www.bongobanii.com, www.bongobanii.com, www.bongobanii.com, www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

সাহিত্য ও বিনোদন

সুতো

যাজ্ঞসেনী গুপ্ত কৃষ্ণা

টবের ছোট্ট গাছটা ভীষণই পরিজন প্রিয়। তবে একটু আনমনা। রোদ পড়লে আনমনা, ছায়াতেও। হাস্যমুখী হাওয়ায় মোষের পিঠে বসা একজোড়া সরল চোখে ঘাড় নেড়ে কুশল জানতে চায়। মৃদুভাবে লাজুক হাসে। কখনও উবু হয়ে ঝু্ঁকে যুক্ত দু’বাহুর উপর মুখ রেখে, খানিকটা বিবেকানন্দীয় ভাব আর কি, জানলা দিয়ে তাকিয়েই থাকে আকাশের দিকে! অপলক। কিছু যেন ব্যথা। কত কিছু যেন বলার আছে ওই আকাশকে।
নেপথ্যে গান বেজে উঠবে নাকি, আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল শুধাইলো না কেহ? নাহ! তার জীবনে গান আর কই! কোনো কলরোলও নেই। শুধু তাকিয়ে থাকা আছে। স্মৃতির জাবরকাটা আছে। তার বড় হয়ে ওঠা মনে পড়ে। লম্বা হয়ে উপরে লতিয়ে যাওয়া নরম দেহাংশ ভেঙে যাওয়ার দিনটা মনে পড়ে। ঝুঁকে আসতো বন্ধু পাখিরা, বন্ধু কীটপতঙ্গরা। মনে পড়ে সবই।

আর আছে একটা জানলা। আকাশ তো আছেই, নদীর সঙ্গে নদীর উৎসের মতো চিরকালের সম্পর্ক তার আকাশের সঙ্গে। সে কাছের, সে দূরের। সে যেন জ্বলজ্বল করা সন্ধ্যাতারাটি। জানলা দিয়ে সকাল সন্ধ্যে সেই শুক আর সন্ধ্যাতারাকে দেখা যায়। দু’চারটে কথাও কখনও কখনও, নিদেন মৃদু হাসির বিনিময়। সে ধ্রুবসূর্য তার জীবনে। একইভাবে দিশা দেখায়। তাই তাপ আর আলো খুঁজে নেয় অনায়াসে। আর বেঁচে থাকে সে পৃথিবীতে।
তো সেই আকাশ দেখা যেতো। জানলা দিয়েই তো! জানলা তার মুক্তি। ছোট মুক্তি।
জানলায় এসে বসেছিলো লোকটা। সে জিগ্যেস করলো, “কেন – ছোট মুক্তি কেন?”
উত্তরে গাছ বললো, “বড় মুক্তি তো আলোয় আলোয়, ওই আকাশে! দাড়িবাবা বলে গেছেন।সেখানে যেতে পারবো এই জানলার বন্ধন কাটাতে পারলে, তাই না?”
শুনে মানুষটা বললো, তা ঠিক।
জানলা বড়ো হিসেবী। সব রোদ ছায়ার মাপ, তার উদ্দেশ্য-বিধেয় – সব তার নখদর্পনে। এ ব্যাপারে তার ভুল নেই একবিন্দুও। তাই খুব গ্যাদা, খুউব দেমাক মনে মনে। – এত নিখুঁত হিসেব আর কে পারে?
তারই ভেতর দিয়ে রোদ ছায়া আসে বলে গাছ বেঁচে আছে। এ কথা এক মুহূর্তের জন্যও সে ভোলে না।
সেদিন অল্প হাওয়ার আশুতপাতা নড়া ঝিমোনো দুপুরে জানলা গাছকে বললো, “দেখছ তো? আমি আছি বলেই তোমাকে এখানে রাখা হয়েছে? আমাকে জড়িয়ে কেমন বাইরেটাতে নিজের মন ছড়াতে পারছ।“ মন চরাতেও। ” বলেই একচোখ টিপে ইয়ার্কির হাসি দিল।
স্বভাবসুলভ মৃদু হাসল গাছ। বলল, “এ’ কথা আমি ভুলি না। তাই তোমার কাছে কৃতজ্ঞ! ”
কিন্তু বললো না যে, তুমি না থাকলে অন্য বারান্দা বা জানলায় এ বাড়ির লোকটা আমায় ঠাঁই দিত। জানলাটা এখানে থাকার জন্য জানলার নিজের কোনো কৃতিত্ব নেই। তেমনি এখানে তার থাকা না-থাকার জন্য তারও নিজের কৃতিত্ব কিছু নেই। জানলা আর গাছ, দুটোরই এখানে স্থাপনা করেছে বাড়ির লোকটা। তাদের টিকে থাকা না থাকাও লোকটারই হাতে।
লোকটা চায়ের কাপ হাতে বিকেলে জানলার সামনে এসে দাঁড়াল। কাপে চুমুক দেবার আগে বোতল থেকে জল খেল। তারপর অল্প জল ঢালল গাছটার গোড়ায়। গাছ বলল, “ বুঝলে, তুমিই আমার বাঁচা-মরার মালিক। তুমি জল দাও, জানলা দিয়ে রোদ আসে। তাই তোমার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। এই জানলা তুমিই রেখেছ । এই জানলাই আমার ছোট মুক্তি।“
লোকটাও তার মতো বড়ো বেভুল। আনমনা। একা থাকে। তার কাজকর্ম, খাওয়া দাওয়া কোনো কিছু নিয়ম মেনে হয় না। কারও সঙ্গেই যেন তার কথা নেই। কতদিন তার কাছে কেউ আসেনি। তবে সে খুব প্রতীক্ষায় আছে, কেউ আসবে। কে আসবে জানে না, তবে একদিন নিশ্চয় এ বাড়ির ঝুলকালি সারাতে কেউ আসবে।

লোকটা গাছের কথা শুনে প্রথমে চুপ করে থাকে। তারপর বলে, “বাঁশতলা, ছাঁচতলা ঘুরে বেড়াই আনন্দের সন্ধানে। সে আমাকে হেদিয়ে মারে। অথচ হাতনাগালে এইখানে টুকি দিয়ে লুকিয়ে থাকে। আজ বুঝলাম তো, আমার আনন্দ তুই!”
“কিন্তু তুমি আমায় এই জানলায় রেখেছ বলেই আমি বিরাটের আনন্দে মুক্তির স্বপ্ন দেখি। মনডানা মেলে দিই আকাশের দিকে!”
“জানলা তো নিমিত্ত মাত্র, তোর মুক্তির জন্য। আমার মুক্তির জন্য তুইও নিমিত্ত মাত্র। আমাদের একার কোনো জয়-পরাজয় নেই, কৃতিত্ব নেই। একটা সুতোয় বাঁধা আমরা সবাই। সেই সুতো ধরে কেউ একজন আমাদের নাচিয়ে ছাড়ছে। আমরা তাই নাচুনে।”লোকটা বলে।
এ’সবই জানা। তবুও সবাই অপেক্ষায় থাকে। মুক্তির। অথবা বন্ধনের।
গাছ আর জানলা জানে না যে, আকাশটা একদম ছুপা রুস্তম। গিলিগিলি ছুঃ! যেন ইয়ার্কি করছে ধাঁধা বলে, নেই তাই খাচ্ছ, থাকলে কোথায় পেতে?… লোকটাই শুধু এই সত্যি জেনেও আকাশকে অস্বীকার করতে পারে না । তাই শেষ পর্যন্ত এই গল্প লোকটার। কারণ সে জানে, আকাশ না থেকেও ভীষণভাবে আছে। ঠিক সেই অনাগত মানুষটার মতো। যে আছে কিনা, আসবে কিনা অজানা। তবু সে আছে। তবু সে আসবে বলে অপেক্ষা। অপেক্ষা, সে একদিন নিশ্চয় এসে এ বাড়ির ঝুলকালি সারিয়ে তাকেও সারিয়ে তুলবে।

জানাশোনা: বর্ধমানের দক্ষিণ দামোদর অঞ্চলে বেড়ে ওঠা। পেশায় শিক্ষিকা। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ – পাঁচটি। ৪৪ জন দেশত্যাগী মানুষের বয়ান ও সাক্ষাৎকারভিত্তিক একটি গদ্যের বই: দেশত্যাগ পূর্ববঙ্গ ছাড়ার মর্মবয়ান।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *