Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে

পরিচারিকার কাজ , পঞ্চায়েত প্রধানের দায়িত্ব এবং সংসার সব একা হাতে সামলান মেমারির পঞ্চায়েত প্রধান ঝর্ণাদেবী

পরিচারিকার কাজ , পঞ্চায়েত প্রধানের দায়িত্ব এবং সংসার সব একা হাতে সামলান মেমারির পঞ্চায়েত প্রধান ঝর্ণাদেবী

বঙ্গবাণী ব্যুরো নিউজ: কথায় আছে মায়েরা চাইলে সব পারে । সেই কথারই বাস্তবায়িত রূপ মেমারির বিজুর-১ পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান ঝর্ণা রায়। একই সাথে তিনি পরিচারিকার কাজ এবং পঞ্চায়েত অফিস দুই সামলাচ্ছেন সমানভাবে। তাই বলে তিনি যে ঘর সামলাননা তাও নয়। দুই বাড়ি পরিচারিকার কাজ করে যান পঞ্চায়েত অফিসে , সেখানে কাজ সামলে বাড়ি ফিরে করেন শয্যাশায়ী স্বামীর পরিচর্যা । তা করতে করতে আবার সন্ধ্যা আসলে তাকে যেতে হয় পরিচারিকার কাজে।

২০১৩ সালে প্রথমবার পঞ্চায়েত সদস্য হন ঝর্ণা রায়। পাঁচ বছর সদস্যপদে থাকার পর ২০১৮ সালে তিনি হন পঞ্চায়েত প্রধান। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর বিয়ে হয়ে যায় ঝর্ণাদেবীর।‌ কম বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তিনি মাধ্যমিকের গন্ডি পেরোননি। তাই বিভিন্ন সময়ে তাকে পঞ্চায়েতের অনেকের কাছে হেনস্থা হতে হয়েছিল। আর সেই জেদ থেকেই বয়স ৪০ অতিক্রম করলেও তিনি গত বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে। আর এখন নিচ্ছেন উচ্চ মাধ্যমিকের প্রস্তুতি।

কম বয়সে বিয়ে হয়ে শ্বশুরবাড়ি আসেন ঝর্ণাদেবী। বিয়ের কিছুদিন পরেই স্বামীর কিডনির সমস্যা ধরা পড়ে এবং তিনি কর্মহীন হয়ে পড়েন। তখন দুই মেয়ে এবং স্বামীর সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়ে তার একার কাঁধে। শিক্ষাগত যোগ্যতা কম তাই সংসারের দায়িত্ব পালনে ঝর্ণা দেবীকে রোজগার করতে শুরু করতে হয় অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ। পরিবারের বেশকিছু সদস্য রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় তাকে ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয় ২০১৩ সালে । তিনি রাজি হয়ে যান এবং ২০১৮ সালে তিনিই হন পঞ্চায়েত প্রধান । আর তারপরই জেগে ওঠে তার পড়াশোনা করার সুপ্ত ইচ্ছা। সাতগাছিয়া রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয় থেকে ২০২০ সালে তিনি মাধ্যমিক পাস করেছেন।

সংসার সামলে , পরিচিতদের কাছ থেকে ধার দেনা করে দুই মেয়েকে যেমন পড়াশোনা শিখিয়েছেন তেমনই বিয়েও দিয়েছেন। মেয়েদের বিয়ে দিতে গিয়ে ঋণের বোঝা বেড়েছে তার। আর সেই ঋণ তিনি নিজে উপার্জন করে মেটাতে চান। সরকারি চাকরি করার ইচ্ছা থেকেই তিনি সব কাজের মাঝেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার জীবন যুদ্ধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে ঝর্ণাদেবী বলেন, “সকাল ও সন্ধ্যাবেলা লোকের বাড়ি বাসন মাজা এবং ঘরের কাজ করার পর পঞ্চায়েতে যাই। সেখানে কাজ সামলে বাড়ি ফিরেই স্বামীকে সময় দিতে হয় । স্বামীর ডায়ালিসিস চলছে। তাছাড়া ঘরের কাজ নিজেকে সামলাতে হয়। ওকে দেখাশোনার পর , রাতে কিছুটা সময় বইখাতা নিয়ে বসি। আসলে পড়াশোনার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় আর পড়াশোনা করে উঠতে পারিনি। তাই পঞ্চায়েত প্রধান হওয়ার পর, এই বয়সে মাধ্যমিক দিয়েছি। তবে পড়াশোনা ও পঞ্চায়েতের কাজ সামলাতে ভীষণভাবে সাহায্য করেন দলীয় নেতৃত্ব। তাই এটা সম্ভব হচ্ছে।”

ঝর্ণা দেবীর এই জীবনযাত্রা সমাজে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের জন্য এক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে। তার এই হেরে না গিয়ে এগিয়ে চলার লড়াই সত্যিই প্রশংসনীয়।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *