www.bongobanii.com, www.bongobanii.com, www.bongobanii.com, www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে রাজ্য

বঙ্কিমচন্দ্রকে পড়া কোনদিনই শেষ হয় না

সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: ৯৯৭ বঙ্গাব্দের নিদাঘশেষে একদিন একজন অশ্বারোহী যুবাপুরুষ বিষ্ণুপুর হইতে মান্দারনের পথে একাকী গমন করিতেছিলেন । সেই যুবাপুরুষ শেষ অবধি কোথায় গেলেন আর তার পরিণতি কি হল তা বাংলা সাহিত্যের ধীমান পাঠক মাত্রেই জানেন । কিন্তু দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের ওই অশ্বারোহী যুবাপুরুষ যেন বাংলা সাহিত্যের মুক্তির ধ্বজা উড়িয়ে এলেন । শিক্ষিত বাঙালি এই প্রথম জানতে পারল বাংলা সাহিত্য , বাংলা ভাষা এত সমৃদ্ধ । পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্য বাংলা ভাষাতেও সৃষ্ট হতে পারে । বস্তুত বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে বঙ্কিমচন্দ্রের আবির্ভাব যেন এক ধাক্কায় এ ভাষার স্থান অনেকটা উঁচুতে নির্ধারণ করে দিল ।
“বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্য সৃষ্টির ভিতরেই আমরা প্রথম লাভ করিয়াছিলাম রসের আবেদনে চিত্তের প্রসার , ব্যক্তি জীবনের পাষান-ঘেরা প্রাচীরের মধ্যে আসিয়াছিল অসীম মানব প্রীতি, তাহার ভিতরেই আমরা প্রথম পাইয়াছিলাম মুক্তির নবতম আস্বাদ (বঙ্কিমচন্দ্র ও সাহিত্যের আদর্শবাদ নিবন্ধ , শশীভূষণ দাশগুপ্ত )। শশীভূষণ বাবুর এই বীক্ষণের মধ্যেই বঙ্কিমচন্দ্রের সৃষ্টিকর্মের আসল চাবিকাঠি টি লুকিয়ে আছে । সাহিত্যকে কখনোই সমাজজীবন বহির্ভূত বিনোদন হিসেবে দেখতে পছন্দ করতেন না বঙ্কিমচন্দ্র ; জীবনের মুখোমুখি পাঠককে দাঁড় করিয়েছেন বারবার । তা সে উপন্যাসেই হোক বা প্রবন্ধে । বাল্যরচনাসমূহ ও কলেজ জীবনের সাহিত্য সৃষ্টির পর্ব শেষে বঙ্কিমচন্দ্র উপন্যাসের জগতে পা কিন্তু রেখেছিলেন ইংরাজী ভাষার মাধ্যমে । খুলনা থেকে হাকিম বঙ্কিমচন্দ্র বারুইপুরে বদলি হয়ে আসেন ১৮৬৪ সালের ৫ মার্চ । এই বছরই সাপ্তাহিক ইণ্ডিয়ান ফিল্ড পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস রাজমোহনস ওয়াইফ । পূর্ববঙ্গের এক জমিদারের মৃত্যুর পর তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের তরুণী স্ত্রীর পদস্খলন ও তার খানসামা বংশীবদনের প্রভুপত্নীর সম্পত্তি আত্মসাতের বিবরণ এই উপন্যাসে বিধৃত । কিন্তু এই উপন্যাস বঙ্কিমচন্দ্র কে খুশী করতে পারে নি , কালান্তরে তাঁর উপলব্ধি – যত দিন না সুশিক্ষিত জ্ঞানবন্ত বাঙ্গালীরা বাঙ্গালা ভাষায় আপন উক্তি সকল বিন্যস্ত করিবেন ততদিন বাঙ্গালীর উন্নতির কোন সম্ভাবনা নাই ” ( দ্রঃ বঙ্কিমচন্দ্রজীবনী , অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য ) । এই উপন্যাস তেমন আলোচিত হয় নি পরে । প্রথম বাংলা উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ সালের মার্চ মাসে । ১৮৬২ সালে এই এই উপন্যাস লিখতে শুরু করেন লেখক । তখন তাঁর বয়স মাত্র ২৪ বছর । ১৮৬৪ তে লেখা শেষ হয় ॥ যোগেশচন্দ্র বাগল মহাশয় বলেছেন – “দুর্গেশনন্দিনী ” বাংলা সাহিত্যে ভাষা ও ভাবের নবযুগ প্রবর্তন করিয়াছিল । কিন্তু প্রকাশের পূর্বে এখানির উৎকর্ষাকর্ষ সম্বন্ধে নিজে তেমন স্থির নিশ্চয় হতে পারেন নাই ।” ( দ্রঃ বঙ্কিম রচনাবলী প্রথম খণ্ডের ভূমিকা , সাহিত্য সংসদ )
কিন্তু বাংলার পাঠক দু্র্গেশনন্দিনী কে বিপুল সমাদরে বরণ করে নিয়েছিল । শিবনাথ শাস্ত্রী মহাশয় তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ * রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ * গ্রন্থে এ উপন্যাসের ভূয়সী প্রশংসা করলেন ( তদেব পৃঃ ‍৩১)। অবশ্যই কিছু নিন্দুক এই উপন্যাসের এই রাজকীয় ভাষা কে অন্তর থেকে সেকালে গ্রহণ করতে পারেনি । কিন্তু সে প্রশ্ন স্বতন্ত্র ।

আগেই বলেছি সমাজ জীবন বহির্ভূত সাহিত্য সৃষ্টি করেন নি বঙ্কিমচন্দ্র । অনেক পরে যখন রবীন্দ্রনাথ লিখবেন চোখের বালি উপন্যাস । দেখান হবে মানুষের মনের ” আঁতের কথা” তখন আমাদের নিশ্চয়ই ভাবতে হবে ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত বিষবৃক্ষ বা ১৮৭৮ সালে প্রকাশিত কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসে মানব মনের গূঢ় প্রবৃত্তিসমূহের তত্ত্ব তল্লাশ অনেক আগেই করেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র । কুন্দনন্দিনীকে বিনোদিনীর পূর্বসূরী বলাই যায় । ইতিহাসের প্রেক্ষিতে লেখা উপন্যাসগুলিতেও এক বিশেষ শিক্ষা , আদর্শের প্রচার তিনি করে গেছেন । যা নিছক দ্বিপ্রাহরিক পাঠের আরামের বিনোদনের অনেক উর্ধ্বে স্থাপিত ।

এটা সত্য যে আপাতদৃষ্টিতে বঙ্কিমচন্দ্রের সৃষ্টিতে প্রবেশ কিছুটা দুরূহ । সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের কথায় – ঊনবিংশ শতাব্দীর সর্বাপেক্ষা দুরূহতম বিষয় বঙ্কিম অধ্যয়ন । সে কারণে বঙ্কিমচন্দ্রের মনীষা বারে বারে পুঁথিপ্রাণ প্রথাপন্থী পণ্ডিতবৃন্দকে এবং মননশীল বুদ্ধিজীবীদের আকর্ষণ করে ( বাংলা উপন্যাসের কালান্তর ) । কিন্তু বঙ্কিমচন্দ্রের পাঠক জানেন ওপরের কঠিন অাবরণ বিদীর্ণ করে ওই সৃষ্টির ভেতরে গেলে মিলতে পারে সোনার খনির সন্ধান । কপালকুণ্ডলার নবকুমার যেভাবে পথ হারিয়ে লাভ করেছিলেন তাঁর মৃন্ময়ী কে ..

১৮৭২ সালের ১২ এপ্রিল শুক্রবার বঙ্কিমচন্দ্র সম্পাদিত বঙ্গদর্শন পত্রিকার প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় । এই পত্রিকা বাংলার সমাজ সংস্কৃতিতে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল । সেকালে শুরুতেই এর গ্রাহকসংখ্যা ছিল এক হাজার । যা খুব সহজসাধ্য বিষয় ছিল না । এই পত্রিকার উৎসাহী পাঠক ছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ।সম্পাদক বঙ্কিমচন্দ্রের উদ্যোগে এই পত্রিকা বাংলার জাতীয় চরিত্র গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয় ।

সেকালেে সমাজের দর্পণ হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্রের প্রবন্ধাবলীর কথা বিশেষভাবে বলা যেতে পারে ; তীক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যথোচিত সাহিত্যবোধ যুক্ত হলে প্রবন্ধ সাহিত্য যে হয়ে উঠতে পারে মেধাবীর চিন্তার খোরাক তা আমরা দেখলাম কমলাকান্তের দপ্তর বা মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিতে । সবথেকে বড় কথা এসব সৃষ্টির আবেদন সম্পূর্ণরূপে কালোত্তীর্ণ । আজকের পাঠক কেও তা মুগ্ধ করে রাখে ।
কৃষ্ণচরিত্র , ধর্মতত্ত্ব পাঠক কে এক গভীর উপলব্ধির মুখে দাঁড় করিয়ে দেয় । হিতবাদ এবং দার্শনিক কোঁতের মতবাদে বঙ্কিমচন্দ্রের গভীর আস্থা ছিল । তা তাঁর প্রবন্ধাবলীতে প্রতিভাত হয়েছে । সাম্য, বঙ্গদেশের কৃষক , বাঙ্গালা ভাষা , বাঙ্গালার ইতিহাস , বাঙ্গালীর বাহুবল , ভারতবর্ষের স্বাধীনতা ও পরাধীনতা , বহুবিবাহ , অনুকরণ , বাহুবল ও বাক্যবল , লোকশিক্ষা আজও যখন আমরা পড়ি তখন মনে হয় এক মহান মনীষা কতকাল আগে কি গভীর দূরদৃষ্টি দিয়ে এই সমাজকে পর্যবেক্ষণ করে গেছেন ।

আসলে বঙ্কিমকে পড়া কখনও শেষ হয় না , তাঁকে সারাজীবনই পড়তে হয় ।
সাহিত্য সম্রাটের জন্মদিনে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *