Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে জেলা রাজ্য

লকডাউনে ফুচকা হোম ডেলিভারিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে গ্রাজুয়েট রাজেশ

বঙ্গবাণী ব্যুরো নিউজ :লকডাউনে বন্ধ রয়েছে রোজগার তাই বলে পেটের তো আর লকডাউন হয় না। পেটের দায়ে বিভিন্ন মানুষকে বিভিন্ন রকম কাজ করতে হয়েছে , যা তারা কখনও করবে বলে ভাবতে পারেনি তেমন কাজও। ব্যারাকপুরের সমীর দেবনাথ ফুচকা বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন আর্থিক কষ্ট এবং অনটনকে চিরসঙ্গী করে। কিন্তু ছেলেদের ভবিষ্যৎ যেন তার মতো কষ্টের না হয় , তাই ছেলেদের অনেক কষ্ট করে করেছিলেন উচ্চশিক্ষিত। কিন্তু সেই উচ্চশিক্ষিত ছেলেকেই লকডাউনে পেটের দায়ে করতে হচ্ছে ফুচকা ব্যবসা।

সমীর বাবু পুত্র রাজেশ মাধ্যমিকে ৬৬ শতাংশ , উচ্চ মাধ্যমিকে ৭০ শতাংশ এবং গ্রাজুয়েশনে কলা বিভাগে ৫২ শতাংশ নম্বর পেয়ে নিজেকে বেসরকারি সংস্থার এক কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু হঠাৎ এই লকডাউনে চলে গেল সেই কাজ। দেশের বাকি অন্যান্য শিক্ষিত বেকারদের মতই অবস্থা হলো তার। কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্র সে নয়। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সেই বাবার ব্যবসা কেই করলো তার হাতিয়ার। পরিবারের অভাব মেটাতে সে শুরু করলো ফুচকার হোম ডেলিভারি। সকলের দুয়ারে দুয়ারে টক-জল ফুচকা , চিকেন ফুচকা , চাটনি ফুচকা, দই ফুচকা পৌঁছে দেওয়াই এখন তার পেশা। কাস্টমারের ফোনে অর্ডার এলেই সে বেরিয়ে পড়ে তার ফুচকার সম্ভার নিয়ে। তার এই ফুচকার হোম ডেলিভারি ফলতা ও ব্যারাকপুর অঞ্চলজুড়ে ক্রমশ প্রসারিত হচ্ছে।

শুধু ফুচকার ব্যবসা নয় সারা সকাল জুড়ে রাজেশ টিউশনি পড়ায়। আর সন্ধ্যে থেকে চলে তার এই ফুচকার হোম ডেলিভারি।অতিমারী পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্তের অবস্থা অতীব শোচনীয়। লোকলজ্জার ভয়ে বহুজনই পেটে খিদে থাকলেও করতে পারেননি ছোট কাজ। কারণ তথাকথিত ভাবে শিক্ষিত হলেও তাদের কাছে ছোট কাজ এবং বড় কাজের সংজ্ঞাটা বদলায়নি আজও। কিন্তু লড়াকু রাজেশের কথায় , “কোনো কাজই ছোট নয়। লোকমুখের কথাকে আমি গুরুত্ব দিই না ।হেরে যেতে নয় আমি দৌড়াতে এসেছি।”

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *