www.bongobanii.com, www.bongobanii.com, www.bongobanii.com, www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

AMADER BABA-MAA
নস্টালজিয়া

আমাদের বাবা-মা

ডাঃ অনির্বাণ বিশ্বাস

এই কথাগুলো বলা ঠিক হচ্ছে কি না জানি না। যে কোন অনুভূতিশীল মানুষের এই ব্যাপারে অস্বস্তি লাগবে বুঝি। একজন ডাক্তার হিসাবে সমাজকে যে ভাবে দেখছি, বিগত কুড়ি বছর ধরে এর চারিত্রিক অবস্থানগত মূল্যবোধের ক্রম বিবর্তন অহরহ তাড়া করে।

ভারত বর্ষের মানুষের গড় আয়ু এখন প্রায় ৭০। উন্নত দেশগুলোয় এটি ৮০র কাছাকাছি । দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা অবশ্যই জীবনযাপনের গুনগতমান উন্নত হচ্ছে প্রমান করে।মানুষ খেতে পাচ্ছে, মাথার ওপর ছাদ আছে এবং অবশ্যই চিকিৎসা শাস্ত্রের প্রভূত উন্নতি, এসব কিছুই দীর্ঘায়ুর কারন। একদিক দিয়ে অবশ্যই ভাল লাগার কারন।গুরুজন, আপনজনেরা বৃদ্ধ বৃদ্ধা হচ্ছেন কর্মক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, তবু তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে পারি,তাদের আশীর্বাদ পাই, চলার পথে অনেক ঝঞ্জায় তাদের সুপরামর্শ পাই এর থেকে বেশি একটি মানুষ আর কি চাইতে পারে !

তবু… তবু কোথাও একটি বেদনার প্রশ্ন বড় হয়ে উঠছে । বিদেশে সোসাল সিকিউরিটি এত বেশী ,বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের একা থাকতে অসুবিধে হয় না। কিন্তু এই দেশে সামাজিক সুরক্ষা প্রায় কিছুই নেই। বৃদ্ধ/বৃদ্ধা যাঁরা ৭০ পেরিয়েছেন খুব ভাল তাঁরা নেই। আমার চোখে বেশ খারাপ দিক চোখে পড়ে।

১) কিছু কুলাঙ্গার সন্তান সন্ততি আছেন যারা বাবা মায়ের খোঁজ নেন না। আত্মসুখে মগ্ন। ফলতঃ এনারা শারীরিক দূর্বলতা,অভাব এইসবে খুব কষ্টের মধ্যে থাকেন। আমার এমন রুগী এত আছেন, আমার দেখে মাঝে মাঝে তুমুল হতাশা গ্রাস করে। হাঁপানি,প্রেসার ,সুগারের ওষুধ ঠিক মত জোটে না। অথচ সন্তান সম্পন্ন। বিবাহিত মেয়ে লুকিয়ে বাবা/মায়ের ওষুধ কিনে দেয়। একবার এরকম সম্পন্ন পুত্রসন্তানকে ডেকে পাঠিয়ে, তাঁর বাবামায়ের প্রতি এমন আচরনের কারণ জানতে চেয়েছিলাম।তার উত্তর ‘আপনি ভিসিট তো পাচ্ছেন। বাবা মা আমার।আমি বুঝবো’। তার উত্তরে আমার মুখ দিয়ে ‘স্কাউন্ড্রেল’ বেরিয়েছিল। পরবর্তী ঘটনা এখানে বলছি না।

২) কিছু সন্তান সন্ততি এমন নন।তারা কর্মসূত্রে বাইরে থাকতে বাধ্য হন। তাদের বাবা মাকে নিয়ে চিন্তা যথেষ্ট। অর্থ সমস্যা নয়। কিন্তু, অধীর হয়ে মা বাবা অপেক্ষা করেন,কখন তাঁদের ছেলে মেয়ে ছুটিতে বাড়িতে আসবে। এক ভয়ঙ্কর শূন্যতা তাদের গ্রাস করে থাকে। রাতে কখন একটা কল আসবে…তার অপেক্ষায় থেকে থেকে চোখ ঝাপসা হয়। টাচ স্ক্রীনের মোবাইল ঠিক ব্যবহারও করতে পারেন না।কাঁপা হাতে বারে বারে লাইন কেটে যায়…

৩) কিছু বৃদ্ধ বৃদ্ধা আছেন,যাদের সন্তান নেই,অথবা কন্যা সন্তান।পুত্র নেই। কন্যার শ্বশুর বাড়ির কাছে গিয়ে বাড়ি ভাড়া করে থাকতে হয়,অনেক গ্লানিতে…

এঁনারা কিন্তু নিজেদের শরীরের থেকেও ছেলেমেয়ের কুশল নিয়ে সবসময় ভাবেন। মা বাবা কিনা ! অদ্ভূৎ আমাদের মা বাবারা ! কি ভাবে পারেন ! চোখে ভাল দেখতে পাননা..হোঁচট খেয়ে পড়ে নিজেরাই ওঠার চেষ্টা করেন। বিছানায় পেচ্ছাপ করে ফেললে অশক্ত শরীরে বিছানার চাদর কাঁচতে বসেন।খকখক করে কাশেন। শ্বাস কষ্ট হচ্ছে। একটু জোরে বলেন ‘দুটো নারকেল আনবে ? আস্তে যাও।সমুর জন্য নাড়ু বানাই। ও দোলে আসবে’। অশক্ত কাঁপা হাতে এক স্থবির শরীর লাঠি হাতে উঠে দাঁড়ায়। আস্তে আস্তে বাজারে যাচ্ছেন ঐযে…বাবা.. ।মাথাটা ঘুরছে কেন ! ও! ঘাড়ের কলার পড়া হয় নি। নাঃ পড়ব না।যাই,সমু আসবে…

রাস্তায় ভোলাবাবুর সঙ্গে দেখা। শুকিয়ে দড়ি হয়ে গেছেন।গত তিন বছর ধরে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত স্ত্রীর সঙ্গে থেকে এক অসম লড়াই লড়ে, ছমাস আগে মুক্তি পেয়েছেন।বাবা কে রাস্তায় ধরেন ‘আচ্ছা বিশ্বাসবাবু,সুরমাকে লাস্ট কেমোটা না দিলেই হত।হয়ত আরও কিছুদিন বাঁচত, তাই না ?’ টাক মাথায়,কুঁজো হয়ে দাঁড়িয়ে,একমুখ দাড়ি নিয়ে,সকাল থেকে এক কাপ চাও না খেয়ে ভোলাবাবু সভ্যতাকে প্রশ্ন করেন !

ঐ দেখতে পাচ্ছি, ICU’র বাইরে ছেলে মেয়ে বসে। ডাক্তারবাবু বললেন ‘মায়ের বয়স ৮৬ হয়ে গেল।গত পাঁচবছর ধরে নানান বয়সের রোগে ভুগছেন !এখন কোমায়। বুকে বাজে ইনফেকশন হয়েছে। ভেন্টিলেটরএ দেব ? আপনারা মত দিন..’

‘আপনি যা ভাল বোঝেন করুন ডাক্তার বাবু’

‘আমার মতে কিছু না করাই ভাল। একটু সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্ট দেই।ম্যাটার অফ আওয়ার্স এখন’

ডাক্তার মাথা নিচু করে থাকেন। রুগীর বাড়ির লোকের চোখের আকুল দৃষ্টির দিকে চোখ রেখে কথা বলার ক্ষমতা এই ডাক্তারের নেই। ডাক্তার নিজেও বোঝেন,উনি ফুরিয়ে আসছেন।

আমার হয়েছে এক জ্বালা। সহন ক্ষমতা কমে গেছে। বয়স্ক রুগী দেখতে মন চায় না। এমন হওয়ার কথা নয়।বয়স হলেই মানুষের রোগভোগ বাড়ে। বুদ্ধ জরা দেখে কেন বিদ্ধস্ত হয়েছিলেন আমি এখন বুঝি।

একটি অমানবিক চিন্তা এখন প্রায়শঃই মাথায় ঘুরপাক খায়। কোন মানুষেরই ৬০-৬৫র বেশী বাঁচা ঠিক নয়। জীবনের যন্ত্রণা বাড়ে।

আমার মৃত্যু ৬০ এর আগেই হোক। আর আমি নিতে পারছি না।

4 COMMENTS

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *