হুল উৎসব থেকে তির-ধনুক নিয়ে হামলা, তিরবিদ্ধ উপ-প্রধানের ভাই, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী, হলফনামা জমা দেবার ক্ষেত্রে জরিমানা দিতে হল পাঁচ হাজার টাকা, আজ ঘোষণা হতে পারে নারদ মামলার রায়, বুধবার থেকে পনেরো শতাংশ ভাড়া বাড়ছে ওলা উবেরের,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে জেলা

ছেলেকে খুন করে আত্মঘাতী মা

বঙ্গবাণী নিউজ, পূর্ব বর্ধমান: পারিবারিক অশান্তির জেরে নিজের সাত বছরের ছেলেকে খুন করে আত্মঘাতী হলেন মা। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে খন্ডঘোষ থানার অমরপুর গ্রামে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে বেশ কিছুদিন ধরেই স্বামীও স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি হতো। বৃহস্পতিবার রাতেও অশান্তি হয়। তারই জেরে রাতে চিলেকোঠা ঘরে ছেলেকে নিয়ে ছেলেকে প্রথমে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে খুন করে মা। পরে মেঝেতে ছেলেকে শুইয়ে রেখে নিজে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা পলাতক। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে খন্ডঘোষ থানার পুলিশ।

মা সুষমা ও ছেলে মহাদেব মালিক — নিজস্ব চিত্র

এলাকার লোকেদের কাছ থেকে খবর পেয়ে শুক্রবার ভোর চারটে নাগাদ পুলিশ এসে দেখে সুষমা মালিক(২৫) গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে। নিচে পড়ে আছে মহাদেব মালিক(৭)। মৃতদেহ উদ্ধার করে  ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ময়না তদন্তেরর প্রাথমিক রিপোর্টে পুলিশকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গলায় দড়ি দিয়ে মৃত্যু হয়েছে দুজনের। সুষমার স্বামী বাপি মালিক ও শ্বশুর সহ পরিবারের সকলেই পলাতক।

এই বাড়িতেই থাকতো সুষমা পরিবারের সাথে। – নিজস্ব চিত্র

বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের এলাকার বাসিন্দা সুষমার সঙ্গে ৮ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। এখনও কোন অভিযোগ করেনি সুষমার পরিবারের লোকেরা। নিছকই আত্মহত্যার ঘটনা নাকি পিছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ তা জানতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা শুরু করে তদন্ত শুরু করেছে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ। পারিবারিক অশান্তি লেগেই ছিল দীর্ঘদিন ধরেই। এলাকার লোকেরা, পরিবারের লোকেরা বসে বেশ কয়েকবারই মিটমাট করে দিয়েছে বিষয়টি। এমনকি স্থানীয় পঞ্চায়েতেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।খন্ডঘোষ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অপার্থিব ইসলাম ওরফে ফাগুন বলেন, ‘পারিবারিক অশান্তির জেরেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।

এদের প্রতিবেশীরাই জানিয়েছেন প্রতিদিনই অশান্তি লেগে থাকতো। কিন্তু এভাবে ছেলেকে খুন করে মা নিজেও আত্মহত্যা করবে সেটা ভাবলেই কষ্ট হচ্ছে।’ বাপি মালিক তার স্ত্রীকে সন্দেহ করত। সেই সন্দেহের বশবর্তী হয়েই অশান্তি হতো মাঝে মধ্যেই। পরকীয়ার সন্দেহের বশে প্রায়ই বাপি মারধর করত সুষমাকে। সুষমার দাদা বামাপদ মালিক বলেন, ‘ওদের মাঝে মধ্যেই ঝগড়া হতো। আমি বেশ কয়েকবার এসে মিটমাট করে দিয়েছি। জামাই বোনটাকে সন্দেহ করত। কিভাবে কি হয়ে গেল বুঝতে পারছিনা। এলাকার লোকেরা বলছে গতকালও একই বিষয় নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি হয়েছে।’

মহকুমা পুলিশ আধিকারিক আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে যা জেনেছি, তাতে দুজনেই গলায় দড়ি দিয়েই আত্মহত্যা করেছে। সাত বছরের ছেলে নিজেতো আর গলায় দড়ি দেবে না। স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিচ্ছি মা ছেলেকে দড়িতে ঝুলিয়ে সে মরে যাবার পরে নিজেও আত্মহত্যা করেছে একইভাবে। পারিবারিক অশান্তিই মুল কারন। স্বামী সহ অনান্য সবাই পালিয়ে গিয়েছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি অস্বাভাবিক মামলা দায়ের করে।’

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *