Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে জেলা

ভূমিপুত্রের লড়াই ভাতার বিধানসভায়

শৌর্যা মুখোপাধ্যায়, ভাতার : ভাতার বিধানসভায় এবারে লড়াই ত্রিমুখী। বাম-বিজেপি আর তৃণমূলের। তিনটি দলই প্রার্থী করেছেন এলাকার ভূমিপুত্রদেরই। সিপিএমের নজরুল হক। তৃণমূলের মানগোবিন্দ অধিকারি আর বিজেপির মহেন্দ্রনাথ কোনার। লড়াইটা শুরু হয়েছে এখান থেকেই। ভাতার বিধানসভার নির্বাচনে এলাকার মানুষ কাকে নবান্নে পাঠায় এখন সেটাই দেখার। ভাতার ব্লকের ১৪টি পঞ্চায়েত আর বর্ধমান ১ ব্লকের ২ টি পঞ্চায়েত এই মোট ১৬টি পঞ্চায়েত নিয়ে ভাতার বিধানসভা। বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েত এলাকা ঘুরে একটা বিষয় পরিস্কার এবারে ত্রিমুখী লড়াই হলেও মুল লড়াই সিপিএমের সঙ্গে তৃণমূলেরই।

প্রচারে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে মানগোবিন্দ অধিকারি

১৯৭৭ সাল থেকে নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করে আসছেন ভাতারের মানগোবিন্দ অধিকারি ওরফে মানুদা। এরুয়ার পঞ্চায়েত থেকেই নির্বাচনে লড়াই শুরু তাঁর। সিদ্ধার্থশংকর রায়ের ডাক নামের সঙ্গে এই মানুদার মিল ছাড়া আর তেমন কোন মিল আছে বলে শোনা গেল না। এখনও অবধি একবারও হার মানেননি একেবারে সাদামাটা জীবনে অভ্যস্ত মানু অধিকারি। এখনও থাকেন করগেট দেওয়া মাটির বাড়িতেই। এখনও পান্তা-ভাত বা গুড় মুড়িই খান তৃপ্তি করেই। আমারুন ২ গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে দু’বার ভাতার পঞ্চায়েত সমিতির আসনে জিতেছেন। কর্মাধক্ষ্য হয়ে কাজ করেছেন সাধারণ মানুষের জন্য। দলের লোকের সঙ্গে বিরোধীদের কোন পার্থক্য রাখেননি। এলাকায় সমাজসেবী হিসেবে সুনাম ভালোই। ২০১১ সালে ৩০ জানুয়ারি ভাতার মাধব পাবলিক হাইস্কুলের অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনে তাঁকে গুলি মারার অভিযোগ ওঠে সিপিএমের বিরুদ্ধে। যদিও এখনও সিপিএমের নেতারা বলেন, গুলি চালিয়েছিল শাসকদলেরই অন্য গোষ্ঠীর লোকেরা।  এলাকায় মহিলাদের নিয়ে ফুটবল টিম তৈরী করে নজির গড়েছেন। এমন মহিলা ফুটবলার যাঁরা আর্থিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন। তাদেরই সামনের সারিতে নিয়ে এসেছেন তিনি। এরুয়ার কাছে উদয়াচল ক্লাব তৈরী করেছিলেন এলাকার সমাজসেবা করার লক্ষ্যে। আজও একইভাবে অটল সেই লক্ষ্যেই। কোন পদের লোভে নয়। শুধু মাত্র একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হয়েই থেকে গিয়েছে। এলাকার বহু সামাজিক কাজে এগিয়ে এসেছেন এই ক্লাবের সদস্যরা। আমারুনের প্রবীন বাসিন্দা শেখ আনসার আলি বলেন, ‘মানুদা আমাদের কাছে রাজনৈতিক নেতা নয়। যে কোন সমস্যায় যখন গিয়েছি, কোনদিন খালি হাতে ফিরে আসিনি। আমার বিশ্বাস ভাতারের মানুষ এবারে তাঁকেও খালি হাতে ফেরাবে না।’ এ প্রশ্নের উত্তরের জন্য ২ তারিখ অবধি অপেক্ষা করতেই হবে। তবে এলাকায় মহিলারাও মানগোবিন্দ অধিকারিকে ভালোবাসেন তাঁদের কাছের মানুষ বলেই। কুড়মুন এলাকার সুদেষ্ণা সাহা বলেন, ‘আমার মেয়ের ভর্তির জন্য একটা বিধায়কের সার্টিফিকেট দরকার ছিল। বহুবার আমাদের বিধায়ক সুভাষ মন্ডলের কাছে গিয়েও তাঁর দেখা না পেয়ে ফিরে এসেছি। মানু দা কে আকবার বলার পরেই উনি তিন দিনের মধ্যে আমাকে সেই সার্টিফিকেট করিয়ে লোক দিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন রাতে। আমরা কিন্তু বিরোধী দল করি। সেটা উনি খুব ভালো করে জানেন। তারপরেও উনি আমাকে এভাবে সাহায্য করেছেন। উনি খুব বড় মনের মানুষ।’ মানগোবিন্দ অধিকারি কিন্তু দলের বিরুদ্ধেও জেহাদ ঘোষনা করেছেন। দলের নির্দেশকে উপেক্ষা করেই এলাকায় নিজের সংগঠন কে তৈরী করেছে শক্ত ভিতের উপরে। একদা দলে তাঁর ঘোর বিরোধীরাও আজ তাঁরই সঙ্গে লড়াইয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চালাচ্ছেন। মানগোবিন্দ অধিকারি বলেন, ‘১৯৭৭ সাল থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে হার মানিনি। এবারের ক্ষেত্রটা বড়। তবুও আমি আশাবাদি জেতার বিষয়ে। একটা বিষয়, হারি বা জিতি মানুষের সেবা করার লক্ষ্যে সেই নকশাল আন্দোলন করা থেকে রাজনীতি শুরু করেছি। সেটা করে যাবো। বিধানসভা গেলেও আমি ভূমিপুত্র থাকবো। পঞ্চায়েত সমিতিতে থাকলেও আমি সেই মানুই থাকবো গ্রামের মানুষের কাছে। মানুষের কাছ থেকে সরে যাবো না আমার মৃত্যুদিন অবধি এটা আমার অঙ্গীকার।’

প্রচারের বিভিন্ন মুহূর্তে মানগোবিন্দ অধিকারী কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে

১৯৭২ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতে রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী হয়েছিলেন ভোলানাথ সেন। পরবর্তী নির্বাচনে ১৯৭৭ সালে দল ক্ষমতায় না এলেও ভোলানাথ সেন কে বিধানসভা পাঠিয়েছিলেন ভাতারের মানুষ। কিন্তু তারপর থেকে এই বিধানসভা সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি। ২০১১ সালে তৃণমূলের বনমালি হাজরা জিতে দীর্ঘদিনের সিপিএমের জয়ের ধারা কে প্রতিহত করেন। তিনি পেয়েছিলেন ৮৩ হাজার ৮৮৩ টি ভোট। সিপিএমের শ্রীজিত কোনার পেয়েছিলেন ৮৩ হাজার ৫৮৫টি ভোট। আর বিজেপির ধাত্রীপদ কোনার পেয়েছিলেন ৫হাজার ৫৮৬ টি ভোট। সেই একই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলো ২০১৬ সালে এসেও। তৃণমূলের সুভাষ মন্ডল ৯২ হাজার ৫৪৪ টি ভোট পেয়ে নবান্নে গেলেন।  কিছুটা ভোট কমল সিপিএমের। ৮৬ হাজার ২৬৪টি ভোট পেলেন সিপিএমের বামাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ভোট বাড়ল বিজেপি। বিজেপির প্রার্থী  অঞ্জন মুখোপাধ্যায় ১২ হাজার ৯৫০টি ভোট পেয়েছিলেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ২৮ হাজার ভোটে এই কেন্দ্র থেকে হারে বিজেপি।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *