www.bongobanii.com, www.bongobanii.com, www.bongobanii.com, www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

রাজ্য সাহিত্য ও বিনোদন

রঙিন প্রশ্নমালা

মানব বন্দ্যোপাধ্যায়

আমরা চিরকালের প্রশ্নাতুর জাতি।দিনের পর দিন আমরা মুষ্টিবদ্ধ হাত পিস্টনের মত তুলে আর নামিয়ে বলে গেছি ‘ জবাব চাই জবাব দাও!’ আমরা নব্যন্যায় শিখেছি নবদ্বীপে । ইংরেজের আইন নিয়ে শামলা পরে সওয়াল করেছি ইংরেজের কোর্টে।প্রেমে – বিদ্রোহে – শাসনে- সম্মোহনে – সংকটে – সংবাদে – আমাদের পিস্টনসুলভ হাত ওঠে আর নামে।ময়দান থেকে মিছিলে – পথসভা থেকে ফেসবুক – ব্লগ থেকে বাজারে।উত্তর ভারত থেকে দক্ষিণ ভারত যখন শঙ্কর এর মহাভাষ্যে মুগ্ধ ; কা তব কান্তা শ্লোক পড়ছে সেইসময় আমরা চর্যা গানে স্ট্রেট প্রশ্ন করেছি ‘ কিন্ত মন্তে কিনতো তন্তে কিন্তরে ঝান বাখানে’ – হাড় হাভাতের গ্লানি  আর বেদনার শীত গায়ে মেখে বলেছি – কীসের মন্ত্র ? কীসের তন্ত্র? কীসের

ধ্যান ট্যান এর কথা বলছো বাপু?  ‘সুখে দুখেতে নিচিত মরি অই ‘- সুখে দুখে নিশ্চিত মরবে! অত ফুটুনি দেখিওনা !

মনসার হিলহিলে ছোবলের সামনে চাঁদ সদাগর হয়ে দাঁড়িয়েছি। স্পন্ডিলোসিস হওয়া ঘাড়।সহজে নামেনা।সেই তার্কিক জাতিকে চৈতন্য নাচিয়ে ছেড়েছেন।মিছিলে গান গেয়েছি আমরা।চিরকাল মিছিল প্রিয় জাতি।পাঁচশো বছর আগে মিছিল করেছি খোল কত্তাল নিয়ে।উনিশ শতকে বেম্মরা করত ভোরবেলা।একুশ শতকে মহীনের ঘোড়াগুলি নিয়ে করেছেন গানের গৌতম।আমরা তর্ক করি কিন্তু মত পাল্টাই না। লোকাল ট্রেনের চিরকালীন গতিবিধির মত ডেলি প্যাসেঞ্জার দের তর্কও  অনড় এবং অনিঃশেষ। স্টেশন পাল্টায়। মত পাল্টায় না!

ফ্রিজের ওপরের তাক টা নিরামিষ, মাঝেরটা আমিষ তলার টা নিরামিষ।ডানদিকে ওপরে ডিম।বাঁদিকে বেলপাতা। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।কিন্তু যদি ওদিকের টা এদিকে আর এদিকের টা ওদিকে করেছো তো খুন খারাবি হয়ে যাবে!!

ভোট এলেই বড়ো এদিক ওদিক হয়।ভালো লাগেনা!

ঠাকুর বলেছেন তিনটি  স আছে কেন জানিস? সহ্য কর! সহ্য কর! সহ্য কর! যে সয় সে রয়। যে না সয় সে নাশ হয়। সহ্যই তো করি রে বাবা! চিরকাল জবাব চেয়েছি। কোনোকালেই কেউ উত্তর দেয় নি।মেনে নিয়েছি! পিচকিরি নিয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে মারদাঙ্গা টাইপের লোকজন  ঠান্ডা চাউনি নিয়ে তাকালে রঙ দিইনি। গরুকে রঙ দিয়েছি আর দুধ বিক্রেতাদের।প্রয়োজনী দোকানের উল্টোদিকের বাড়ির সামনে দিয়ে দোলের দিনে গেলেই উপর থেকে কাঁচা জল ঢালত। মেনে নিতাম। একবার কোনো একটা কারণে সামান্য গরম জল মিশিয়ে দিয়েছিল!রাস্তার সামনে গাড়ি আটকে সামান্য জ্যাম লাগলে লাইনের লেজ ধরে বাঁদিক করে দাঁড়ানোর পর অনেকেই ডানদিক কেটে সামনের দিকে যায় আর জ্যামটাকে জম্পেশ করে লাগায়। প্রথম প্রথম জিজ্ঞাসু বালকের  মত জানতে চেয়েছি ‘ দাদা আপনার একার কাজ আছে আমাদের নেই?’ যথারীতি কোনো উত্তর আসেনি শুধু গাড়ির পিকআপ এর পরিমাণ বেড়েছে। আজকাল আর কিছু বলি না। মেনে নিয়েছি।

অমিত রায় বলেছিল মেনে নেওয়া আর মনে নেওয়া ঠিক  এক নয়। মনে নিই কি ? না কি মেনেই নি? একসময় ভুলে যাই যে মেনে নিয়েছিলাম। মনে নিইনি। সেই ছোটবেলা থেকে ভোট এলেই কত কত স্লোগান শুনি। প্রতিটা দল জবাব চাইতে চাইতে যায়।ভোট মিটে গেলে সরকার হয়ে গেলে কোনোদিন  কোনো উত্তর দেবার মিছিল দেখেছি?

কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও। তার মানে হাতটা সিমেন্টের বা মাটির। না হলে গুঁড়িয়ে দেবো কী করে! কোনো মানুষের হাত তো নয়! তাহলে কার হাত? সিস্টেমের? সেই রক্তকরবী নাটকে সর্দারের মত?রাজা জানতেই পারে নি তার বানানো সিস্টেম তাকেই গিলে খেয়ে দিয়েছে! শেষে তাই সিস্টেমটাকেই ভাঙতে চায় নন্দিনীর হাতে হাত রেখে। রবীন্দ্রনাথ স্মার্টলি দেখান সকলে আন্দোলনে গেল। তারপর? সর্দারের অর্গানাইজড আর্মি সামনে ব্যাপারটা ধোপে টিকল কি? রেজাল্ট কী? উত্তর নেই স্যার! কিন্তু ইতিহাস? ইতিহাস তো ফলাফল দেখে!

এইটা হল মোদ্দা কথা। ইতিহাস ফলাফল দেখে। চ্যানেল দেখে। শেয়ারবাজার দেখে ।ভোট দেখে। জনতা ও ফলাফল দেখে।ফেয়ার এন্ড লাভলীর বিজ্ঞাপন আমাদের এত বছর ধরে বুঝিয়ে ছেড়েছে যে – মলাট ই ললাট। অন্য সব বাদ দাও। রেজাল্ট কী?চিরকাল তাই রেজাল্টের দিন পায়ের তলা ঘামত ,তালু শুকিয়ে যেত! বাড়িতে অংক মিলিয়ে দেখেছি বেশ কয়েকটা অংক আমি ঠিক জানতাম। ঠিক করেওছিলাম। শুধু শেষের দিকে যোগে একটু ভুল হয়েছে। রেজাল্ট তো তা বলবে না। বলবেনা যে , আমিও অংকটা জানি। আমিও সমাধানের রাস্তা টা ঠিকই দেখেছিলাম!শুধু জীবনের ভাষায় অংকের ভাষাকে যোগ করতে গিয়ে যোগটা মেলাতে পারিনি!

রেজাল্ট এত কথা বলবে না। বলবে পাস না ফেল? হিরো নাকি হেরো!

এই সব গোলমাল হয়ে যায় এই চিকেন পক্সের ঋতু এলে! দাঁত নখ থাকলেও আমরা বেসিকালি নখদন্তহীন প্রাণী। দাঁত বের করতে পারি কিন্তু কামড়াতে পারিনা। পোষ-মানা জীবনে নিয়মিত দাঁত মাজতে হয় নখ কাটতে হয়।বছরের পর বছর ভোট আসে আর রায়- মার্টিন এর প্রশ্ন

বিচিত্রার মতো হাজারো- বিচিত্র – বিবিধ প্রশ্নমালা আমাদের সামনে আসতে থাকে। কোনো ভোট কোনো প্রশ্নেরই উত্তর দেয় না! শুধু প্রশ্নমালার ধরণ টা পাল্টে পাল্টে যায়। দুয়ারে প্রার্থী এসে দাঁড়ান। যদিও মনোভাবে তিনি মালিক। প্রার্থী নন। মেনে নিই আমরা। চ্যানেলে চ্যানেলে কবির লড়াই শুনি। শুনতে-শুনতে চেতনায় কেমন যেন কড়া পড়ে যায়। সংবাদ শুনি। সংবেদন তৈরি হয় না।

এমনই একটা সময়ে দখিন দুয়ার খোলে। দেখনদারি তে সবথেকে ম্যাড়মেড়ে প্রাণী আমরা।বাঘের মত চামড়ার জেল্লা নেই ।ময়ূরের পেখম নেই। পালক নেই। ডানা নেই ।খুর শিং এমনকি একটা লেজ ও নেই! সেই  হোমো হাবিলিস , হোমো ইরেক্টাস থেকে হোমোসেপিয়েন্স হওয়ার সময় হীনমন্যতায় ভুগতাম কি  আমরা?

সূর্যের দিকে পাশ ফিরে সূর্যকে পাক খেতে খেতে তাই একবার অন্তত রঙ লাগাই! চেনা জন – অচেনা জন – ঘরের জন -পথিক জন- সবার দিকে রঙের আলিঙ্গন বাড়িয়ে দিই।

আঘাত নয়, কুৎসা নয়, কোনো চাহিদা নেই, আকাঙ্ক্ষা নেই – পথ চলার সময় অচেনা কোনো আড়াল থেকে ছুটে আসে রঙ আর হাসি। শুধু একটাই দাবি নিয়ে- আমার সঙ্গে হেসে  ওঠো তুমিও! তোমাকে রঙিন করে দিয়ে ভালো লাগছে আমার। তোমার ভালো লাগলো না?

 এক আশ্চর্য উৎসব! আর সমস্ত উৎসবে আমরা নিজেদের সাজাই, এই উৎসবে অন্যকে সাজিয়ে আনন্দ পাই!!

যেমনই জীবন হোক আমার তোমার, অন্যকে দেবো বলে এই সময়ে রঙ কিনে আনি আমরা। বিবর্ণ হোক বিস্বাদ হোক যে জীবন আমি মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছি তার ওপর রঙ ছুঁড়ে দিই।

রঙ যেন মোর মর্মে লাগে। আমার সকল কর্মে লাগে।

4 COMMENTS

  1. চমৎকার লিখেছ মানব’দা! পরতে পরতে অনুভব লেগে আছে।

  2. Powerful and heartfelt writing Sir 🙏. Straight from the soul. The feeling I get when I read them, I cant put a word on it. Your abillity to give me goosebumps which feels great to be reading them again and again.
    Thank you for sharing this one🙏🙏

  3. রঙটুকুই স্বার্থক, বাকিটা মেকি আর অনেকটা ফাঁপিয়ে তোলা ঘর, দালান, গণতন্ত্র, ভোট আরও কত কী…

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *