হুল উৎসব থেকে তির-ধনুক নিয়ে হামলা, তিরবিদ্ধ উপ-প্রধানের ভাই, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী, হলফনামা জমা দেবার ক্ষেত্রে জরিমানা দিতে হল পাঁচ হাজার টাকা, আজ ঘোষণা হতে পারে নারদ মামলার রায়, বুধবার থেকে পনেরো শতাংশ ভাড়া বাড়ছে ওলা উবেরের,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

সাহিত্য ও বিনোদন

সুড়ঙ্গ

সুজন ভট্টাচার্য

– রোজ রাতে কার সঙ্গে মস্তি মারাতে যাও?
পুনারীলাল তখনো ঝুপড়িতে ঢুকতে পারেনি। আকাশের মুখটা সবে সাদা হতে আরম্ভ করেছে। এখনি যদি ভিতরে ঢুকে না যেতে পারে, যে কেউ দেখে ফেলবে। আর তা হলেই আবার নখরা শুরু হয়ে যাবে। গাঁওওয়ালা আর কিছু না পারুক, লাফরা মচাতে পারলেই খুশ।
বিমলির কথার কোনো জবাব না দিয়েই পুনারীলাল ভিতরে ঢুকে পড়ছিল। বিমলি খপ করে ওর হাত ধরে ফেলল। একটান দিয়ে এনে ফেলল আবার সামনে। শক্ত করে ধরে রেখেছে হাতটা। দাঁতে দাঁত ঘষে আবার জিজ্ঞাসা করল,
– কোন চুরৈল তোমার ঘাড়ে ভর করেছে, আজ বলতেই হবে। শর্ম লাগে না? তিন বাচ্চার বাপ। এখন আবার নয়ি খিলৌনা না হলে নিদ আসে না, না?

– বিমলি, এখন ছাড়, পুনারীলাল কোনোরকমে বলল। কব্জির কাছে বেশ ব্যথা করছে। হাতের আর দোষ কী? সরযূ কি এমনি এমনি নাগাল দেয়? বিস্তর মেহন্নত চাই তার জন্য। রাতের পর রাত পুনারীলাল ওর মান ভাঙানোর কৌশিস করে যাচ্ছে। পাগলের মতো লড়ে যাচ্ছে যাতে ঠিকঠাক ছোঁয়া যায়। এই মনে হচ্ছে, দিল বোধহয় সুড়ঙ্গের মুখটা খুলে। যেই আঁকড়ে ধরতে গেল, কোন ফাঁক দিয়ে আবার লুকিয়ে পড়ল অন্ধকারে। পুনারীলালের শর গরম হয়ে ওঠে। অন্য সময় হলে দিত খিস্তি লাগিয়ে। কিন্তু রাতের অন্ধেরায় এই কাম করতে গেলে হুশিয়ার থাকতে হয়। কেউ জেনে ফেললেই হয়ে গেল। পঞ্চায়েত ভাগিয়ে দেবে গাঁও থেকে। সমাজের রীতনীত আছে না !
–  বিমলি, সব বলব। আগে তো অন্দর যেতে দে। পুনারীলাল এমনভাবে বলল, যেন ভিক্ষা চাইছে। সেই নরম গলা শুনে বিমলির বোধহয় রোখ আরও চেপে গেল। একটা ধাক্কা লাগাল পুনারীলালের বুকে। ছিটকে পড়তে পড়তে পুনারীলাল টাল সামলে নিল। কিন্তু সামলাতে পারল না নিজের মেজাজ। সারা রাত ঘুম নেই। সরযূ সামান্য সাড়া দিয়েই সরিয়ে নিয়েছে নিজেকে। অন্ধকারে শুধু হাতড়ে গেছে পুনারীলাল। আর পাত্তা নেই। সেই ব্যর্থ চেষ্টায় একজন মর্দের অভিমান নয়, প্রবল রাগ হয় শুধু।
পুরো রাগটাই আছড়ে পড়ল বিমলির গালের উপর। থাপ্পড়টা পড়তেই বিমলি ডুকরে কেঁদে উঠল। পাত্তা না দিয়ে পুনারীলাল ঢুকে পড়ল ভিতরে। এখন ক্ষেতির কাম নেই। তাই ঘরেই খানিকক্ষণ কাটানো যাবে। চোখ বন্ধ করে একটু আরাম করাও যেতে পারে। কিন্তু ঘরের মধ্যে এই নাটক যদি চলতে থাকে, তাহলে সব মাথায় উঠবে। পুনারীলাল আবার বেরিয়ে এল। হাতছানি দিয়ে ডাকল বিমলিকে। দেখে বিমলি যেন ফুঁসে উঠল। চিৎকার করে বলল,
– শর্ম লাগে না তোমার?  রেন্ডীর সঙ্গে রাত কাটিয়ে এসে আমার গায়ে হাত তুলছ ?

পুনারীলাল দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কথাটা তো মিথ্যে নয়। সরযূ তো আদতে রেন্ডীই। যার দাপ আছে, তার বুকেই মুখ ঘষে। পুনারীলালের মতো একটা কিষাণের কাছে কী আর পাবে ও? তাও জাতে আবার বাল্মীকী। বরাম্ভন আর ঠাকুরদের থেকে শও হাত দূরে থাকতে হয়। কিন্তু যে মজে, সে কি আর এত হিসাব করে মজে? পুনারীলালের হয়েছে সেই দশা। আর এখন নিজেকে টেনেও আটকানো যায় না। রাত নামলেই নেশা ধরে যায়, সরযূকে ছোঁয়ার নেশা। সবাই নিদ গেলেই পুনারীলাল ঝুপড়ির ঝাপটা হালকা হাতে খুলে সোজা দৌড় লাগায়। সরযূকে দুই হাতের নাগালে পেতেই হবে। কতদিন ফেরাবে? একদিন না একদিন সরযূর বুকে নিজের ভারী ঠোঁটদুটো ঠিক চাপিয়ে দেবে পুনারীলাল। আর একনিশ্বাসে টেনে নেবে ওর মুখের ভিতরে জমে ওঠা লালা আর গায়ের ঘাম। আহ, তবেই না শান্তি !
পুনারীলাল নেমে এল উঠোনে। বিমলি একটু ভয়ই পেয়েছে মনে হচ্ছে। সিটিয়ে গেছে। পুনারীলাল ওর সামনে গেল। নরম গলায় বলল,
– অন্দর চল বিমলি। বহত পরেশান হয়ে গেছি।
–  অন্দর গিয়েই তো আবার মার লাগাবে? শখ মেটেনি, না ?
–  চুপ কর বিমলি, পুনারীলালের গলাটা ধরে এল। – আর শরমিন্দা করিস না। চল, তোকে সব বলছি। আগে তো পানি দে।
–  তোমার রাখওয়ালি পানি দেয় না? আবার মরতে আমার কাছে কেন ?
পুনারীলাল হেসে ফেলল। বিমলির একটা হাত ধরে টেনে আনার চেষ্টা করল কাছে। বিমলি শক্ত করে রেখেছে শরীরটা। ওর চেহারাটা অবশ্য একটু ভারী। তুলনায় পুনারীলাল তো পলকা। এমনিতেই জোর খাটিয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারে না পুনারী। তার উপর আজ তো বিমলি ক্ষেপে আছে। তাই সামলানোর জন্য ও বলল,
– আরে বাবা, গোড় লাগি তোর। একটু পানি তো দে।
দুমদাম করে বিমলি ওর পাশ দিয়েই ঢুকে গেল ঘরে। পুনারীও পিছন পিছন গেল। একটা মাটির বর্তনে খানিকটা পানি এনে দিল বিমলি। মুখে কিছু না বলে বর্তনটা বাড়িয়ে দিল সামনে। আহ, পুনারীর বুকটা যেন ঠাণ্ডা হয়ে গেল। বর্তনটা ফিরিয়ে দিল বিমলির হাতে। বিমলি এতক্ষণ চুপ করে ছিল। বর্তনটা হাতে নেওয়া মাত্র বলে উঠল,
– রেণ্ডীটা কে?
গামছা দিয়ে মুখটা মুছছিল পুনারী। কোনো জবাব দিল না। উবু হয়ে বসে পড়ল। গামছাটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে হাওয়া খেতে শুরু করল।
–  কথাটা কানে যাচ্ছে না? আজ হেস্তনেস্ত করবই। আমি যাচ্ছি সমাজকে খবর করতে।
লাফ দিয়ে উঠে পড়ল পুনারীলাল। চাপা গলায় যেন সাপের মতো হিসহিস করে উঠল,
– খবরদার। কাউকে বলেছিস তো দেখবি কী করি।
–  কী করবে? হিম্মত থাকলে করে দেখাও। কোনো কথা শুনব না। আজ তোমার খেল আমি খতম করেই ছাড়ব।

পুনারীলালের চোখদুটো বড়বড় হয়ে গেছে। নিজেই টের পাচ্ছে উত্তেজনায় গরম হাওয়া বেরোচ্ছে নাক থেকে। দুই হাত কাঁপছে। সিনার মধ্যে কে যেন ধাক্কা মেরে যাচ্ছে জোরে জোরে। প্রায় হাত করে ফেলেছে সরযূকে। এখন যদি কোনো লাফরা হয়, সব শেষ। পুনারীর মুঠিগুলো শক্ত হয়ে গেল। চোয়াল চেপে জবাব দিল,
– কী করব শুনবি? একজনও যদি খবর পায়, খুদকুশি করে নেব। নে, থাক তুই। জবাবটা শুনেই বিমলি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল। এক অদ্ভুত দৃষ্টিতে খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইল পুনারীর দিকে। তারপরই অন্য হাতটা চাপা দিল মুখে। কোনো আওয়াজ আসছে না ঠিকই। কিন্তু শরীরটা যেভাবে কাঁপছে, বোঝাই যাচ্ছে কাঁদছে। পুনারীর মায়া লাগে। আহা, বহত কষ্ট পাচ্ছে বেচারা ।
মাটিতে ঘষটে ঘষতেই পুনারী বিমলির কাছে গেল। ওর মুখে চাপা দেওয়া হাতটা সরিয়ে নিয়ে বলল,
– কাঁদিস না বিমলি।
বিমলি যেন শ্রাবণের খাদোয়া নালার মতই এবার ঝাপটে উঠল,

– কাঁদব না! এক রেণ্ডীর চক্করে আমার মর্দ হুমকি দিচ্ছে খুদকুশি করে নেবে। আমি কি তাহলে নাচব ?
বিমলি শুধু হীরা মৌসিকে জানিয়েছিল। মৌসিই বলেছিল, ঘরে ফেরা মাত্র এসপার নয় ওসপার করতে। বিমলি, এই মর্দরা সবকটা হারামির বচ্চা, মৌসি সলা দিতে দিতে বলেছিল, রশি আলগা দিয়েছিস কি ছুটবে অন্য ক্ষেতে মুখ লাগাতে। সাবধান ।
বিমলির তবুও বিশ্বাস হয়নি। মানুষটা একটু ভোলেভালা গোছের। সংসারের ধান্দায় পরেশান হয়ে গিয়ে বিমলি কত আনসান বাত করে ফেলে। খুব একটা জবাব দেয় না। তলে তলে এতটাই চলে গেছে! বিমলির মনে হচ্ছে নিজেই রশি লাগিয়ে নেয় গলায়।
– চুপ কর বিমলি, পুনারী হাত রাখল ওর মাথায়। বিমলি এক ধাক্কায় হাতটা সরিয়ে দিল। পুনারী আবার হাসবার চেষ্টা করল,
– বহত গুসসা হয়েছে তোর, না ?
– না, বহত ফুর্তি হচ্ছে। আমার মর্দ রেণ্ডীওয়ালা হয়েছে না! বলতে বলতেই বিমলি আবার ফুঁপিয়ে উঠল ।
– গোড় লাগি তোর বিমলি, পুনারী হতাশ গলায় জবাব দিল। ঝট করে উঠে পড়ল ও। বিমলির থেকে দুই পা সরে গিয়ে কেটে কেটে বলল,
– আজ রাতে তুই যাবি আমার সঙ্গে ।
– মতলব !
– দেখবি কী করি আমি, কার সঙ্গে আশনাই করি।
– শর্ম লাগে না তোমার? বিমলির চোয়ালগুলো শক্ত হয়ে উঠেছে।
– রেন্ডীবাজি করতে যাবে ঘরওয়ালিকে নিয়ে ?
– আরে বিমলি, পুনারীর যেন খুব আনন্দ হয়েছে এমন গলায় বলে উঠল, – সেই আওরতকে দেখলে তুইও নিজেকে সামলাতে পারবি না। চল, আজ রাতে দুজনে মিলে চেপে ধরব রেন্ডীটাকে। সালিকে আজ দরওয়াজা খুলতেই হবে।

– চুপ, বিমলি অস্বাভাবিক একটা গর্জন করে উঠল। তারপর আচমকা কেমন ঠাণ্ডা মেরে গেল। পুনারীর দিকে তাকিয়ে একটা অদ্ভুত গলায় বলে উঠল,
– যাব। দেখব তোমার রেণ্ডী কেমন খেলাতে পারে।
সারাটা দিন পুনারী ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিল। বিমলিও চুপ মেরে গেছে। বাচ্চাগুলো একফাঁকে এসে দুপহরের খানা সাবাড় করেই আবার দৌড় লাগিয়েছে। সারাটা দিন ওরা মাঠঘাটেই ঘুরে বেড়ায়, যদি মুখে দেবার মতো কিছু জোটে। তাও পুনারীর কপাল ভালো, তিনটেই লেড়কা। একটা লেড়কি যদি থাকতো, তাহলেই হয়েছে। সাঁঝ নামার আগেই বাচ্চাগুলো ফিরে এল। মিট্টিকা তেল ফালতু খর্চ করা যায় না। তাই যেটুকু খানা ছিল, ঝটাপট খতম হয়ে গেল। বুলাকি একবার বলল,
– মাঈ, আরেকটু পানি দে।
– আর হবে না, বিমলি ঝাঁঝিয়ে উঠল।
– এত পানি আমি পাব কোথায়? আমার কি কুয়া আছে? পুনারী একবার তাকাল বুলাকির দিকে। নিজের বর্তনে একটুখানি জল রয়েছে। বুলাকির দিকে বর্তনটা এগিয়ে দিয়ে বলল,
– নে। পাছে অন্য কেউ বায়না করে বসে, সেই সুযোগ না দিয়েই বুলাকি ঝাঁপিয়ে পড়ল বর্তনটার উপর। মুহূর্তে পানি শেষ। রেওপুরার আশপাশের গাঁওয়ে অবশ্য পানির জন্য কেউ কাউকে রেয়াৎ করে না। পুনারীলাল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। পানি পানি করেই গোটা জিন্দগি বরবাদ হয়ে গেল। বাচ্চাগুলো ঘুমিয়ে পড়েছে বোঝাই যাছে। পুনারী উঠে পড়ল। আন্দাজ করে সরে এল বিমলির কাছে। ফিসফিস করে বলল,
– যাবি না বিমলি? বিমলি ঘুমোয়নি। ঝট করে উঠে পড়ল। মুখে কোনো কথা না বলে এগিয়ে গেল ঝাপের দিকে। পুনারীও। অন্ধকারে বাচ্ছাগুলোকে দেখা যাচ্ছে না। তবুও একবার পিছনে ফিরে দেখল। আজ কি খেল খতম হবে? সরযূ কি ধরা দেবে? সুড়ঙ্গের মুখটা খুলে দেবে পুনারীর জন্য? কী করবে তখন বিমলি?
– এদিকে আয়, পুনারী ফিসফিস করে বলল। না, কাউকে দেখা যাচ্ছে না। যাক নিশ্চিন্ত। ক্ষেতির মাঠ শেষ। একটা সময় বিমলি ঘাবড়ে গেল বোধহয়।
– কোথায় যাচ্ছি?
– চুপ, আওয়াজ করিস না। এসে গেছি। এখানে মাটিটা অনেকটা উঁচু হয়ে উঠে গেছে। এককালে ভিলদের বসত ছিল। অনেককাল আগেই চলে গেছে এলাকা ছেড়ে।
– এখানে আসবে তোমার রাখেল?
– চুপ। আমার পিছনে আয়। সাবধান। এই সুরাখের মধ্যে নামতে হবে। পুনারীলাল ফিসফিস করে  বলল।
– এইখানে! বিমলি অবাক।
– তুমি এখানে মস্তি মারাতে আসো?
সুরাখটা ক্রমশঃ ঢালু হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সামনে। খানিকপরেই মাথার উপরে মাটির একটা আস্তরণ শুরু হয়ে গেল। সুড়ঙ্গ! বিমলি এবারে ঘাবড়ানো গলায় জিজ্ঞাসা করে,
– কোথায় যাচ্ছি?
– দাঁড়া। এই ঘাসগুলো ধর তো। বিমলি শুকনো ঘাসের  দঙ্গলটা পাকিয়ে ধরল। পুনারীলাল বোধহয় আগে থেকেই মজুত করে রেখেছে এইখানে। কাপড়ার খুঁট থেকে দেশলাই বের করে কয়েকবার ঠুকতেই ঘাসের গায়ে আগুন জ্বলে উঠল।
ওকি! বিমলির সারা গা যেন শিউড়ে উঠল ভয়ে। কী ওখানে!
ঘাসের গায়ের আগুন যেন খানিকটা সামনে মাটির উপর থেকে ঠিকরে আসছে। ভয়ার্ত গলায় বিমলি জিজ্ঞাসা করল,
– কী ওটা?
পুনারীলাল একবার নিচু হয়ে দেখল। পরমুহূর্তে জড়িয়ে ধরল বিমলিকে। ওর কানের কাছে মুখে রেখে বলল,
– তোর রেণ্ডী। নে, কত দেখবি দ্যাখ।
– পানি! বিমলি ফিসফিস করে বলল।
–  হাঁ রে।  রাত জেগে জেগে সুড়ঙ্গটা খোদাই করে যাচ্ছি যাতে সরযূর পানি আসে। কাল একবার পায়ের পাতা ভিজে উঠেছিল। তারপর আর নেই। আজ তোকে নিয়ে এলাম। ঘরওয়ালিকে দেখেই  রেণ্ডী বাইরে চলে এল। বিমলি এগিয়ে গেল সামনে। জলটা খুব বেশি গভীর নয়। হাঁটুও ডুববে না। তবুও তো পানি। বিমলি নিচু হয়ে জলটা স্পর্শ করল। আহ, কি ঠাণ্ডা।  পুনারীলালের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল,
– ঘর নিয়ে যাই চলো।

–  আওরত বলে সাধে! পুনারী চাপা গলায় হেসে উঠল।
– আরে এ হল তোর রেণ্ডী। থোরা পোষ মানাতে হবে তো। আরেকটু জমুক। মিট্টি থিতিয়ে যাক। কাল রাতে বর্তন নিয়ে আসব। সালি সুড়ঙ্গ যখন খুলেইছে, তখন আর আটকাবে কে ? খবরদার, কেউ যেন জানতে না পারে। তাহলেই পঞ্চায়েত আমাদের আসা বন্ধ করে দেবে। বিমলি জড়িয়ে ধরল পুনারীকে। বুকে মাথা রেখে বলল,
– মাফ করে দাও।
ঘাসের বুকের আগুনটা নিভে আসছে। সেই নিভন্ত আলোয় পুনারী একবার খেয়াল করল, জলের বুকে জেগে উঠছে বিমলির মুখ, যেন খুলে যাচ্ছে এক মোহময়ী সুড়ঙ্গ। 

জানাশোনাঃ বারাসত নিবাসী সুজন ভট্টাচার্য লিখছেন নয়ের দশক থেকে। গদ্য ও কবিতা, উভয় বিষয়েই সমান সাবলিল। এখনও অব্দি প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ তিনটি, গল্পের বই পাঁচটি, কাব্যনাট্য দুটি, প্রবন্ধের বই চারটি, সাথে রয়েছে চারিটি উপন্যাস। তাঁর লেখাই তাঁর পরিচয়। বাকিটুকু সংখ্যা মাত্র। তাছাড়া মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর জন্য একটা পা বাড়িয়েই রাখেন।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *