Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে জেলা দেশ রাজ্য

পোষ্যদের নিয়ে আশ্রয় শিবিরে

সায়ন্তী মন্ডল,বালেশ্বর, ওড়িষ্যা : ঝড়ের নাম শুনলেই আঁতকে ওঠেন দাঁতনের বাঁশকোনিয়ার সুমি হাঁসদা, জ্যোতিয়া হেমব্রম, ফুলমনি মুর্মুরা। ঝড়ের পূর্বাভাস হলেই ঘর ছাড়তে হয় এঁদের। টর্ণেডোর আতঙ্ক এখনও কাটেনি দাঁতন, সোনাকোনিয়া, আঙ্গুয়া ঘোলাই এলাকার মানুষদের। প্রশাসনের লোকজনও মাটির বাড়িতে থাওতে দিয়ে চান না এঁদের। সে আইলা হোক বা আমফান। ঘরপোড়া গরুর মতো সিঁদুরে মেঘ দেখলেই আঁতকে উঠেন সুমি, ফুলমনি, জ্যোতিয়া’রা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে তৈরি ঘূর্ণি ঝড় ‘ইয়াস’ বুধবার আছরে পড়তে পারে ওড়িশার বালেশ্বর বা পার্শ্ববর্তী এলাকায়। যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন, এলাকায়। তাই সোমবার রাত থেকে পোষ্য গরু, ছাগল, হাস-মুরগি নিয়ে জ্যোতিয়া, ফুলমনি, সুমি’রা পৌঁছে গেছেন আশ্রয় শিবিরে।

মঙ্গলবার দুপুরে, দাঁতনের ঘোলাই উদয়-ভারতী হাই স্কুলে গিয়ে দেখা গেল, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা রান্না সেরে ফেলেছেন। সবাই যখন দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন বৃষ্টির মধ্যেই আশ্রয় শিবির থেকে বাড়ির দিকে দৌড়াচ্ছেন মাঝ বয়সী এক মহিলা। মিনিট কুড়ির মধ্যে এক বোঝা খড় নিয়ে ফিরে এলেন স্কুলে। খাবার ছেড়ে দৌড়ে কোথায় যাচ্ছেন? প্রশ্ন শুনে মহিলা বলেন, ‘আমি একটু পরেও খেলে চলবে। কিন্তু এখনই জোর বৃষ্টি ও ঝড় শুরু হয়ে গেলে আর ওদের খাবার (গরুর জন্য খড়) আনতে পারবোনা। তাই দৌড়ে বাড়ি গিয়ে ছিলাম কয়েক আটি খড় আনার জন্য। শুধুতো আমরা আসিনি। ঘর থেকে গরু ছাগল গুলোকেও নিয়ে এসেছি। মাটির ভগ্নপ্রায় বাড়ি। গরু-ছাগল গুলিকে কোথায় রেখে আসবো? আমরা এখানে যা হোক দুটো খেতে পাবো। কিন্তু এই অবলা প্রাণী গুলো যে না খেয়ে মরবে!’

প্রতিটি আশ্রয় শিবিরেই একই দৃশ্য। ছাগল কোলে নিয়ে হাজির সুবল মুর্মু। সঙ্গে ব্যাগ-বোকচা নিয়ে পরিবারের লোকজন। কেউ গরু, কেউ ছাগল, কেউ মুরগি নিয়ে আসছেন শিবিরে। প্রত্যেক জায়গাতেই প্রশাসনের উদ্যোগে রান্না খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কোথাও রান্না হচ্ছে ডাল, আলু মাখা আর ভাত। কোথাও হচ্ছে খিচুড়ি। মাটির বাড়ি ছেড়ে দু-তিন দিনের জন্য বাড়ির বড়দের সঙ্গে স্কুলের পাকা বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে জবা, বাবলু, লস্কর চুনারামরা। বাড়ি ছেড়ে আসার কারণ বুঝে ওঠার বয়স এখনও হয়নি এদের। খাওয়া দাওয়া করে পুলিশের দেওয়া মাস্ক পরে আপন মনে খেলা ধুলা করছে খুদেরা।

বীরভদ্রপুর স্কুলের আশ্রয় শিবিরে পুটলি পটলা নিয়ে বাড়ি থেকে হাজির হচ্ছেন আশপাশের গ্রামের লোকজন। সেখানেও স্ত্রী, বাচ্চা, ব্যাগ ইত্যাদি স্কুলে পৌঁছেই আবার দৌড়াচ্ছেন গৌরাঙ্গ, আনসার’রা। বাড়ির শেষ সম্বল টুকু এনে যদি রক্ষা করা যায় সেই আশায়। বেলা যত গড়িয়েছে ততোই ভিড় বেড়েছে আশ্রয় শিবির গুলিতে। কখন, কোথায় আছড়ে পড়বে ঝড়! আতঙ্ক নিয়ে প্রহর গুনছেন সকলেই।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *