www.bongobanii.com, www.bongobanii.com, www.bongobanii.com, www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে জেলা রাজ্য

করোনাকে হারিয়ে বাড়ি ফিরল স্প্যেশাল চাইল্ড সৌম্যদীপ

বঙ্গবাণী ব্যুরো নিউজ :অটিজম আক্রান্ত সৌম্যদীপ তার মনের ভাব মূলত খাতায় আঁকিবুকি কেটে প্রকাশ করে। কথা খুব একটা বেশি বলতে চায় না বছর ১২-র এই কিশোর। একদিন হঠাৎ সে সকালে রং পেন্সিল দিয়ে খাতায় আঁকে করোনা ভাইরাস এর ছবি। অবাক হয়ে যান তার বাবা-মা। তারপর আরটিপিসিআর টেস্ট করাতে দেখা যায় তার রিপোর্ট পজিটিভ । সৌম্যদীপের মা জানিয়েছেন, ‘হয়তো ওর ভেতরে ভেতরে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। টিভিতে তো করোনার খবর শুনেছে। ছবিও দেখেছে। সেখান থেকেই হয়তো এঁকেছে।’


উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা সৌম্যদীপকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ১০৪ জ্বর নিয়ে সোদপুরের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সৌম্যদীপ এর মা চৈতালি দেবী জানান, ‘ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শিশুর সামাজিক আচরণ যেভাবে বদলানো উচিত আমার বাচ্চার তা হয়নি। অটিজম রয়েছে ওর ।এই অসুখের জন্য সৌম্যদীপের মস্তিষ্ক সঠিকভাবে বিকাশ হয়নি । সব সময় আগলে রাখি ওকে ।ওর শরীরেই কিনা করোনার থাবা। ‘


সৌম্যদীপ এর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল খুব দ্রুত। সোদপুরের নার্সিংহোমে অক্সিজেনের স্যাচুরেশন নেমে গিয়েছিল ৮৫। সেখান থেকে স্থানান্তরিত করা হয় কলকাতা বিমানবন্দরের অদূরে তেঘরিয়ার অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানেও অবনতি হলে সেখান থেকে বাইপাসের ধারে আরো একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ততদিনে হয়ে গিয়েছে সিটিস্ক্যান । রিপোর্টে দেখা গিয়েছে বুক ঘষা কাঁচে পরিণত হয়েছে করোনার প্রকোপে । প্রয়োজন ২৪ ঘন্টা অক্সিজেন সাপোর্টের । সাতদিন নন-ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনে ছিল সে। অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমতে থাকায় সৌম্যদীপকে ইন্ট্রাভেনাশ ইনজেকশনও দেওয়া হয়।
জন্মগত জটিল নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত সৌম্যদীপ এর করোনা সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্কিত ছিলেন চিকিৎসকরা। কারণ একজন রোগীর চিকিৎসার মূল পথ হচ্ছে রোগীর থেকে তার সমস্ত অসুবিধার কথা জানা। কিন্তু সৌম্যদীপ অসুবিধার কথা জানানো তো দূর, প্রথম দিন হাসপাতালে পিপিই-কিট পরা ডাক্তারদের দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। যার ফলে তার খিঁচুনি হতে থাকে।

মনোবিদ সৃষ্টি সাহার সাহায্যে এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সৃষ্টি সাহা জানান, ‘ এহেন কিশোরদের চিকিৎসা করা বড় সহজ নয় । সব সময় তাদের মন ভালো রাখতে হয় । বাচ্চাটির মন ভালো করতে হাসপাতালে ঘরে টিভির বন্দোবস্ত করেন চিকিৎসকরা। ডেকে নিয়ে আসা হয় সৌম্যদীপ এর বাবাকেও।’
সৌম্য দীপের কথা না বলতে পারার অসুবিধা ডাক্তারদের বুঝতে দেননি সৌম্যদীপের মা। টানা ১৫ দিন তিনি হাসপাতালে মাথার কাছে দাঁড়িয়ে থেকে সৌম্যদীপের হয়ে কথা বলেছেন।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ রাজেশকুমার সিং যিনি সৌম্যদীপ এর চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন তিনি বলেন , ‘বাচ্চাটির কোনো সমস্যাই নিজে বলতে পারে না । এটাই ছিল মূল সমস্যা। সেটা যে কাটিয়ে চিকিৎসার সাফল্য এসেছে সেটাই বড় কথা।’
অন্যদিকে ছেলেকে সুস্থ করতে চিকিৎসকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সহযোগিতা করেন সৌম্যদীপের অভিভাবকরাও।

মা চৈতালি দেবীর কথায়, ‘ ডক্টর রাজেশ কুমার সিং এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাবাকে ছাড়া ওষুধ খেতে চাইত না। ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিত ।ডাক্তারবাবু আমার স্বামীকে ছেলের পাশের ঘরে থাকার বন্দোবস্ত করে দেন। উনি আমাকে প্রস্তাব দেন ,ওর একা একা লাগছে। আইসিওতে আপনিও থাকুন। আমার ছেলে এপিলেপসি আছে তার জন্য কি কি ওষুধ খায় তার তালিকা আমরা দিই ডাক্তারের কাছে। আপাতত সম্পূর্ণ সুস্থ সৌম্যদীপ।’

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *