হুল উৎসব থেকে তির-ধনুক নিয়ে হামলা, তিরবিদ্ধ উপ-প্রধানের ভাই, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী, হলফনামা জমা দেবার ক্ষেত্রে জরিমানা দিতে হল পাঁচ হাজার টাকা, আজ ঘোষণা হতে পারে নারদ মামলার রায়, বুধবার থেকে পনেরো শতাংশ ভাড়া বাড়ছে ওলা উবেরের,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

সাহিত্য ও বিনোদন

একটি সাম্প্রদায়িক খুনের গল্প

Dr. Anirban Biswas
অনির্বাণ বিশ্বাস

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বড় সমস্যা হলো দাঙ্গা শেষ হয়েও হয় না শেষ। বরং তার মধ্যে চক্রাকারে আবর্তনের সম্ভাবনা নিহিত থাকে। দাঙ্গার সহিংসতার এই দুষ্টচক্র স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি দুই রকম প্রভাবই রাখতে পারে।

মান্টোর(সাদত হাসান মান্টো ) ‘শরীফন’ গল্পটিতে সহিংসতার দুষ্টচক্রের সুন্দর চিত্র আছে। গল্পের শুরুতে এক মুসলমান বাবা দাঙ্গা করে ঘরে ফিরে দেখে তার স্ত্রী শুধু নয়, অল্পবয়সী কন্যাকেও হত্যা করা হয়েছে। সে কুড়াল নিয়ে বের হয়ে কতিপয় হিন্দুকে হত্যা করে। তারপর একটি ঘরে ঢুকে একটি অল্পবয়সী মেয়েকে হত্যা করে। অতঃপর সেই নিহত মেয়ের হিন্দু পিতা ঘরে ফিরে ঘটনা দেখে তলোয়ার নিয়ে প্রতিশোধ নিতে বের হয়ে পড়ে। প্রতিশোধ এইভাবে শুধু প্রতিশোধ ডেকে আনে।

ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত প্রতিশোধ যেমন প্রত্যক্ষ সহিংসতার কারণ হয়, তার বাইরেও থাকে দাঙ্গা ও হত্যাযজ্ঞের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব। সমাজের অন্তরে দাঙ্গা যে অমানবিকতা, যে ক্ষত, যে ক্ষতি সৃষ্টি করে, তার প্রভাব বহুকাল থাকতে পারে এবং তার ফলাফল ফিরে আসতে পারে আরো বৃহৎ আকারে। ’৪৭-এর সহিংসতা সেখানেই শেষ হয়ে যায়নি, বরং সমাজের অন্তরে শেকড় গেড়েছে, ডালপালা মেলে বিষবৃক্ষ হয়ে উঠল বলে ।

আমরা ভেবেছিলাম দেশভাগের সময় যা কিছু ঘটেছে তাতে মানবতার মান-ইজ্জত ধুলায় লুটিয়েছে—অসহায় নারীর বেআব্রু অপমান, লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা, হাজার হাজার ধর্ষণ। ভেবেছিলাম সংকট যা হওয়ার তা আমরা পেছনে ফেলে এসেছি। দেশভাগের মধ্য দিয়ে আমরা ঘৃণা ও সহিংসতার কারণটাকেই ছেড়ে আসতে পেরেছি। কিন্তু আজ আমরা বুঝতে পারছি যে ঘৃণা খালাস হয়ে যায় নি। বরং শনৈ শনৈ ডালপালা মেলে বিকশিত হয়ে চলেছে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় যা কিছু ঘটেছে সেটাকে তখন সংঘবদ্ধ কর্মকাণ্ড হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কিন্তু এখন পরিষ্কার যে সহিংসতার শেকড় আমাদের ভেতর গেড়ে বসেছে… দাঙ্গায় যারা খুনোখুনি করেছেন তারা পাকা, অভ্যস্ত খুনি ছিলেন না, বরং পরিস্থিতি তাদের বদলে দিয়েছে… ভয়টা হল পরিস্থিতি ভাল হচ্ছে না, আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।

রাষ্ট্র যদি নাগরিকের নাগরিকতার শর্ত হিসেবে, রাজনৈতিক সমাজে তার অন্তর্ভুক্তির শর্ত হিসেবে তার সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়কে বাতিল করাকে শর্ত হিসেবে আরোপ করে, তখন রাষ্ট্র নিজেই সাম্প্রদায়িক হয়ে ওঠে। ফরাসি বিপ্লবের পর প্রতিবিপ্লবের প্রক্রিয়ায় নেপোলিয়ন চার্চের সঙ্গে শান্তি আপস করেছিলেন এবং সংখ্যাগুরুর ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ফ্রান্স রেখে দিয়েছিল, যদিও সেটা সাংবিধানিক রাষ্ট্র ছিল। এর ফলে ফ্রান্সে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় পরিপূর্ণ রাজনৈতিক স্বাধীনতা লাভ করেনি।

ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের কাছে ধর্ম হল উদ্দেশ্য সাধনের উপায় মাত্র, ফলে সে রাষ্ট্র চরিত্রগতভাবেই কপট। রাষ্ট্র যখন ধর্মকে তার ভিত্তি হিসাবে ঘোষণা করে, তখন ধর্ম ত্রুটিপূর্ণ রাজনীতিতে পর্যবসিত হয়। তথাকথিত ধর্মরাষ্ট্র ধর্ম ছাড়া যেন নিজের রাষ্ট্রসত্তা সম্পূর্ণ করতে পারে না। কিন্তু প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তথা প্রকৃত রাষ্ট্রের নিজের রাজনীতি গঠনের জন্য ধর্মের দরকার পড়ে না। তথাকথিত ধর্মরাষ্ট্র ধর্মকে বিচার করে রাজনীতি দিয়ে আর রাজনীতিকে বিচার করে ধর্ম দিয়ে। রাষ্ট্রকে সে একটা ধোঁকাবাজি প্রদর্শনীতে পর্যবসিত করে, আর তা করতে গিয়ে ধর্মকেও ধোঁকাবাজির জায়গায় নামিয়ে আনে।

1 COMMENTS

  1. দারুণ লেখা স্যার। ভিষন ভিষন ভালো লাগলো লেখাটা। আশা করছি এই ধরনের আরো লেখা আপনার কাছ থেকে পাবো।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *