Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে জেলা রাজ্য

ধেয়ে আসছে ঝড়, ঘর ছেড়ে আশ্রয় শিবিরে হাজার হাজার মানুষ

সায়ন্তী মন্ডল

জলেশ্বর, ওড়িষ্যা : বুধবার সকালেই ওড়িশার বালেশ্বর-ভদ্রক এলাকায় আছড়ে পড়বে ঘূর্ণি ঝড় ‘ইয়াস’। মঙ্গলবার থেকেই দমকা হাওয়া, মাঝে মধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। একে লকডাউন, তার ওপর ঝড়ের আতঙ্কে রাস্তাঘাট শুনশান। আতঙ্কে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন শিবিরে হাজির হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। মঙ্গলবার সন্ধ্যে পর্যন্ত বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। বাংলার সীমান্ত এলাকা দাঁতন, মোহনপুর থেকে বালেশ্বরের দূরত্ব খুব বেশি নয়। বড় জোর ৫০ কিলোমিটার। যদি সত্যিই ওড়িশার বালেশ্বর বা ভদ্রক এলাকায় এই ঘূর্ণি ঝড় ল্যান্ডফল করে, তাহলে সব চেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা সীমান্ত এলাকা দাঁতন-১, দাঁতন-২, মোহনপুর, কেশিয়াড়ি সহ আশপাশে ব্লক এবং ঝাড়গ্রাম জেলায়।

ঝড়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, জেলায় ১০৩৩টি রেসকিউ সেন্ট্রার চালু করা হয়েছে। আশ্রয় শিবিরে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষকে সোমবার থেকে সরিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়ে। জেলার বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছেছে এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ এর টিম। প্রশাসনের তরফে মাইকিং করা হচ্ছে কাঁচা বাড়ি ও নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য।

ঘুর্ণি ঝড় ইয়াস পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে যাবে ঝাড়খন্ডের দিকে। এর ফলে  প্রভাব পড়বে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও। ঘুর্ণি ঝড়ের পাশাপাশি বন্যার আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সুবর্ণরেখা, কংসাবতী ও শিলাবতী, রূপনারায়ণ নদীতে জল বেড়ে বন্যা হতে পারে। সতর্ক রয়েছে পুলিশ,প্রশাসন ও সেচ দপ্তর। মঙ্গলবার দাঁতন ও কেশিয়াড়ি এলাকার বিভিন্ন আশ্রয় শিবির ঘুরে দেখেন পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার। সঙ্গে ছিলেন ডিআইজি (মেদিনীপুর রেঞ্জ) কুনাল আগরওয়াল। জেলা শাসক রশ্মি কমল ও অতিরিক্ত জেলাশাসকরাও বিভিন্ন আশ্রয় শিবির ঘুরে দেখেন। প্রত্যেকটি আশ্রয় শিবিরের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে।

যেহেতু খড়্গপুর মহকুমা এলাকায় ঝড়ের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বেশি। খড়্গপুরের মহকুমা শাসক আজমল হোসেন জানান, শুধু খড়্গপুর মহকুমার বিভিন্ন ব্লকে মোট ৯১৪টি আশ্রয় শিবির খোলা হয়েছে। যেখানে ৯৫ হাজারের বেশি মানুষকে তুলে আনা হয়েছে। এনডিআরএফ এর ৩টি টিম রয়েছে দাঁতন ও মোহনপুর এলাকাতে। সব রকমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে ।’

জেলার বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে সোমবার রাত থেকেই রান্না করা খাবার দেওয়া শুরু হয়েছে। দাঁতনের ঘোলাই, বীরভদ্রপুর, চক ইসমাইলপুর সহ বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা রান্নাবান্না করছেন। যদিও ঘাটালে বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে আসা লোকজন সোমবার রাত থেকে খাবার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করে, কিছু লোক বাড়ি ফিরে গেছেন। ঘাটালের এসডিপিএও অগ্নিশ্বর চৌধুরী সবাইকে আশ্রয় শিবিরে ফিরে আসার আবেদন করেছেন।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *