হুল উৎসব থেকে তির-ধনুক নিয়ে হামলা, তিরবিদ্ধ উপ-প্রধানের ভাই, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী, হলফনামা জমা দেবার ক্ষেত্রে জরিমানা দিতে হল পাঁচ হাজার টাকা, আজ ঘোষণা হতে পারে নারদ মামলার রায়, বুধবার থেকে পনেরো শতাংশ ভাড়া বাড়ছে ওলা উবেরের,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে

বন্দির শিল্পে মুগ্ধ মেদিনীপুর

সায়ন্তী মণ্ডল, মেদিনীপুরঃ খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বন্দি। মুক্ত কারাগারে থেকে কাঠের বিভিন্ন মডেল, সৌখিন ফার্নিচার তৈরি করে তাক লাগাচ্ছেন মেদিনীপুরে। নিখুঁত কাজ দেখে বরাতও পাচ্ছেন একের পর এক। শান্তিনিকেতনের ভূবনডাঙার বাসিন্দা সুজিত দলুই খুনের মামালায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি। সিউড়ি, বহরমপুর, দমদম সংশোধনাগারে ১৬ বছর কাটিয়ে, তাঁর বর্তমান ঠিকানা মেদিনীপুর মুক্ত সংশোধনাগার। তাঁর সুন্দর আচার ব্যবহার, কাজকর্মের জন্য কারা দপ্তর তাঁকে মেদিনীপুর মুক্ত সংশোধনাগারে থাকার ব্যবস্থা করেছেন। বিভিন্ন সংশোধনাগার থেকে যখন বন্দিরা পালাচ্ছেন, তখন বন্দি সুজিত দোলই বাইরে বেরিয়ে রমরমিয়ে ফার্নিচার ব্যবসা চালাচ্ছেন মেদিনীপুর শহরে। সুজিতের তৈরি কাঠের বিভিন্ন মডেল, সৌখিন ফার্নিচারে ঘর সাজছে শহরবাসী।

বন্দি সুজিতের কথায়, ‘দমদম সংশোধনাগারে তাঁর হাতে তৈরি কাঠের মডেল দেখে খুশি হন কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস আমার হাতে তৈরি দুটি মডেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায়কে উপহার দেওয়ার জন্য নিয়ে যান দমদম সংশোধনাগার থেকে।‘ বন্দি সুজিতও ভীষণ খুশি তাঁর তৈরি মডেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপহার দেওয়ার জন্য।   

কাকে, কেন খুন করেছিলেন? প্রশ্ন শুনে কাজ থামিয়েদেন সুজিত। কিছু বলার আগেই দু’চোখ ভরে আসে জলে। কিছুক্ষন চুপ থেকে সুজিত বলেন, ‘সবই ভাগ্য। বিচারে আমি খুনি। সত্যি বললেও কি কেউ বিশ্বাস করবেন আমার কথা? ১৯৯৬ সালের ১ অক্টোবর রাতে আমরা চার বন্ধু পিকনিক করি। সেখানে দেশি মদ খেয়েছিলাম ঠান্ডা পানীয় মিশিয়ে। ওইদিন রাতে অসুস্থ হয় রবু হাজরা নামে এক বন্ধু। পরদিন হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। মদের সাথে বিষ খাইয়ে আমি রবুকে মেরেছি! পুলিশের কাছে এই অভিযোগ করেন রবু’র দাদা শিবদাস হাজরা। সেদিন যখন আমি হাসপাতালে অসুস্থ বন্ধু রবুকে দেখতে গিয়েছিলাম, পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে। ৭২ দিনের মাথায় জামিনে ছাড়া পায়। ৬ বছর বিচার চলার পর ২০০২ সালে আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেয় আদালত।

২০০২ সালের ১৪ অক্টোবর যাবজ্জীবন সাজা ঘোষনা করে সিউড়ি আদালত। সাজা ঘোষনার পর সিউড়ি সংশোধনাগারে একদিন কাটানোর পর ১৫ অক্টোবর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বহরমপুর সংশোধনাগারে। কিছুদিন পর সুজিতকে বহরমপুর থেকে নিয়ে আসা হয় দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। সেখানে বেশ কয়েক বছর কাটে তাঁর বন্দি জীবন।

খুনের মামলায় জড়িয়ে পড়ার আগে শান্তিনিকেতনের গ্রামে তাঁর ফার্নিচার ব্যবসা ছিল। ৫-৬ জন কাজও করতেন তাঁর ফার্নিচার দোকানে। ফলে কাঠের কাজের প্রতি তাঁর নেশা ছিল। দমদম সংশোধনাগারে বন্দি অবস্থায় কাঠের কাজ করতেন তিনি। বাটালি, হাতুড়ি দিয়ে গাছের গুঁড়ি কেটে কেটে তৈরি করেছেন বেশ কয়েকটি মডেল। কাঠের কাজের পাশাপাশি গানের নেশা ছিল সুজিতের। ২০১১ সালে দমদম সেন্ট্রাল জেলে বন্দিদের নিয়ে তৈরি করেন “মুক্তবেড়ি” গানের দল। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে তাঁকে দমদম থেকে নিয়ে আসা হয় মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকা তাঁর ঠিকানা মেদিনীপুর মুক্ত সংশোধনাগার। মেদিনীপুর শহরের উদয়পল্লীতে একটি দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে শুরু করেছেন ফার্নিচার ব্যবসা। কয়েক মাসেই বাজারও ধরেছেন ভালই। অনেক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি মুক্তি পাচ্ছেন। সুজিতের আশা তিনিও ছাড়া পাবেন। বাড়ি ফিরে সকলের সঙ্গে বাকী জীবন কাটাতে পারবেন! কবে মুক্তি পাবেন! সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন বন্দি সুজিত।   

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *