Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে জেলা

ইয়াসের তান্ডবের পর থেকে গ্রামে হাড়ি চড়েনি, দূর-দূরান্ত থেকে খাবার পৌঁছাচ্ছেন আত্মীয়রা

বঙ্গবাণী নিউজ,দিঘাঃ ইয়াসের তান্ডবে লন্ডভন্ড সৈকত শহর দিঘা সহ  আশপাশের সমূদ্র উপকূলবর্তী এলাকা গুলি। জলোচ্ছ্বাসের ফলে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে একাধিক গ্রাম। শঙ্করপুর, জামড়া শ্যামপুর, চাঁদপুর, তাজপুর সহ বেশকিছু এলাকা এখনও জলের তলায়। নিজেদের শরীরে পরে থাকা পোশাক টুকু ছাড়া আর কিছুই নেই ঘরে। গ্রাম গুলোতে উনুন জ্বলেনি চারদিন। খাবারের হাহাকার। দূর দূরান্ত থেকে আতত্মীয়-স্বজনরা খাবার নিয়ে আসছেন দুর্গত পরিজনদের জন্য। সমুদ্রের জল ঢোকার ফলে পানীয়জল নেই গ্রামে। চাঁদপুরের বাসিন্দা হিমাংশু জানা, জলধা গ্রামের বিষ্ণু দাস’রা বলেন, ‘চারদিন কারও বাড়িতে হাড়ি চড়েনি। আত্মীয়-স্বজনরা খাবার পৌঁছে দিয়ে যাচ্ছেন।’

শঙ্করপুর বিচ থেকে ৫০০ মিটার দূরে জামড়া শ্যামপুর। গ্রামে শুধুই ধ্বংসলীলার চিহ্ন। সব মিলিয়ে ১২০টি পরিবারের বসবাস। অধিকাংশের বাড়িতে হাড়ি চড়েনি বুধবার থেকে। বেশির ভাগ বাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে গেছে। কিছু বাড়ি হেলে গেছে জলের তোড়ে। বাড়িতে সঞ্চিত চাল, ডাল, তেল গ্যাস। ওফেন, স্টোভ সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে গ্রামের পর গ্রামকে।

পাশেই চাঁদপুর গ্রাম। ওই গ্রামের মানুষের দুর্দশা আরও বেশি। বাঁধ পর্যন্ত উঠে আসার উপায় নেই। ভেঙেছে রাস্তাঘাট। জমে রয়েছে জল। গুণধর জানা, সুবল জানা, পরিমল ভুঁইয়া, হিমাংশু জানা’রা ভিটে মাটি হারিয়ে সর্বশান্ত। একান্নবর্তী জানা পরিবারে ২৫ জন সদস্য। দিঘা থেকে খাবার রান্না করে বাপের বাড়ির জন্য অটোতে করে পৌঁছাতে এসেছেন মিনতী দাস। এমন একাধিক আত্মীয় দুপুরে খাবার নিয়ে এসেছেন পরিজনদের দিতে। মিনতি দাস বলেন, ‘বুধবার বিকেলে দেখতে এসেছিলাম। কোনও ভাবেই গ্রামে ঢুকতে পারিনি। চারি দিকে জল শুধু জল। পরেরদিন কিছু শুকনো খাবারের প্যাকেট নিয়ে এসেছিলাম। শুক্রবার ভাত রান্না করে পৌঁছে দিয়েগেছি। শনিবারও এসেছি খাবার পৌঁছাতে। বাপের বাড়ির সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। পরার পোশাক পর্যন্ত নেই। কী ভাবে যে বেঁচে থাকবে জানিনা!’

একই অবস্থা তাজপুর সংলগ্ন জলধা গ্রামে। তখন প্রায় আড়াটে বাজে। প্রতিমা জানা নামে এক মহিলা গামছায় কিছু বেঁধে ভাঙাচোরা বাঁধের উপর দিয়ে দ্রুত গতিতে যাচ্ছেন। জিজ্ঞাসা করলাম কী আছে আপনার পুটলিতে? যেতে যতে উত্তর দিলেন, ‘বাপের বাড়ির জন্য ভাত নিয়ে যাচ্ছি। ঘুর্ণিঝড় আর জলোচ্ছ্বাসে বাপের বাড়ির সব শেষ হয়ে গেছে। দু-দিন খেতে পর্যন্ত পায়নি। তাই বাড়ি থেকে ভাত-তরকারি রান্না করে দিতে এসেছি। কোথা থেকে ভাত নিয়ে এসেছেন? প্রশ্ন শুনে উত্তর দিলেন, সেই বাংলার শেষ বর্ডার। চন্দনেশ্বরের কাছ থেকে। এখন উপায় নেই যতদিন না স্বাভাবিক হচ্ছে ততদিন এভাবেই পৌঁছে দিতে হবে।’

দুর্দশার অন্ত নেই এমন শতাধিক পরিবারের। কেউ বাঁধের উপর গতু ছাগল নিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছেন অস্থায়ী ত্রিপলের তাবুতে। কেউ এলাকার স্কুলে। দু-এক জায়গায় রান্না খাওয়া হচ্ছে দেখা গেলেও অধিকাংশের অভিযোগ, এখনো পর্যন্ত সরকারি ত্রাণ কিছুই আসেনি। চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা পরিমল ভুঁইয়া বলেন, ‘সমুদ্র উপকুলে বাস করি। অনেক ঝড়-ঝঞ্ঝা দেখেছি। তবে এমন ক্ষয়ক্ষতি কোনও দিন দেখিনি। কীভাবে এই এলাকার মানুষ আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে জানিনা!’

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *