হুল উৎসব থেকে তির-ধনুক নিয়ে হামলা, তিরবিদ্ধ উপ-প্রধানের ভাই, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী, হলফনামা জমা দেবার ক্ষেত্রে জরিমানা দিতে হল পাঁচ হাজার টাকা, আজ ঘোষণা হতে পারে নারদ মামলার রায়, বুধবার থেকে পনেরো শতাংশ ভাড়া বাড়ছে ওলা উবেরের,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে জেলা

সঙ্কটে সবংয়ের মাদুর শিল্পীরা

সায়ান্তী মণ্ডল, পশ্চিম মেদিনীপুরঃ শিলান্যাসেই আটকে শিল্পকেন্দ্র তৈরি। সঙ্কটে সবংয়ের মাদুর শিল্প ও এই শিল্পের সাথে যুক্ত প্রায় লক্ষাধিক শিল্পীরা। কেন্দ্রীয় সরকার জিএসটি চালু করার পর গভীর সঙ্কটের মুখে পড়েছে সবংয়ের মাদুর শিল্প। মাদুর শিল্পীদের কথায়, ‘একেই মাদুর বিপনণের ব্যবস্থা নেই, তারপর মাদুরের ৫ শতাংশ জিএসটি চাপিয়ে দেওয়া, সস্তায় প্ল্যাস্টিক মাদুরের আমদানি, নানাবিধ কারনে সবংয়ের বহু প্রাচীন এই হস্তশিল্প আজ সঙ্কটের মুখে।    

এক সময় সবংয়ের সারতা গ্রামের শিল্পীদের তৈরি করা মতরঞ্জি উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে দেশের বিভিন্ন নেতা মন্ত্রী থেকে ভিভিআইপিদের। সবংয়ের শিল্পীদের তৈরি করা একটি মাদুর অন্য রাজ্যে বিক্রি হয়েছে দেড় লক্ষ টাকাতেও। সবংয়ের সারতা গ্রামের পুষ্প রাণী জানা ১৯৮০ সালে মাদুর শিল্পী হিসেবে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও পেয়েছেন। বর্তমানে সবং ব্লকে প্রায় লক্ষাধিক মাদুর শিল্পী এই কাজের সাথে জড়িয়ে রয়েছেন। চাষবাস, ব্যবসা-বানিজ্যের, সাথে সাথে মাদুর তৈরির কাজ করেন। সবংয়ের প্রায় প্রতিটি পরিবারই মাদুর শিল্পের সাথে যুক্ত। নিজেদের তৈরি করা মাদুর বিক্রি করেন স্থানীয় বাজারেই। অনেকে জেলা ও জেলার বাইরে ফেরি করে বেড়ান। ভিন রাজ্য বা ভিন দেশে সবংয়ের তৈরি মাদুর বিক্রি হয় বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে। ফলে মুনাফা কমে যায় শিল্পীদের।

সবংয়ের বনাই গ্রামের মাদুর শিল্পী গুরুপদ কর বলেন, সরকারী ভাবে এই মাদুর রাজ্যে ও রাজ্যের বাইরে বিক্রির ব্যবস্থা করতে না পারলে, এই শিল্পকে ধরে রাখা যাবেনা। সবংয়ের সারতা অঞ্চলের মাদুর শিল্পী বলাই দাস বলেন,  ‘প্রথাগত মাদুরের মধ্যে আটকে থাকলে বাজার তৈরি করা খুবই মুশকিল। তাই সমস্ত শিল্পীরা নিত্য নতুন ডিজাইনের মাদুরের সামগ্রী তৈরির জন্য নিজেদের প্রশিক্ষিত করছেন। প্রথাগত মাদুরের পাশাপাশি বর্তমানে কেডি লুমের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে মাদুরের টেবিল ম্যাট, ব্যাগ, ফাইল সহ নানা ফেন্সি সামগ্রী। তিনি বলেন, বিশেষ করে মহিলাদের ব্যবহার্য্য সামগ্রী বেশি বেশি করে তৈরি হচ্ছে মাদুর কাঠি দিয়ে। যার চাহিদা রয়েছে ভিন রাজ্যে।’

মাদুর শিল্পীদের জন্য সবংয়ের রুইনানে তৈরি হওয়ার কথা ছিল মাদুর শিল্প কেন্দ্রের। মাদুর বৈচিত্রকরণের জন্য শিল্পকেন্দ্র তৈরি দূরের কথা তা আটকে রয়েছে শিলান্যাসের মধ্যেই। ২০০৯ সালে সবংইয়ের রুইনানে মাদুর শিল্প কেন্দ্রের শিলান্যাস করেন তৎকালীন সাংসদ গুরুদাস দাশগুপ্ত। এর জন্য ৭ কোটি টাকা বরাদ্দও হয়েছিল। কিছু জমি কেনার পর আর এক ইঞ্চিও কাজ এগোয়নি। শিল্পীদের বঞ্চনার নানা অভিযোগ শোনা যায় নানা জনের কাছ থেকে। রাজ্য সভার সাংসদ সবংয়ের ভূমিপূত্র মানস ভুঁইয়া বলেন, ‘সত্যি মাদুর শিল্পীদের নানা সমস্যা। তিনি বলেন, রুইনানে মাদুর শিল্পকেন্দ্র তৈরি জন্য টাকা পড়ে রয়েছে। আগে অনেকবার জেলাশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে দরবার করেছি। শিল্পকেন্দ্রটি তৈরি করার জন্য। সবংয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ পরিবার এই শিল্পের সাথে যুক্ত। সারা দেশে যা মাদুর উৎপাদন হয় তার ৫২ শতাংশ তৈরি হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে। বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হলে সরকার ক্ষতিপূরণ দেয়। মাদুরকাঠিকে কেন্দ্রীয় সরকার এগ্রিকালচারাল ঘাস (গ্রাস) বলে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে মাদুর কাঠি চাষে ক্ষতি হলে কৃষকরা ক্ষতি পূরণ পান না।’

শিল্পী সনাতন কর বলেন, ‘বেকার কেন বাড়িতে বসে থাকবো, তাই বাড়ির লোকজন অবস্র সময়ে এই কাজ করে। সরকারি ব্যবস্থাপনা ছাড়া কোনও ভাবেই ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। কিন্তু সরকারতো উদাসিন।’

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *