হুল উৎসব থেকে তির-ধনুক নিয়ে হামলা, তিরবিদ্ধ উপ-প্রধানের ভাই, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী, হলফনামা জমা দেবার ক্ষেত্রে জরিমানা দিতে হল পাঁচ হাজার টাকা, আজ ঘোষণা হতে পারে নারদ মামলার রায়, বুধবার থেকে পনেরো শতাংশ ভাড়া বাড়ছে ওলা উবেরের,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে স্বাস্থ্যের খুঁটিনাটি

স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডে জটিল অস্ত্রপচার, অসহায় দম্পতি ফিরে পেলেন সন্তানকে

বঙ্গবাণী ব্যুরো নিউজ: স্বাস্থ্য সাথীর কার্ডে জটিল অস্ত্রপচার, মেদিনীপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, সবংয়ের এক বছর আঠারোর যুবকের শরীর থেকে আস্ত একটি পেন (কলম) জটিল অপারেশন করে বের করলেন চিকিৎসকরা। মানসিক ভাবে অসুস্থ যুবকের শরীরে প্রায় ৬ মাস ধরে কলমটি ছিল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। কীভাবে যুবকের শরীরের মধ্যে পেন গেল তা বলতে পারছেন না কেউ। অনুমান মলদ্বার দিয়ে কলমটি ঢুকেছে কোনও ভাবে। যুবকের সামান্য মানসিক সমস্যা থাকায় মনে করে বলতে পারেন নি, কীভাবে তাঁর শরীরে ঢুকল কলমটি। সরকারি, বেসরকারি বহু হাসপাতাল ঘুরে সর্বশান্ত হয়ে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডে এই জটিল অপারেশন হয়েছে মেদিনীপুরের হসপিটাল সলিউশন কেয়ার (গ্লোকাল) নামক একটি বেসরকারি হাসপাতালে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ‘বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ঘুরে আমাদের কাছে আসার পর, সফল ভাবে এই অপারেশোন করাটা ছিল আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ। গত ৪ জুন মেদিনীপুরের স্বনামধন্য চিকিৎসক আশিস কুমার মণ্ডল সফল ভাবে অপারেশন করে শরীর থেকে হলুদ রঙের একটি ইউজ এন্ড থ্রো কলম বের করেছেন। হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার তন্ময় মুখার্জী জানিয়েছেন, বর্তমানে রোগী সুস্থ আছেন।

যুবকের নাম সুদীপ মঠ। বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ব্লকের নারায়ণবাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের কাপাসদা গ্রামে। বাবা মুকুন্দ মঠ বিভিন্ন মেলায় বিভিন্ন খেলনার ব্যবসা করেন। একেবারেই হত দরিদ্র পরিবার। সুদীপের বাবা মুকুন্দ মঠ বলেন,’ গত মাঘ মাসের ১৫ তারিখ, ইংরেজির ২৯শে জানুয়ারি ছেলের প্রচন্ড পেট ব্যাথা হয়। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। আমি তখন ডেবরায় একটি গ্রামীণ মেলায় ছিলাম। বাড়ি ফিরে স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা করায়। পরে সবং হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকদের পরামর্শে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করি। পায়খানার দ্বার দিয়ে প্রচুর রক্ত বেরোতে থাকে। সেখানে ১৮ দিন ভর্তি থাকার পর বিভিন্ন পরীক্ষা নিরিক্ষা করেও কিছু বোঝা যায়নি। চিকিৎসকরা বাড়ি নিয়ে যেতে বলেন। বাড়ি থেকে ফের ভুবনেশ্বর এইমস হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করি। প্রায় একমাসের বেশি সেখানে চিকিৎসা হওয়ার পর, অপারেশন না হওয়ায় বাড়ি ফিরে নিয়ে আসি। তারপর আবার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে যাই। কোনও সুরাহা হয়নি। মুকুন্দ মঠ জানান, এখান ওখান ঘুরে প্রায় দু-লাখ টাকা দেনা হয়। অবশেষে এক আত্মীয়র কথায় স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড নিয়ে মেদিনীপুরের এই হাসপাতালে আসি। এখানে বিভিন্ন পরীক্ষা করার পর জানাতে পারি ছেলের শরীরে একটি কলম ঢুকে আছে। ডাক্তার আশিস মণ্ডল গত ৪ তারিখ অপারেশন করে কলমটি বের করেছেন। বর্তমানে ছেলে ভালো আছে।’

সুদীপের মঠের মা শেফালী মঠ কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘ আমার ছেলে একটু মানসিক ভাবে অসুস্থ। তাই কীভাবে হয়েছে বলতে পারেনি। আমাদের কাছে ভগবান বলে যদি কেউ থাকেন, তাহলে এই ডাক্তার বাবুই। তিনি বলেন, আমাদের আর এক পয়সাও ছিল না। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড ছিল বলে আমার ছেলে বেঁচে গেল। ধন্যবাদ জানাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায়কে।’

জানা গিয়েছে, শল্য চিকিৎসক আশিস কুমার মণ্ডলের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে ছিলেন ডাঃ দীপক দাস (অ্যানাস্থেশিস্ট) ও ডাঃ সুনন্দিতা বেরা সহ অন্যান্যরা। চিকিৎসক দাস ও বেরা জানান, ‘কলমটি এবডোমেনে কীভাবে গেল তা বলা মুশকিল। দীর্ঘদিন শরীরে থাকার ফলে সংক্রমণ শুরু হয়েছিল। অস্ত্রপচারটা একটু জটিলই ছিল।’ স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড এবং চিকিৎসকদের সাহায্যে ছেলেকে সুস্থ করতে পেরে ভীষণ খুশি সবংয়ের হতদরিদ্র দম্পতি।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *