www.bongobanii.com, www.bongobanii.com, www.bongobanii.com, www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

রাজ্য

হাত জোড় করে কাঁদছেন এক অসহায় চিকিৎসক

ডাঃ অনির্বাণ বিশ্বাস

বঙ্গবাণী নিউজ, পূর্ব বর্ধমান: চিকিৎসক মানেই আমাদের কাছে তিনি ভগবান। এমনটা আমরা অনেকে বলে থাকি। কিন্তু তিনি তখনই ভগবান যখন নিজে বা নিজের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ি। তখনই মনে হয় চিকিৎসক ভগবান। রবীন্দ্রনাথও তাঁর ‘প্রাণ’ কবিতায় লিখেছিলেন, মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, / মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই। / এই সূর্যকরে এই পুষ্পিত কাননে / জীবন্ত হৃদয়-মাঝে যদি স্থান পাই!

আসলে আমরা সবাই সুন্দর এই ভুবনে বাঁচতে চাই বলেই অসুস্থ হলে শরণাপন্ন হই চিকিৎসকের। তিনি আমাদের কাছে তখন ভগবানের স্বরূপ। আর এই আমরাই নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ হবার পরে অনায়াসেই গায়ে হাত তুলতে এক মুহূর্তও দ্বিধা করিনা এই ভগবানরূপী চিকিৎসকদের ওপর। অকথ্যভাষায় গালাগালি দিয়ে তাঁদের চোদ্দ গুষ্ঠির উদ্ধার করে ছাড়ি। টাকার গদিতে ঘুমায় চিকিৎসকেরা। পিশাচের মতন আচরণ। অমানবিক ব্যবহার আরও কত রকমের কু-কথায় তাঁদের বিদ্ধ করি।

কেউ একবারও ভাবিনা তাঁরাও আমাদের মতন মানুষ। আমাদের থেকে তাঁদের মেধা অনেকটা ভালো বলেই তাঁরা চিকিৎসা বিজ্ঞানটা ভালো করে পড়েছেন। তাই তিনি চিকিৎসক আমি কেরানি বা অন্য কিছু। করোনার এই প্রকোপে এখনও আমরা চিকিৎসকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছি। সোমবারই দমদম এলাকায় দুই  চিকিৎসক বোনের উপরে অত্যাচার হয়েছে। তাঁদের মারধর করা হয়েছে। লিফট ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছেনা। যে আবাসনে থাকেন, সেই আবাসনের লোকেরাই এটা করেছেন। কারন তাঁরা করোনার চিকিৎসা করছেন। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অস্থি রোগ বিষেশজ্ঞ চিকিৎসক বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় কে ডিউটিতে যোগ দিতে আসার সময়েই গতবছর বর্ধমানের পুলিশ লাইনে মারধর করা হয়েছে, ভেঙে দেওয়া হয়েছে তাঁর গাড়ি। এই চিকিৎসকদের কাছেই আমরা এখন করোনা আক্রান্ত প্রিয়জন কে নিয়ে বাঁচানোর আর্তি জানাচ্ছি।

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন বক্ষ ও মেডিসিন রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক অনির্বাণ বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে শহরে নিজের চেম্বারে চিকিৎসা করে আসছেন। করোনার সময়ের শুরু থেকেই তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন বারেবারেই। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ তাঁকেও টলিয়ে দিয়েছে। একমাত্র কন্যা আর স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর সংসার। সব ভুলে এখনও দিনে ৮-৯ ঘন্টা পিপি কিট পড়ে, মুখে মাস্ক লাগিয়ে রোগীদের দেখছেন। মঙ্গলবারই তিনি তাঁর ফেসবুকে একটি সতর্ক বার্তা দিতে গিয়ে অঝোরে কেঁদে ফেলেছেন। কারন তিনি বুঝতে পেরেছেন এবারে করোনা ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। একজন চিকিৎসক হয়ে মানুষকে না বাঁচাতে পারার যে কতটা যন্ত্রনা সেটা আজ নিজের ফেসবুকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে গিয়ে শিশুর মতন অঝোরে কেঁদে ফেলেছেন।

কাঁদছেন কেন অনির্বাণ? একদম কাঁদবেন না। আপনারা হৃদয়হীন, অর্থলোভী, নিজের পরিবার পরিজন ছাড়া আর কাউকেই আপনারা ভালোবাসেন না। মল-মূত্র ত্যাগ ছাড়া সমাজে আপনারা আর কিছুই করেন না — বলবেন না কেউ? একজনও কেউ নেই একথা বলার জন্য !

আমরা সবাই স্বার্থপর। কেউ মানুষের ভিতরে ঢুকে দেখার চেষ্টা করিনা তারও একটা মন আছে, বিবেক আছে। তাঁরও যন্ত্রনা হয়। হাসি-কান্না পায়। তাঁরও সংসার আছে। স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে কোনদিন সপ্তাহের শেষে রেস্টুরেন্টে খেতে যেতে ইচ্ছে করে।

এদিন কাঁদতে কাঁদতেও হাত জোড় করে অনির্বাণ বিশ্বাস বলছেন, ‘অনেকেই আসছেন অনেক দেরী করে। বাড়িতে সাত দশদিন নিজেরেই ডাক্তারি করার পরে ডাক্তারবাবুর কাছে আসছেন। এটা করবেন না। শরীর খারাপ হওয়া মাত্রই চিকিৎসকের কাছে আসুন। আমরা একবার চেষ্টা অন্তত করতে পারি। খুব ভয়াবহ সময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি। মাস্ক পড়ুন। নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে চলতেই হবে। স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।’

নিশ্চই ভাবছেন অনেকে, বোধহয় এই ডাক্তারের চেম্বারে রোগী আসছেনা। তাই এসব করে ‘খদ্দের’ টানার চেষ্টা করছেন সেন্টিমেন্টে সুড়সুড়ি দিয়ে – তাই না? সেই সমস্ত মানুষদের উদ্দেশ্যেও অনির্বাণ বিশ্বাস বলেছেন, ‘হাসপাতালে হুট করে ১০০ থেকে এক হাজার বেড করে দেবার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। কিন্তু সেই পরিকাঠামো তৈরী করার সবটা সরকারের হাতে নেই। আপনারা সচেতন না হলে আরও বিপদ বাড়বে। চোখের সামনে একজন চিকিৎসক হয়ে মানুষের চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারছিনা। খুব কষ্ট হচ্ছে।’

এদিন চিকিৎসক অনির্বাণ বিশ্বাস কে এভাবে কাঁদতে দেখে তাঁরই এক ভাই (রক্তের সম্পর্কের নয়) কাঁদতে কাঁদতে ফোন করলে, তাঁকে তিনি ওয়্যাটস্যাপ করে জানান, ‘‘কাঁদবে না। মানুষকে বোঝাও। আমি মরে গেলে শ্মশানের কাজে বৌদিকে মেয়েকে পারলে সাহায্য কোর। আমি শান্তি পাব,ওপর থেকে।’’

এই অনির্বাণ বিশ্বাসের মতন চিকিৎসকেরা ভগবানও হতে পারলেন না, শয়তানও হতে পারলেন না। তাঁরা সবাই ‘মানুষ’ হয়েই থেকে গেল।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *