছেন। এলাকার বিধায়ক অশ্বিনী পাত্র, নিত্যানন্দ সাহু’রা জানিয়েছেন, ‘জলে ডুবে থাকা গ্রামের লোকজন এখনো রেসকিউ সেন্টারে আছেন।’

ওড়িশার জলেশ্বরের বিধায়ক অশ্বিনী পাত্র বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির সীমা নেই। বালেশ্বর জেলার বাইগনবাড়িয়া, গড়সাই, রাজপুর, বালিয়াপাল, বস্তা, রেমুনা, নীলগিরি একালা এবং ভদ্রক জেলার ধামরা সহ আশপাশের এলাকায় ভেঙে পড়েছে বেশকিছু মাটির বাড়ি। বিভিন্ন এলাকায় সরকারি উদ্যোগে স্কুল গুলোতে খোলা হয়েছে ত্রাণ শিবির। ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া লোকজনকে দু’বেলা রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের উদ্যোগে।’

জলেশ্বর পেরিয়ে বালেশ্বর হয়ে যতোই এগিয়েছি ততই দেখা গেছে দুর্দশার ছবি। সমুদ্রের জলের তোড়ে ভেসে গেছে অধিকাংশ রাস্তা। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যেতে কালঘাম ছুটছে এলাকার মানুষেরই। বাইরের লোকজনতো পৌঁছাতেই পারবেন না। গ্রামের বাইরে থেকেই আঁচ করতে হচ্ছে ভেতরের অবস্থা। বৃহস্পতিবার সকালেও ‘বুড়ি বালঙ্গ’ নদী থেকে গ্রাম গুলিতে জল ঢুকছে হু হু করে। বালেশ্বর, ধামরা, চাঁদিপুর, বাসুদেবপুর, জলেশ্বর, আঞ্জি, তাড়পোদা, গোপালপুর, বাহানগা সহ বেশকিছু এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালেও কোমর সমান জল ছিল। ডুবে রয়েছে ঘরবাড়ি। বাড়িতে থাকা ধান, চাল কারও ভেসে গেছে, আবার কারও চাপা পরেছে দেওয়াল ভেঙে। বেশকিছু জায়গায় সরকারি ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছালেও, অনেক জায়গায় আবার ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ধামরা এলাকায় এখনো ঢোকা যাচ্ছেনা।

ভদ্রকের বাসিন্দা রাজেন্দ্র কুমার দাস, বহোনোগার বাসিন্দা মদন জানা বলেন, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা হবে। ঠিক এমন সময় ভদ্রক জেলার ধামরা মৎস্য বন্দরের উপকূলে ধেয়ে এলো ভয়ঙ্কর ঘুর্ণিঝড় ‘ইয়াস’। ঘণ্টা তিনেক চলল তান্ডব। ভদ্রক, বালেশ্বর ও ময়ূরভঞ্জ জেলার বেশকিছু এলাকা লন্ডভন্ড করে দিল এই ঝড়। বাংলা সীমানার ওড়িশার বালেশ্বর জেলার সবচেয়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বহনোগা এলাকায়। এটি ধামরা বন্দর থেকে মাত্র ৩০ কিমি দূরে অবস্থিত। ভদ্রকের কাঁশবাঁশ নদী ও বালেশ্বর বুড়া বালঙ্গ নদী উপকূলে এবং চাঁদিপুর সমুদ্র উপকূল অঞ্চলে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে কয়েক হাজার মাটির বাড়ি ধ্বংস স্তুপ পরিণত হয়ে গেল কয়েক ঘণ্টায়। অসংখ্য মানুষ গৃহহীন। বালেশ্বর জেলার শিমুলিয়া, বস্তা, বালিয়াপাল, জলেশ্বর , নীলগিরি ও সদর ব্লকে উপড়ে পড়ল হাজার হাজার গাছ। ভেঙে পড়ল বিদ্যুতের খুঁটি। বহু গ্রাম এখনও বিদ্যুৎহীন।’

বুধবার নির্ধারিত সময়ের বেশকিছুটা আগেই ওড়িশার বালেশ্বর-ভদ্রকের মাঝে ধামরা এলাকায় আছড়ে পড়েছিল ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’। চাঁদিপুর ও ধামরা কোস্টাল এলাকার বেশকিছু জায়গায় পাকা রাস্তার ভেসে গেছে জলের তোড়ে।অনেক এলাকায় ত্রান পৌঁছায়নি এখনও। সমুদ্রের নোনা জল ঢুকে ভেসে গেছে একাধিক পুকুর। মাছ চাষ ওই এলাকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা। সমুদ্রের নোনা জল ঢোকার ফলে, মাছ মরে ভাসছে একের পর এক পুকুরে। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে জলমগ্ন এলাকা গুলিতে। গ্রাম গুলি থেকে জমা জল নেমে স্বাভাবিক হবে কবে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে এলাকার মানুষজন।

: 

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *