www.bongobanii.com, www.bongobanii.com, www.bongobanii.com, www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

মতামত লেখকের রাজ্য সাহিত্য ও বিনোদন

নজরুল ইসলাম শুধু ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার নাম নয়, সঙ্গে বঞ্চনা ও উপেক্ষারও প্রতিমূর্তি

সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

কাজী নজরুল ইসলাম নামটি শুধু ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার অপর নাম নয় । সঙ্গে সঙ্গে বঞ্চনা ও উপেক্ষারও আর একটি প্রতিমূর্তি বটে । এই মানুষটিকে অবলোকন করার আমার একটা খুব ব্যক্তিগত ধরণ আছে। অগ্নি এবং বীণা । দুটি ভিন্নধর্মী প্রতীক এক হয়েছিল যেন মানুষটির জীবনে । আমরা বাঙালিরা পছন্দ করি যে কোন প্রিয় মানুষকে বিশেষ কোন অভিধায় ভূষিত করতে । এতে আমাদের প্রাণ বড় আরাম পায় । সেই হিসেবে নজরুল আমাদের কাছে -বিদ্রোহী কবি । হ্যাঁ , বিদ্রোহী তো বটেই । পাশাপাশি আবেগ ভরপুর এক উদ্দাম প্রেমের কবি আবার ভক্তিরসের ভিয়ানেও জারিত তাঁর সোনার কলমখানি । নজরুলচর্চার সবথেকে বড় সমস্যা হল তাঁর এলোমেলো ও প্রবল অভিঘাতময় জীবন। শুধুমাত্র গানের কথাই ধরি ,নজরুলগীতির সংখ্যা বিপুল তো বটেই , এমনকি খোদ রবীন্দ্রনাথের থেকেও অনেক বেশী । তার অন্যতম কারণ হল গান লেখা ছিল কাজীর পেশা । বিশেষ কোন প্রস্তুতি ছাড়াই লিখে ফেলতেন অবিস্মরণীয় সব গান । কিন্তু গরিব ঘরের ছেলে । সৃষ্টির গৃহস্থালীতে গৃহিনীপনার অভাব প্রকট । অভাবে বহু সৃষ্টির স্বত্ত্ব বিক্রয় করে দিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে । বিপুল নজরুল সৃষ্টি প্রাতিষ্ঠানিক সংরক্ষণের সুযোগ পায় নি । প্রিয় ছাত্রী ফিরোজা বেগমকে এনিয়ে আক্ষেপ করতে শুনেছিলাম । কি বিপুল বিস্ময়কর কাজীর মনোজগৎ । কত ধরণের বিপরীতমুখী অনুভবের সংঘাত শেখানে ।

কাজীর তীব্র আবেগ প্রতিমুহূর্তে যেন ভাসিয়ে নিয়ে চলে তার পাঠককে । এক একটা রচনা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে পরাধীন ভারতের মানুষকে । একজনই মানুষ একদিকে লিখছেন :

কারার ওই লৌহকপাট
ভেঙে ফেল কররে লোপাট
রক্তজমাট শিকল পূজার পাষাণ বেদী

সেই মানুষটার আবার একটা ভিন্ন লোকের অনায়াস বিচরণ আছে । কিভাবে আসছে এই দুর্নিবার আবেগ । লিখছেন–
পরো পরো চৈতালী সাঁঝে কুসুমী শাড়ি
আজি তোমার রূপের সাথে চাঁদের আড়ি ..
ওই একই গানে..
বেলযূথীকার গোড়ে মালা পরো খোঁপাতে
দিও উত্তরীয় শিউলি বোঁটার রঙে ছোপাতে…

বা ধরা যাক–
আজি মেঘের ছায়া কেন চাঁদের চোখে মোর বুকে মুখ রাখি ঝড়ের পাখী সম কাঁদে ও কে….

বা যদি দেখি

কোদালে মেঘের মউজ উঠেছে গগনের নীল গাঙে হাবুডুবু খায় তারা-বুদ্বুদ জোছনা সোনায় রাঙে

তৃতীয়া চাঁদের “শাম্পানে” চড়ি চলিছে আকাশ প্রিয়া, আকাশ দরিয়া উতল হল গো পুতলায় বুকে নিয়া .. (চাঁদনী রাতে,সিন্ধু হিন্দোল) ।

নজরুলের প্রেমের বৈশিষ্ট্য হল তার বিপুল উদ্দামতা । দেহজ কামনা সেখানে প্রাণের স্বাভাবিক ছন্দ থেকে উৎসারিত । কোন দার্শনিক ছু্ঁতমার্গের আড়াল নেই । অনায়াসে লেখেন
উতারো নেকাব
হাঁকে মোর দু্রন্ত কামনা ।
বার বার দেখতে পাব শাস্ত্র কে শকুনের সঙ্গে তুলনা ।
ছক ভাঙ্গার উন্মাদনা..প্রেম ও প্রতিবাদ যেন পরস্পরের পরিপূরক হয়ে উঠেছে কাজীর কলমে । এ এক অনাস্বাদিত ভাবসম্মেলন !

শাস্ত্র শকুন জ্ঞান মজুর যেতে নারে সেই হুরী পরীর  শরাব সাকির গুলিস্তায়(আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে)

 বা ওই একই কবিতায় উল্লিখিত

বুড়ো নীতিবিদ নুড়ির প্রায়
পেল নাকো এক বিন্দু রস
চিরকাল জলে রহিয়া হায়
কাঁটা বিঁধে যার ক্ষত আঙুল
দোলে ফুলমালা তারি গলায়

বা ধরা যাক —

জাগো সাকি হামদরদী
জামবাটিতে দাও শরাব…ইত্যাদি বহু বহু উদাহরণ

পরতে পরতে প্রচলিত সমাজকে অস্বীকারের এই যে ভাবন‍া তার মূল্য দিতে হয়েছে বইকি কাজীকে । সর্বহারায় নজরুলের মহাবিপ্লবী চেতনার যে স্ফুলিঙ্গ ঝিকিয়ে উঠেছিল ,সমকালীন সমাজ তার জন্য প্রস্তুত ছিল না । জড়বুদ্ধি রক্ষণশীল গোঁড়ামি ও দ্রোহভীত সংস্কারঅন্ধতা ছিল প্রায় সর্বজনীন । (নজরুলজীবনী,অরুনকুমার বসু,পৃ ২৭৪)

বিশেষ করে এলিট শনিবারের চিঠি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল কাজীর ওপর । তার নেতৃত্বে ছিলেন খোদ সজনীকান্ত ,মোহিতলাল মজুমদার ও নীরদচন্দ্র চৌধুরী। রবীন্দ্রনাথ কে তীব্র অশালীন কটাক্ষ করেছিলেন দ্বিজেন্দ্রলাল তাঁর আনন্দ বিদায় প্রহসনে । একই ঘটনা ঘটল নজরুলের ভাগ্যেও । শনিবারের চিঠির আশ্বিন ১৩৩৪ সংখ্যায় প্রকাশিত হল নজরুল কে নিয়ে বিদ্রূপ নাটক । এদিকে বলাহক নন্দী ছদ্মনামের আড়ালে তো নীরদচন্দ্র বিদ্রোহী থেকে সর্বহারা কোনটাকেই রেহাই দিলেন না । সাম্যবাদী চিন্তাধারা একসময় প্রবলভাবে আকৃষ্ট করে কবিকে । কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল হয়ে ওঠে অন্তর ন্যাশনাল সঙ্গীত । কমিউনিস্ট নেতা মুজফ্‌ফর আহমেদের সঙ্গে নজরুলের ঘনিষ্ঠতা ছিল সর্বজনবিদিত ।   সুস্নিগ্ধ মাটি
সুধাসম জল
পাখীর কন্ঠে গান
এতে সকলের সম অধিকার
এই তাঁর ফরমান — এতো সাম্যবাদের গোড়ার কথাই বলা চলে

আরও একটি বিষয়ে ভাবলে খুব অবাক লাগে তা হল কি অসামান্য দক্ষতার সঙ্গে মুসলিম হয়েও তিনি আত্মস্থ করেছিলেন সনাতন হিন্দু ধর্মের মূল সূত্র ও দেবদেবীদের  রূপকল্পগুলি । লিখতে পেরেছিলেন..

কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন
যার রূপ দেখে দেয় বুক পেতে শিব
যার হাতে মরণ বাঁচন

বা ধরুন  নিবিড় আত্মমগ্নতায় লেখেন–

ব্রজগোপী খেলে হোরি
খেলে আনন্দ নবঘন শ্যাম সাথে….শ্যামল তনুতে হরিৎকুঞ্জে
অশোক ফুটেছে যেন পুঞ্জে পুঞ্জে
রং পিয়াসী মন ভ্রমর গুঞ্জে
ঢাল আরও ঢাল রং প্রেম যমুনাতে…

অরণকান্তি কে গো যোগী ভিখারি গানে বলছেন
পার্বতী নহি আমি
আমি শ্রীমতী
বিষাণ ফেলিয়া হও বাঁশরীধারী…

শ্যামা ও শ্যামের রূপবর্ণনার এ এক পরমরমণীয় ব্যাখ্যা । এমন মানুষ যে জাতের নামে বজ্জাতি করা জাত-জালিয়াতদের মূর্তিমান যম হয়ে উঠবেন তাতে আর আশ্চর্য কি ? মধুমাখা কলমে লেখা ইসলামি গানগুলিও শুনলে মন -প্রাণ জুড়িয়ে যায় শ্রোতার…

গোটা জীবন নানা জ্বালায় জ্বলেছেন কাজী । একদিকে যেমন মানুষের ভালোবাসায় অভিষিক্ত হয়েছেন অন্যদিকে তেমনই নানা রাজনীতির শিকারও হয়েছেন । একের পর এক প্রিয়বিচ্ছেদের মুখোমুখি হয়েছেন । অসহনীয় দারিদ্র্যের কবলে পড়েছেন । শেষ অবধি “ফুলের জলসায়” নীরব হয়ে গেছেন কবি। দেহপট রয়েছে ,মন চলে গেছে শূণ্যের পথে । জনম জনম চলে গেছে আশা পথ চাহি ।  অন্তিমে বর্ধমানের ছেলে শেষ শয্যা পেতেছেন ঢাকায় । বিপুল সৃষ্টির অনাদর আজও অব্যাহত । এর মধ্যে এগিয়ে আসছে কাজীর জন্মের ১২৫ বছর । ভালো থেকো প্রিয় কবি । তুমি আমার সকাল বেলার সুর । তোমার আমার নিত্য দেখা তো হারানো হিয়ার নিকুঞ্জ পথে…প্রণাম  !

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *