Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে দেশ

ইয়াশের পর আসছে ঘূর্ণিঝড় গুলাব

বঙ্গবাণী ব্যুরো নিউজ :স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর ঘূর্ণিঝড় ইয়াশ দেখিয়েছে তার ক্ষমতা। লন্ডভন্ড করে দিয়েছে বাংলা এবং ওড়িশা উপকূলবর্তী অঞ্চলকে। ইয়াশের তাণ্ডব শেষ হতে না হতেই নামকরণ হয়ে গেল পরবর্তী ঘূর্ণিঝড় গুলাব -এর। যদিও এখনও জানা যায়নি কোথায় কবে তার জন্ম হবে এবং সে তার গতিপথ হিসাবে কোন দিককে বেছে নেবে।

মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন ও ইউনাইটেড নেশনস ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়ার সদস্য দেশগুলি ঝড়ের নামকরণ করে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের নামটি দিয়েছে ওমান। আরবি ভাষায় যার অর্থ হতাশা । সেরকমই ভারত, বাংলাদেশ , মায়ানমার , ওমান, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, ইরান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং ইয়ামেনের সঙ্গে তালিকায় থাকা পাকিস্তান নামকরণ করেছে পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের যার নাম গুলাব। উর্দু ,পারসি ও হিন্দিতে গুলাব কথাটির অর্থ গোলাপ। পাকিস্তানের পরে আছে কাতার। তাদের দেওয়া সাইক্লোন এর নাম শাহিন। এইভাবে পরপর সৌদি আরব, শ্রীলংকা , থাইল্যান্ড , সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং ইয়ামেনের দেওয়া ঝড়ের নামই ব্যবহার করা হবে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ক্ষেত্রে। এখনো পর্যন্ত এই ১৩ টি দেশ মিলে ১৩টি করে অর্থাৎ সব মিলিয়ে মোট ১৬৯ টি ঝড়ের নামকরণ দিয়েছে।

ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র ভারত বাংলাদেশ মায়ানমার থাইল্যান্ড উপকূল এলাকায়। বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগর থেকে উঠে আসা এই ঝড়টি মুখ ঘোড়ায় ভারতের দিকে । যার প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূল এলাকায় জলোচ্ছ্বাস শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টি গতিবিধি পাল্টে বাংলা এবং উড়িষ্যা উপকূলে আছড়ে পড়ে এবং চালায় তার ধ্বংসলীলা।

গুলাবের জন্ম এখনই না হলেও আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ভারত মহাসাগর , বঙ্গোপসাগর, বা আরব সাগর থেকে উঠে উঠে আসা এই ঘূর্ণিঝড়টি হয়তো তার গতিপথ হিসেবে বেছে নেবে ভারত-বাংলাদেশ থাইল্যান্ড শ্রীলঙ্কা ইত্যাদি কোনো একটি উপকূলকে। আসলে নিয়ম অনুযায়ী একটি ঘূর্ণিঝড় শেষ হলেই পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে ফেলতে হয় । তাই ইয়াশ স্থলভাগে আছড়ে পড়তে না পড়তেই পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম গুলাব স্থির করা হয়। গুলাব কি সুপার সাইক্লোন হবে? আবহাওয়াবিদদের মতামত অনুযায়ী সেটি এখনই বলা সম্ভব নয় । আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিচার করে বলা সম্ভব হবে। কারণ প্রথমে মনে করা হয়েছিল ইয়াশ ভারত- বাংলাদেশের উপকূলে আছড়ে পড়বে কিন্তু তা পরবর্তীকালে গতিপথ পাল্টে শুধুমাত্র ভারত উপকূলে আছড়ে পড়েছে।

যখন ইয়াসের ধ্বংসলীলা শেষ হবে এবং সবকিছু আবার ধীরে ধীরে ঠিক হতে শুরু করবে ঠিক তখনই হয়তো জন্ম হবে গুলাবের ‌। কারণ ঝড়ের ইতিহাস তাই বলে যায়।
১৯৭০ সালে ভারত ও পূর্ব পাকিস্তানে ছোবল মারে ঘূর্ণিঝড় ভোলা । তাতে মৃত্যু হয় প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের। ১৯৭৫ সালে টাইফুন নিনা চীনের উপকূলে আছড়ে পড়ে । প্রায় ২ লক্ষ ২৯ হাজার মানুষ মারা যায়। ১৯৭৭ সালে অন্ধপ্রদেশের সাইক্লোনে প্রাণ হারিয়েছিল প্রায় ১ লক্ষ মানুষ। ১৯৯১ এ বাংলাদেশেও সাইক্লোনে প্রায় ১লক্ষেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। ২০০৪ এর সুনামিতে প্রাণ হারান ভারত থাইল্যান্ড শ্রীলঙ্কা এবং ইন্দোনেশিয়া মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ ২৭ হাজার মানুষ। ২০০৭ এর বাংলাদেশের সাইক্লোন সিডার প্রায় ১৫ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় । ২০০৮ সালে মায়ানমারে ঘূর্ণিঝড় নার্গিসে প্রাণ গিয়েছিল প্রায় ১ লক্ষ ৩৮ হাজার মানুষের। ২০০৯ সালে আইলা ও করে নিয়েছিল বহু মানুষের প্রাণ এবং ধ্বংস করে দিয়ে গিয়েছিল বাংলা এবং উড়িষ্যা উপকূলকে।
এরপরও ফনী, হুদহুদ , আম্ফান এর মতো ভয়ঙ্কর ঝড় এসেছে এবং বারবার তার ধ্বংসলীলা চালিয়ে গিয়েছে উপকূলবর্তী অঞ্চলের উপর। আর এভাবেই প্রকৃতি প্রমাণ করেছে বিজ্ঞানের ক্রমন্নোতি প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *