Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

ARUP CHOUDHURY
নস্টালজিয়া

নির্বাচন প্রতিশ্রুতির দায়বদ্ধতা হোক বৃক্ষরোপণ

গাছমাস্টার অরূপ চৌধুরী

 কবির কলমের একটি শব্দ পরিবর্তন করে বলা যায়- মাটিতে যাদের ঠেকে না চরণ / মাটির মানুষ তাঁহারাই হন ।আর এই আক্ষেপ কথা বার বার প্রাসঙ্গিক হয় যখন ক্যালেন্ডার মেনে আসে নির্বাচন। অবশ্য ই সকলের ক্ষেত্রে তা যে প্রযোজ্য তা মোটেই নয়। এখনও কতিপয় নেতা নেত্রী আছেন যারা পাল বাবুর ছাতার ন্যায় বারোমাস মানুষের পাশে।মাটির সাথে। জেতার পরে কথা রাখেন এবং রাখার চেষ্টা করেন।

একটু খোলতাই করে ই বলি। বসন্ত এলে পলাশ দেখি। নির্বাচন এলে শুনি প্রতিশ্রুতি। আকাশ বাতাস অনুরণিত করে চৌহদ্দি কাঁপিয়ে বেড়ান স্বপ্নের ফেরিওয়ালারা। পায়ে পায়ে প্রচার। খোলা গাড়িতে রাস্তা বন্ধ করে।মাইকের চোঙা ফুকে তারস্বরে প্রতিশ্রুতির ভীষ্মবাণী। পাড়ার দেওয়ালে দেওয়ালে পাখা মেলে প্রতিশ্রুতির শব্দ।নজর টানে রঙিন ছবি। রঙ, শব্দ,তুলি,মাইক, ঝাঁঝালো বক্তব্যে আমরা চোখ কচলাই। দেখি সব-পাওয়ার স্বপ্ন।ভেবেই ফেলি উন্নয়নের আগামী রাজপ্রাসাদের এক সুখি বাসিন্দা আমি। তা সে পূরণের প্রোবাবিলিটি থাক বা না- থাক।

 কিন্তু বিস্মৃত হই, প্রকৃত উন্নয়ন বা প্রগতির মূল ভিত্তি হল পরিবেশ ; সেই পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি ব্রাত্য নির্বাচনী প্রচার এবং প্রতিশ্রুতিতে। দূষণদীর্ণ পৃথিবীতে সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকা আজ বড় সমস্যা ।অথচ দূষণ রোধের অভয়দান প্রতিশ্রতিতে বড় মিঁয়ানো মিঁয়ানো। অনেক টা অচ্ছুত।

ARUP CHOUDHURY
এভাবেই বৃক্ষ চারা রোপনের দাবি অরূপবাবুর

এ-কথা তো অনস্বীকার্য, পৃথিবী আজ বিপন্ন।দূষণ আর তার সম্পদশূণ্যতায় প্রাণ তার ওষ্ঠাগত।পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে তার আমাজান ফুসফুস। ভষ্মীভূত সংখ্যাহীন বৃক্ষকুল। যার কিছুটা আঁচ আমরা পাচ্ছি সাম্প্রতিক অযোধ্যা এবং শুশুনিয়া পাহাড়ের বনের অগ্নিকাণ্ডে। বিশ্ব উষ্ণায়নের মাত্রা উর্ধ্বমুখি। বিষবাষ্পে বাতাস ভারী। নামিদামি নগরগুলোর পরিবেশ কিছুটা অন্ধকূপ তুল্য । হঠাৎ হঠাৎ উবে যাচ্ছে জলাশয়।দ্রুত ছোট হচ্ছে বনাঞ্চলের অস্তিত্ব। টেমস্ , মেকং,নীল বা গঙ্গাই হোক , সবার স্রোত দূষণমাখা । ভারসাম্যহীনতায় ধুঁকছে পৃথিবী । আগামী প্রজন্মের আজ শিশু দ্ব্যর্থহীন হুঙ্কারে বিশ্বের রাষ্ট্র নেতাদের কাছে কৈফিয়ত চায়- হাউ ডেয়ার ইউ ? দুর্ভাগ্যবশত যাদের শোনার কথা সেই জনপ্রতিনিধি দের বড় অংশ শোনেন না কিম্বা শুনেও শোনেন না।

 আমাদের দেশে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধী প্রাথীদের সহজতম কাজ প্রচারে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ফোটানো।কারণ, পরবর্তী সময়ে কথা না-রাখার জন্য সাংবিধানিক কোন হলফনামা বা জবাবদিহি করতে হয় না। নেই কোনো দায়বদ্ধতা। অথচ প্রতিশ্রুতি এবং দায়বদ্ধতা একে অপরের পরিপূরক।    আমাদের রাজ্যে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলছে জোর কদমে।উৎসবময়।নানা আঙ্গিকে।নানা শব্দে । ভাষায়। রঙে । ছবিতে।মোহময় প্রতিজ্ঞা ও প্রতিশ্রুতিতে। শুধু অবাক ব্যাপার,কেউ দৃঢ়কণ্ঠে বলেছেন না- আমি তোমাদের সবুজ ফিরিয়ে দেব, রক্ষা করব।কেউ দেওয়ালে লিখেছেন না – জলাশয় ভরাট বন্ধ করে জলস্তর অটুট রাখতে নতুন নতুন জলাশয় তৈরি করব। কোন সভা থেকে ভেসে আসছে না- পরিবেশকে দূষণের কবল থেকে রক্ষা করব। কেউ এসে দেখায় ইস্তাহারের পাতা লেখা – মজে যাওয়া মূমূর্ষ স্থানীয় নদী টার আগের প্রাণ ফিরিয়ে দেব ।হায় রে ! যে পরিবেশ আমাদের বাঁচিয়ে রাখছে ,যার উন্নয়ন, রক্ষা সর্বাগ্রে দরকার তাকে ই দিছি বাদ ! অবশ্য সবাই নয়।

  যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারে প্রধান দলগুলো লাখ লাখ গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। লেবার পার্টি বলেছে,২০৪০সালের মধ্যে তারা দুশো কোটি গাছ লাগাবে। কনজারভেটিভ কথা দিয়েছে, বছরে কমপক্ষে তিন কোটি।আর ২০৩০ সালের মধ্যে সত্তর কোটি বৃক্ষ রোপনের প্রতিশ্রুতি দিল গ্রীন পার্টি।

ইথিওপিয়া সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেড় কোটি হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চল ও প্রকৃতি পুনরুদ্ধারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালনে কাজ শুরু করে দিয়েছে। লক্ষ্য, তিন মাসে চারশ কোটি বৃক্ষ রোপণ ।

আমি একজন ভোটার।দাবি আমার অধিকার। সাথে সাথ সবুজ আন্দোলনের একজন মামুলি কর্মী। তাই অনুরোধ রাখব, প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাঁদের প্রচারে, দেওয়াল লিখনে, বক্তব্যে, প্রতিশ্রুতি ও ইস্তাহারে আন্তরিকভাবে পরিবেশ ও সবুজ বাঁচানোর কথা দিক।কর্ম সংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য-এর ন্যায় পরিবেশও বিবেচিত হোক  গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। 

আর একে শুধু কথার কথায় রাখলে চলবে না। দায়বদ্ধতা শুরু হোক প্রচার পর্বে । দায়বদ্ধতা-স্মারক হিসেবে প্রতি প্রার্থী নিজ নির্বাচনী এলাকায় রোপণ করুন কমপক্ষে পাঁচটি দীর্ঘজীবী বৃক্ষ শিশু ।জয় পরাজয় যাই হোক ঐ পাঁচটি বড় করার দায়িত্ব নিক ঐ রাজনৈতিক দল।    আমার পূর্ব বর্ধমান জেলাই পথ দেখাক । নির্বাচনে জেলায় ষোলোটি আসন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তিন টি দলের প্রার্থীগণ নিজ নিজ ক্ষেত্রে যদি পাঁচটি করে দায়বদ্ধতা-স্মারক হিসেবে পাঁচটি দীর্ঘজীবী বৃক্ষ শিশু রোপণ করে দলের প্রচার এবং প্রতিশ্রুতির পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ভোটারদের কাছে তুলে ধরেন তাহলে আগামী পাঁচ বছরে পরিবেশ পাবে দুশো চল্লিশ টা গাছ। উন্মোচিত হবে জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতার মানবকল্যাণকামী,সমাজ উন্নয়নের এক নতুন

1 COMMENTS

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *