Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে জেলা রাজ্য

ফের চিত্তরঞ্জন সংরক্ষিত রেল শহরে খুন এক রেলকর্মী

বঙ্গবাণী নিউজ,আসানসোল: আবারো চিত্তরঞ্জন সংরক্ষিত রেল শহরে গুলিতে খুন হলেন এক রেলকর্মী ।শনিবার ভোরে চিত্তরঞ্জনের রেলকর্মী তথা খ্যাতনামা গৃহশিক্ষকের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধারকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হল। জানা গেছে মৃত ব্যক্তির নাম আনন্দ কুমার ভাট(৪৭)। তিনি থাকতেন চিত্তরঞ্জন রেল শহরের ফতেপুর এলাকার ৫৩ নম্বর রাস্তার ৬-বি রেল কোয়ার্টারে। এই রেল কারখানা ১৬ নম্বর শপের কর্মী ছিলেন তিনি। শনিবার ভোর বেলায় প্রাতঃভ্রমণ কারীরা কর্নেল সিং পার্ক এলাকায় তার মারুতি সুইফট গাড়ির স্টিয়ারিং এ বসা অবস্থায়  আনন্দ কুমারের গুলিবিদ্ধ দেহ দেখতে পান।  সম্ভবত তার পাশের আসনে বা দরজার কাচ খোলা অবস্থায় গল্প করতে করতেই পরিচিত অন্য কেউ তাঁকে গুলি চালিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ তার শরীরের বাঁ দিক থেকে  অন্তত ৭ টি গুলি ঢুকেছে। এই খবর পেয়ে তাঁর পরিচিত মানুষ এবং পুলিশ এসে  দেহ উদ্ধার করে  আসানসোল জেলা হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায় ।দেহ যখন উদ্ধার হয় তখনও দেখা যায় যে তার মাথায় টুপি মুখে মাস্ক পরা আছে। ময়না তদন্তের পর জানা গেছে তাকে বুকে এবং পেটে মোট সাতটি গুলি করা হয় এর মধ্যে দুটি গুলি বেরিয়ে যায় এবং পাঁচটি গুলি তাঁর শরীরে পাওয়া যায়। একটি গুলির জন্য শেষ পর্যন্ত এক্স-রে ও করতে হয়।
 মৃত আনন্দকুমারের স্ত্রী গীতাঞ্জলি ভাট শনিবার সকালে চিত্তরঞ্জন থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন গতকাল ১৪ মে সন্ধে সাড়ে ছটা নাগাদ তার স্বামী বাজার যাচ্ছেন ওষুধ এবং কুকুরের খাবার আনবে বলে। তিনি নিজের চারচাকা গাড়ি নিয়েই বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। এই গাড়িটি কেন ভারত সরকার লেখা আছে এই প্রশ্নের উত্তরে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয় গাড়িটি কিনে সম্প্রতি তিনি চিত্তরঞ্জনে ভাড়া দিয়েছেন। অনেক রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় রাত সাড়ে দশটা নাগাদ তার মোবাইলে  ফোন করলে তারা জানতে পারেন ফোনটি বন্ধ আছে। এরপর বাড়ির অন্য ফোন থেকে ওই ফোন নাম্বার লোকেশন ট্যাপ করেন তার ছেলে অভিষেক। তাতে লোকেশন দেখায় কর্নেল সিং পার্ক এলাকায় আনন্দ বাবু রাত ৮ টা ৩৬  মিনিট নাগাদ ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রতিবেশী মুকেশ কুমার শর্মাকে সঙ্গে নিয়ে তারা আনন্দবাবুর খোঁজে বেরিয়ে পড়েন। অভিষেক জানায়  আমরা কর্নেল সিং পার্কের পাশে পাশেই রাত সারে এগারোটা  পর্যন্ত খুঁজেছি। কিন্তু  বাবাকে বা গাড়িটা দেখিনি। সেখানে পুলিশ ও ছিল। এদিকে  শনিবার  ভোর  পৌনে চারটে নাগাদ  আনন্দবাবুর পরিচিতরা প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে খবর দেন গাড়ির মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার মৃতদেহ পাওয়া গেছে। গাড়ির পিছনের সিটে কুকুরের জন্য কেজি তিনেক খাবার এবং স্ত্রীর থাইরয়েডের  ওষুধপত্র তখনও রাখা ছিল। গাড়ির চালকের আসনে বসেছিলেন আনন্দবাবু।
এই ঘটনার পর চিত্তরঞ্জন শহরের বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতারা রেল শহরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন । এই শহরে  ছাত্র সংগঠনের নেতা মিঠুন মন্ডল  জানান এই রেল শহরে গত ১৭ জানুয়ারি হাসপাতাল কলোনিতে একটি দোকানের সামনে জামতাড়ার জেলা যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং মিহিজামের বাসিন্দা রাহুল রামকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল রাত্রি সাড়ে আটটা নাগাদ। তার আগে এই হাসপাতাল কলোনির বাসিন্দা প্রভাত কুমার কে গাড়ি ভাড়ার নাম করে তুলে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে বাঁকুড়ার এক খাদে ফেলে দেওয়া হয়। মাত্র কিছুদিন আগেই এখানকার বলরাম সিং নামে এক যুবককে চিত্তরঞ্জনের জেনারেল স্টোর বা জিএসডির কাছে  নৃশংসভাবে গুলি করে খুন করা হয় ।আবার এই শহরেরই দিলীপ কামাথ এবং রাকেশ  সিং নামে দুই যুবক পরপর কয়েক দিনের মধ্যে খুন হয়। দিলিপের দেহ পাওয়া যায় রামপুর এর কাছে একটি গর্তের মধ্যে।  রাকেশের দেহ মেলে চিত্তরঞ্জনের এসটিপির জঙ্গগলে। 
 এই শহরে ঢোকার জন্য বেশ কয়েকটি  গেট আছে। সেগুলো পাহারা দায়িত্বে আছে আরপিএফ। শুধু তাই নয় এখানে আর পি এস এফ এর আট নম্বর ব্যাটেলিয়ান এর সদরদপ্তর। এই শহরে বহিরাগত কোন গাড়ি ঢুকতে গেলে এখানে অনুমতি লাগে। অথচ একের পর এক প্রকাশ্যে আসছে খুনের ঘটনা। খুন ও চুরির ঘটনা কেন বারবার ঘটছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আই এন টি ইউ সির সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ সিং থেকে সিটু অনুমোদিত লেবার ইউনিয়ন এর সাধারণ সম্পাদক রাজিব গুপ্ত। 
আরপিএফ এর এক আধিকারিক বলেন আইন-শৃঙ্খলা এখানকার চিত্তরঞ্জন থানার পুলিশের বিষয় ।আনন্দবাবু’র খুনের ঘটনায় পুলিশ অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। যেখান থেকে গাড়ি ও আনন্দ বাবুকে পাওয়া গেছে সেটা আরপিএফ এর একসময় রাইফেল রিংস ছিল এবং রাস্তা থেকে সেটা যথেষ্ঠ ভেতরে। সেই কারণে শনিবার রাতে খোঁজাখুঁজির পরেও তাকে মেলেনি বলে পুলিশ সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে। কোনো কোনো মহল থেকে বলা হচ্ছে তিনি কমিটি ফান্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন ।যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়াও প্রায় একশো কুড়ি জন ছাত্রছাত্রীকে তিনি পড়াতেন। এই খুনের পিছনে তেমন আর্থিক কোন ঘটনা  বা অন্য কিছু আছে কিনা তাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *