Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

নস্টালজিয়া

‘বেলা বোস’-এর নম্বর হারিয়ে ফেলেছে অঞ্জন

বঙ্গবাণী নিউজ, মধুরিমা সামন্ত: নব্বইয়ের দশকে শুরু হয়েছিল বেলার খোঁজ। সে খোঁজার মন্ত্র ছিল ‘চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি বেলা শুনছো’।২৭ বছর পর আজও নিজের যুবক বয়সে এসে ২৪৪১১৩৯  নম্বর ডায়াল করে একবার অন্তত বেলার খোঁজ করেনি এমন মানুষ মেলা বিরল।

১৯৯৪ সালে অঞ্জন দত্তের লেখা, সুর ও তাঁরই গাওয়া এই গানের প্রতিটা লাইন আজও যুবসমাজের জীবনের সাথে সমান তালে তাল মিলিয়ে চলে।সেদিন ফোনে অঞ্জন দত্ত তার ‘বেলা বোস’ কে না পেলেও এই গান আজও চাকরির খোঁজে‌ থাকা অঞ্জনদের মনের কথা প্রকাশ করার গান। বেকারত্ব কীভাবে প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তা এই গানের লিরিক্স সেটাই তুলে ধরেছিলেন অঞ্জন দত্ত।

যত দিন গেছে বেকারত্বের যন্ত্রণা বেড়েছে ততই যুবসমাজের মনের আরও গভীরে ঢুকেছে এই গান। বাস্তবে কোন অস্তিত্ব না থাকা কেবল কাল্পনিক শক্তি দিয়ে তৈরি এক চরিত্রের খোঁজে নব্বইয়ের দশক থেকে আজ অবধি পাগল হয়ে থেকেছে যুবসমাজ। অনবদ্য গানের কথা এবং সুর কোনদিনও বাঙালিকে ভুলতে দেয়নি বেলা বোসকে। বাঙালি মনকে স্বীকার করতে দেয়নি  আদৌ বেলা বোস নেই।

বহু মানুষের জীবনের গান হলেও, কিছু মানুষের কাছে এই ২৪৪১১৩৯ নম্বারে ডায়াল করে বেলার খোঁজ পাওয়া কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নব্বইয়ের দশকে ফোন করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু তারা কি আদৌ পেয়েছিলেন বেলাকে? নাহ্, পাননি। কারণ নব্বইয়ের দশকে যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ছিল টেলিফোন। যার প্রত্যেকটা নম্বর ই ছয়(৬)সংখ্যার হত। সেকারণেই যাতে তৎকালীন সময়ের কারোর ব্যবহৃত নম্বর নাহয় তার জন্য অঞ্জন দত্ত গানের সাথে মিলিয়ে একটি সংখ্যা বাড়িয়ে ৭ সংখ্যার এই নম্বরটি ব্যবহার করেছিলেন।

অশান্তির সূত্রপাতের শুরু এরপর থেকেই। কারণ বর্তমানে টেলিফোন নম্বর ৭ টি সংখ্যার হয়। তাই বেলা বোসকে ফোন করলে ফোন ধরছিলেন হিন্দি সংবাদপত্র ‘দৈনিক বিশ্বামিত্র’ এর সম্পাদক। কারণ নম্বরটি তখন কার্যত তাঁর নামে রেজিস্টার ছিল। আসলে তিনি হয়তো বুঝতে পারেনি ২৭ বছর পর এত মানুষ বেলা বোসের খোঁজে ২৪৪১১৩৯ নম্বরে ডায়াল করবেন।নম্বরটি রেজিস্টার হওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতিদিন কয়েকশো মানুষের ফোন আসছিল ওই নম্বরে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বারবার ফোন করে সকলে একই প্রশ্ন করত, এই নম্বরে বেলাকে পাওয়া যাবে কি? আর তাতেই রীতিমতো বিরক্ত হয়ে যায় সংবাদমাধ্যম কর্তৃপক্ষ। সম্পাদকের বাড়ির ফোন নম্বর ছিল এটি। প্রতিদিনের ফোন আসায় সম্পাদক এতই বিরক্ত হয়েছিলেন যে তিনি অঞ্জন দত্তের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে অঞ্জন দত্ত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,”ওই সম্পাদক আমার বিরুদ্ধে মামলাই করে দিয়েছিলেন। আমি তাঁকে বলেছিলাম নেহাতই ছন্দ মেলানো ছাড়া আমার আর কোন উদ্দেশ্য ছিল না। এমনকি বেলা বোস বলে আমি কাউকে চিনতামও না।”

কিন্তু দুঃখের বিষয় এখন আর এই নম্বর ডায়াল করলেও ফোন ধরবে না কেউ। কাউকে জিজ্ঞাসা করা যাবে না ‘বেলা বোস তুমি পারছ কি শুনতে?’ বা বলা যাবে না ‘দিন না ডেকে বেলাকে একটিবার’। কারণ বেলাপ্রেমীদের  ফোনে অতিষ্ঠ হয়ে ‘দৈনিক বিশ্বামিত্র’ সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক এই নম্বরের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছিলেন।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *