Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে জেলা রাজ্য

ঈদের দিন শিব ভক্তদের সরবত খাইয়ে নজির গড়লেন আফসার’রা

বঙ্গবাণী নিউজ,পশ্চিম মেদিনীপুরঃ শুক্রবার একই সঙ্গে ছিল ঈদ, অক্ষয় তৃতীয়া ও বৈশাখী গাজনের নীল পুজো। এই বিশেষ দিনে শিব মন্দিরে জল ঢালতে আসা ভক্তদের সরবত খাইয়ে সম্প্রীতির নজির গড়লেন আফসার, আকবর, টোটন’রা। এই অনন্য নজির দেখা গেল পশ্চিম মেদিনীপুরের গুড়গুড়িপাল থানার বেলিয়া গ্রামে। এমন উদ্যোগে আপ্লুত শিব মন্দিরে জল ঢালতে আসা ভক্তরাও। এই পবিত্র দিনে শিব ভক্তদের সরবর খাওয়াতে পেরে ভীষণ খুশি মুসলিম কমিটির সদস্যরাও।   

 

রমজান মাস শেষ। শুক্রবার ছিল ঈদ উৎসব। একই সঙ্গে এদিন ছিল অক্ষয় তৃতীয়া। বৈশাখী গাজনের নীল পুজো। গ্রামে পুরানো মাটির শিব মন্দির ভেঙে নতুন পাকা মন্দির তৈরি হওয়ার পর এই শুভ দিনটিকে মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য বেছে নেন পশ্চিম মেদিনীপুরের গুড়গুড়িপাল থানার বেলিয়া গ্রামের বাসিন্দারা। এদিন প্রায় দেড় শতাধিক ভক্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কংসাবতী নদী থেকে জল নিয়ে শোভাযাত্রা সহকারে বেলিয়া শিব মন্দিরে আসেন জল ঢালতে।

বেলিয়া গ্রামে একই সঙ্গে হিন্দু-মুসলিম মিলিয়ে সাড়ে তিনশো পরিবারের বসবাস। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে একই সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। একে অপরের বিপদে ছুটে যান। গ্রামে যেমন শিব মন্দির রয়েছে, তেমনি কিছুটা দূরে রয়েছে ঈদগাহ। যে যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেন, কোনও রকম গোলমাল ছাড়াই।

ঈদের দিন সকালে নামাজ পড়ার পর মুসলিম কমিটির সিদ্ধান্তে মোতাবেক শিব মন্দিরের জল ঢালতে আসা ভক্তদের সরবত খাওয়ানো হয়। গ্রামের বাসিন্দা মুসলিম কমিটির সদস্য শেখ আফসার বলেন, ‘হিন্দুদের যেকোনও উৎসবে আমরা যেমন সহযোগিতা করি, হিন্দুরাও আমাদের যেকোনও অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেন। এদিন যখন আমরা জানতে পারলাম, বহু ভক্ত নদী থেকে জল নিয়ে গ্রামের শিব মন্দিরে আসছেন, তখন আমরা এই পবিত্র দিনে তাঁদেরকে একটু সরবত খাওয়ানোর ব্যবস্থা করি।’ গ্রামের আরেক বাসিন্দা শেখ আকবর বলেন, ‘আমাদের ছেলেরা প্রায় দেড়’শ জন ভক্তদের হাতে সরবতের গ্লাস তুলে দিয়েছে। হয়তো অন্য আরও কিছু ব্যবস্থা করা যেত, কিন্তু মন্দিরে জল ঢালার আগে কিছু খাবে কি  খাবে না! এছাড়াও হাঁটতে হাঁটতে জল ছাড়া অন্য কিছু খাওয়াও যাবেনা সেই ভেবে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা ভীষণ খুশি। এই ঈদের দিন এই ভাবে কাজ করতে পেরে।’  

মুসলিম কমিটির উদ্যোগে খুশি গ্রামের হিন্দুরাও। গ্রামের বাসিন্দা শিবনাথ মাহাত, কল্পনা মাহাত’রা বলেন, ‘সত্যি ওদের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। গ্রামে দুর্গাপুজা, রথযাত্রা, গাজন, সরস্বতী পুজো সব কিছুতেই ওরা আমাদের পাশে থাকে, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। এই সম্প্রীতি সারা দেশে থাকা উচিত।’

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *