Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে রাজ্য

ইয়াশ আতঙ্কে কুমোরটুলি

বঙ্গবাণী ব্যুরো নিউজ :ইয়াশের আতঙ্কে আমফানের স্মৃতি ফিরে আসছে কুমোরটুলিতে। গতবছর আমফানে পটুয়াপাড়ার বহু মৃৎশিল্পীর ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল । সেই দাগ এখনো টাটকা। আর তারই মধ্যে আসতে চলেছে আর এক ঘূর্ণিঝড় যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মৃৎশিল্পীদের।

গতবছর আম্ফান পরবর্তী অবস্থা

উত্তর কলকাতায় অবস্থিত কুমোরটুলিতে রয়েছে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় আড়াইশোটি ঘর। অধিকাংশ টিনের এবং টালির চালের ঘরগুলিতে রয়েছে প্রতিমা তৈরি নানা জিনিসপত্র এবং প্রতিমা শিল্পীরাও সেখানেই থাকেন। আগের বছরের আমফানের স্মৃতি থেকে এ বার ইয়াশের দাপটে সব হারানোর ভয়ে এখন তারা রীতিমতো ভীত।
করোনার কারণে অনেক শিল্পী দেশের বাড়ি চলে গেছেন । যে কজন আছেন তাদের মধ্যে কমলকৃষ্ণ পাল নামে একজন শিল্পী বলেন, ” এখন বড় কোন পূজো পার্বণ নেই। শীতলা ,রক্ষাকালীর কয়েকটা বরাত পাচ্ছি ‌ । তাও ছোট মাপের। রথের জন্য অল্পস্বল্প জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রার মূর্তি তৈরির কাজ চলছে। কিন্তু করোনার প্রভাবে সেই কাজেই লাটে ওঠার জোগাড়। আর তারই মধ্যে নতুন করে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় আমরা উদ্বিগ্ন।”

কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী সংস্কৃতির সমিতির সভাপতির রঘুনাথ রুদ্র জানান, ‘ প্রতিমা ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র তৈরি কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে তিন হাজারের মতো মানুষ । যেখানে এত মানুষের রুটি-রুজির ব্যাপার জড়িয়ে রয়েছে সেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বড় ধরনের ক্ষতি হলে মাথা তুলে দাড়ানো সম্ভব হবে না । তাই আমরা শিল্পীদের কথা চিন্তা করে যথেষ্ট উদ্বেগের মধ্যে আছি।’


যুগ্ম সম্পাদক বাবু পাল বলেন, ‘ গতবছর আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পীদের সরকারিভাবে কিছু আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় বিধায়কও নানাভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই যাত্রায় কুমোরটুলিকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল ।আমরা রাজ্য সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ’ ।

আম্ফানের কোপে কুমোরটুলি

ইয়াশের ভয়াবহতার কথা চিন্তা করে ইতিমধ্যেই শিল্পীরা নিজে থেকেও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। কিন্তু তাতেও তাদের শেষ রক্ষা হবে কিনা তা তারা বুঝতে পারছেন না। যেমনটা শিল্পী রাজা পাল এবং মায়া পাল জানান, ‘ আমাদের প্রতিমা তৈরীর শেডের জায়গায় থাকে প্রতিমা তৈরীর কাঠামো, মাটি ,পাট, বিচালি প্রভৃতি । থাকে রং , প্রতিমার অলংকার সহ আরো গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র। সাধারণত বৃষ্টি এলে সে ক্ষেত্রে বড় ত্রিপল, প্লাস্টিক প্রভৃতি চাপা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। কিন্তু গত বছরের মতো যদি ঝড় আছড়ে পড়ে সে ক্ষেত্রে কোন কিছুর বিনিময়ে তা আটকানো সম্ভব নয়। তাই ভগবানের কাছে আমাদের মৃৎশিল্পীদের একটাই প্রার্থনা এই প্রবল ঝড় থেকে যেন আমরা রক্ষা পাই’।
স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন , ‘আমরা ওদের পাশে আছি । গত বছর আমফানে ক্ষতিগ্রস্থ শিল্পীদের সাহায্য করা হয়েছিল। এবারও আমরা কুমোরটুলির ওপর নজর রেখেছি। কুমোরটুলি আমাদের ঐতিহ্য। তাই একে বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদের সকলের’।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *