Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

সাহিত্য ও বিনোদন

একোরিয়াম

sukanta dey
সুকান্ত দে


ওং শ্রী শ্রী বগবগায়ো   ফ্রিস্টাইলো সাঁতারগুরু  বুকুদাঐ নম নমঃ

মনে মনে এই মন্ত্র আওড়াতে আওড়াতে শ্রীমান মত্তমান সুইমিং পুলের সিঁড়ির সামনে রাখা প্লাস্টিকের গামলায় পা ধুয়ে, লোহার মই বেয়ে পুলে নামতে লাগলো। মত্ত ছোট থেকেই আবেগপ্রবণ। বাবা-মায়ের লুত্তুপুত্তুর মধ্যে দোলদোলানো তার বাড়্। একা হওয়ার একা থাকার ব্যাপারটা তার কাছে ডুবকি লাগাকে দেখ্। ভেরাইটিস সিনসিনারি  মানসচক্ষে মছলি জাম্পি করে। এই মুহূর্তে যেন সে নিজেকেই নিচ থেকে মই বেয়ে নামনরত অবস্থায় দেখতে পেলো। মনে হল পাছাদুটো বেশি ভারি হয়ে গেছে আর ঠিক পরক্ষণেই তার পাছা বদলে ইশৎ স্থুলাঙ্গী একজন মহিলার ইয়েতে এবং অতঃপর তার পুরোটাই দেখতে পেলো। মানে মানস চোখে চিড়িক দিল। 

দিন কয়েক আগের ঘটনা। সেদিন রবিবার। সকালে সাঁতারে গেছিল। অন্যান্যদিন রাত্রে যায়। পুলের নিয়ম হল স্নান করে নামা। সেদিন সাঁতার কেটে মই বেয়ে উঠবে বলে দুটো সাইডে হাত রেখেছে কি রাখেনি, ওপর থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল। গরম চল্লিশ ছাড়িয়ে চমকাচ্ছে। মেঘের নাম-ও-নিশান নেই, এরমধ্যে ডবল ফোঁটা? ওপরে তাকাতেই ইশৎ স্থুলাঙ্গীর পশ্চাৎপট। কস্টুম চুঁইয়ে…। ওপরে তাকালে মানুষের যে মুখ একটু ফাঁক হয় সেদিনই প্রথম জানলো। চট করে সরতে গিয়ে চিৎপটাং। তাতে পেটে আরেকটু জল ঢুকলো। কাশি হল। ব্রহ্মতালুতে থাপ্পড় দিয়ে থামালো। খুব জানতে ইচ্ছে হয়। অন্যদেরও এরকম হয়। অন্যের পশ্চাৎ বদলে যায় নিজের পশ্চাতে? রাজনৈতিক নেতাদের হয় না এটা নিশ্চিত। ভাবতেই চোখের সামনে জলহস্তী ভেসে উঠলো। সারা গা কাদায় লতপত। হাঁ করে আছে। একটা পাখি এসে ভুক্তাবশেষ ঠকঠকাচ্ছে। নাঃ! এসব ভাবলে চলবে না। মন কে স্থির করতে হবে। সাঁতারে প্রথমদিকে মগজ লাগে। একশনকে রিফ্লেক্স একশনে বদলে ফেলতে পারলে কেল্লা ফতেহ। বুকুদার টিপস।

 হঠাৎ মনে হল “কেল্লা ফতেহ” শব্দটা যে লেখক প্রথম ব্যবহার করেছিল সে নিশ্চই সৈনিক ছিল। এবং মুসলিম শাসকের হয়ে লড়েছিল। ব্যাপারটা মাথায় আসতেই মনটা ঝিঙ্গালালা। জলে গা ডোবাতেই উরিশ! কী গরম! হবেনা? সারাদিন এই ফাটানো রোদ্দুর। ডিম তো কোন ছাড় পটাটো অব্দি সেদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। এটা স্কুলের সিনিয়র টিচার স্বরাজদার কথা। এখনও ধুতি পাঞ্জাবি পরেন। কবে একদিন রোদে স্কুটি রেখেছিলেন। ঘন্টাখানেক পর তাতে চাপেন। তখনই ব্যাপারটা উপলব্ধি করেন। মত্ত ফিক করে হেসে ফেলল। একাই। আচ্ছা! স্বরাজদা এই জলে নামলে কি বলতেন। নির্ঘাত!  রগচটা ইস্ত্রীকে আলিঙ্গন! ভদ্রলোককে দেখে, ও অবাক। গোটা স্কুলের ছাত্ররা ভয় পায় এমনই তাঁর ব্যক্তিত্ব। দারুণ পড়ান। স্টাফরুমে ঢুকলেই চিচিং ফাঁক। বয়স দেখাদেখি নেই। উল্লাট বাওয়াল। তার মতো কচি টেম্পোরারিকেও ইয়ার ভাবেন। বলেন– সাজতে হলে খলনায়ক সাজাই ভালো। তাতে চরিত্র টাইট থাকে। যুবতীর; তারপর কয়েক সেকেন্ড পজ, বাঁটের মতো। 

কথা পড়তে না পড়তেই হাসির কিক্। স্টাফরুম ইলেক্ট্রিফাই। সেখানেই থামলেন না, বললেন

— সবার চোখের সামনে নিজের নিজের ইষ্টমন্ত্র ভেসে উঠলো তো! আমি গাভীর কথা বলেছিলাম। ভেতরে দুধ। তাতে পুষ্টি। চরিত্রও তাই। চারপাশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে। শরীর এর উৎস কাম। ছাড়ান নেই। তাই ভালো সাজতে নেই। রাবণ সীতাকে চুরি করতে গেলো যখন সাধু সাজলো। একজন প্রশ্ন করেছিলো 

— সাজলেনই যখন রাম সাজলেই ল্যাঠা চুকতো। 

রাবণ বলেছিল 

— ওরে! শুধু রাম নামেই লোকে পার হয়ে যায়। রাম সাজলে কি আর চুরিতে মতি থাকতো। 

সাধু সেজেছো কী ভেতরে চোর সিঁদ কাটবে। তারচে খচ্চর সাজো, ভেতরে ঘোড়ার জিন জিমন্যাস্টিকস করুক। 

মত্ত ওনার সামনে দাঁড়িয়েছিল। ভাগ্যিস ওকে জিজ্ঞাসা করেননি চোখের সামনে কী ভেসেছিল? কেবলে ক হয়ে যেত। 

এসব ভাবতে ভাবতেই দেওয়ালে পা দিয়ে প্রথম পুশ। খানিকটা এগুতেই পা চালু করলো তারপর হাত। অনেক আগে এই পুলেই সাঁতার শেখা। কিছু ভেতরে জমা ছিল কিছু ডিলিট। রাত্রে যারা আসে সবাই সাঁতার জানে। ট্রেনারদের তেমন চাপ নেই। বুকুদা দুদিন রাত্রে এসে ওকে কিছু টিপস দিয়েছিল। 

— মাথা গুরু বস্তু। জলে ডুবে যায়। তাই হোমোসেপিয়ন্সকে সাঁতার শিখতে হয়। তাতে ওয়ালেট হালকা হয়।

বুকুদাকে প্রথমদিন কৌপীনবদ্ধ হয়ে নামতে দেখে খুব হাসি পেয়েছিল। একে দশাসই চেহারা। তাতে ম্যাড এঙ্গেলস চিপসের মতো তেকোনা কস্টিউম। তার ওপর দিয়ে চর্বির থাক। আকর্ষণ আর বিকর্ষণ বলের কৃপা। বেরিয়ে যেতে চেয়েও যেন পারছে না। সেকথা চাপতে পারেনি

— তোমাকে প্রায় তৈলঙ্গস্বামী লাগছে গো। 

বুকুদা গম্ভীর। মত্তও একটু ঘাবড়ে গেলো। যাই হোক, বয়সে অনেকটা বড়। 

— ওরে! ওনার হাগার যুগ্যি হতে পারলে আর সাঁতার শিখতাম না। ডুবে যেতাম। বেশিরভাগ হচ্ছে হাবুডুবু। গৃহবধূর নয় আবার বারবধূরও নয়। তাই সারাজীবন সাঁতরে মরে। কুল পায়না। চ চ

বলে একটা পুশ করে কিছুটা জলের ভেতর দিয়ে গিয়ে ভুস করে উঠল। 

লোকটার দম আছে। এই বয়সে এতটা সাঁতার কিকরে কাটে কে জানে। টিপস দেওয়ার সময় মন্ত্রটা ব’লে সেটা স্মরণ করে নামতে বলেছিল। কোনও কিছু একটু হটকে হলেই মত্তর মাথায় জমে যায়। এটাও তাই। পুলে নামার সময় অটোমেটিক চলে আসে। মত্তও পুশ করে সাঁতারাতে থাকে। আজ ওর একটা এক্সট্রা ইঞ্জিন যোগ হয়েছে। কথাটা মনে পড়তেই একটা খুশি ঘাই মেরে গেলো। 

কথাটা বুকুদাকে বলতে ইচ্ছে করছিল। মন পেন্ডুলাম। বলবো। বলবো না। দোল খাচ্ছে। ইহাই নাকি মানুষের মন। অস্থির। বুকুদাকে একজনই একবার বিলো দ্য বেল্ট দিয়েছিল। তানিশা। ছাদে আড্ডা হচ্ছে। সাহিত্যর। লিটিল ম্যাগ মেলায় ওরা সবাই ছিল। বুকুদাই টেনেছিল। একদিন বলল ও খুব ব্যস্ত বেরুতে পারছে না। প্রেস থেকে লিফলেট আনতে হবে। বাইরে টিপটিপ বৃষ্টি। বাড়িতে ওকে কেউই তেমন ভরসা করে না।বেরুতে দিলো না। বুকুদাকে সেটা বলতেই বললো — বাবা মত্তমান আর কদ্দিন কাঁদির মতো বাবা-মায়ের কাঁধে ঝুলবি? সেইদিনই ওর নাম পালটে অমর্ত্য থেকে মত্তমান। শর্টে মত্ত। রাগ যে হয়নি তা নয়। কিন্তু কতটা রাগ বুকুদার ওপর করবে কতটা বাবা-মায়ের ওপর সেটা ঠিক করতে পারেনি। খিল্লির সুযোগ আর কে ছাড়ে। আড্ডায় সেই কথা তুলে বুকুদা ধোবি ঘাটের শুটিং শুরু করেছে। তানিশা মুখ খুললো। 

— জানো বুকুদা রাসবিহারী বোস এর স্কুলের প্রিন্সিপাল চারুচন্দ্র রায় একটা কথা বলেছিলেন, রাসবিহারী বোস এর মেসোকে —” A torn jacket is soon mended but hard wards and names may bruise the heart of a child beyond repairs”

উনি রাসবিহারী কে রাসু, শ্রীশচন্দ্রকে শিরে বলে ডেকেছিলেন বলে।

বুকুদা চুপ। জনতা চুপ। ছাদের আড্ডা ভেসে গেল বলে। বুকুদা হাত জোড় করে বলল —

— মা, তুই যে পড়েছিস আর এসব মনে রেখেছিস সেটাতেই ধড়কন ট্রিপল হয়ে গেল। ওরে! মোক্ষম জায়গায় দাগালি।

 বলেই নিজের জাঙে হাত দিয়ে বাবাগো! বলে চিল্লে উঠলো। সবাই কি হল! কি হল! করে উঠতেই বুকুদা হেসে বলল —

— দুজ্জোধনের উরুভঙ্গের ব্যথা টের পেলাম। বেটি হেব্বি জোর দিয়েছে। 

অথচ এই মেয়েই মত্তমানের ফুটো ক্যাপ্তানি মেনে নেয়। জনসমক্ষে বকুনি হজম করে। হাসে।

পলিটিকাল সায়েন্সে অনার্স করেই চাকরিতে ঢুকে গেছিলো তানিশা। মোটে তিন হাজার মাইনে। তাও সময়ে পায়না। কাজের চাপও খুব। বাবা সাদাকালো টিভির ছবি বিশ্বাস। মালকড়ি কম নেই। কিন্তু বিয়ে দিয়ে ঘরের মেয়ে পরের ঝি করতে না পারা অব্দি তাঁর হাড়ে ঝিঁঝি ডাকছে। ওদিকে মেয়ের রক্তে মেরি কমের পাঞ্চ। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। মেয়েটাকে এইজন্যই  সম্মান করে । বান্ধবী কম নেই। সোশাল মিডিয়া এসে সোসাইটির হুলিয়া বদলে দিচ্ছে। ইনবক্সে গ্রীষ্ম-বর্ষা-শীত-বসন্ত পালাপালি। এদিকে বাবা-মা তাকে খোকাবাবু করে রাখতে চাইছে। ওদিকে সে চাইছে আজাদ পঞ্ছি হতে। রোজ ড্রামা। মায়ের ভাষায়, ওর নাকি নাকের পাটা অহরহ ফুলে যায়।  সর্পরাজ তক্ষকের মতো ফোঁসফোঁস করে ঘরময় ঘুরে বেড়ায়।

 একবার ব্যারাকপুরে একটা পরীক্ষা আর ইন্টার্ভিউ পড়লো। একে তাকে জিজ্ঞাসা করে কিভাবে যেতে হবে জেনে নিয়েছিল। নিজেই যে হ্যান্ডেল ধরতে পারছে সেটা প্রমাণ করতেই হবে। যার যার নাক তাকে সেটা নিজেকেই সামলাতে বলেছিল। সকালে বেরুতে গিয়ে দেখে রিটায়ার্ড বাবা ব্যাগ কাঁধে রেডি। শেয়ালদায় গুরু এয়চেন। একই রুট। তাই সঙ্গে যাবে। কিচ্ছু বলার নেই। ঘোড়ার চাল । এক দুই আড়াই। অগত্যা একই ট্রেন। মাঝে বুকুদার ফোন। রিসিভ করেই বলল —

— বাবা যাচ্ছে। মানস চক্ষে ফুটলো বুকুদার মুখ। ঠোঁটে কৃমির হাসি। আড্ডার দিন ও আর পিছন ঠেকাতে পারবে না। পিটপিট করবে। গুরু কাহিনী বলল। ট্রেন থেকে এমনভাবে নামলো যেন একাই আছে। যেমন কথা ছিল সেভাবেই গেলো। অটোওলাকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিল। বাবা উঠলো একই অটোয়। পিছু পিছু।  যেন মাতাল বাপ-ব্যাটা। কেউ কাওকে চেনে না। এক্ষুণি একজন আরেকজনকে বলবে–

— আপনাকে কোথায় যেনো দেকিচি? খুব চেনা মনে হচ্ছে। 

  অটোর আয়নায় নিজের মুখটা দেখতে পেল। হ্যা। ফুলে আছে। নাকের পাটা। বাবা ভাষাহীন। গুরুনাম জপ করছে বোধায়। ঠিক সময়ে সেন্টারে পৌঁছে, ঢুকে গেলো। বাবাকে পাত্তাই দিলো না। বিকেলে সেখান থেকে বেরিয়ে নেট অন করতেই অনেক মেসেজ। তানিশার আর বুকুদার মেসেজ খুললো। বুকুদা লিখেছে —

— বাবারা ছেলেমেয়েদের যতটা বোঝে অতটা বোধায় তারা নিজেরাও বোঝে না। যাতে  বিরক্ত হয়ে মনোযোগ নষ্ট না হয় তাই ওইভাবেই বাবাকে সঙ্গে যেতে হল। যেন না শুনি তুই খারাপ ব্যবহার করেছিস । 

ভেতরটা রেশমের পচা গুটি হয়ে গেল। লালা কাটা বন্ধ। তখনই তানিশার ফোন। ট্রেনের টাইম বলল। এইজন্য মেয়েটাকে ভালো লাগে। অন দেখেই ঠিক কাজটা করে দিয়েছে। নো খাটনি। হঠাৎ কানের কাছে বুকুদার কণ্ঠস্বর। 

— এটাই যদি বাবার ফোন হতো নাকের পাটা ফুলে যেত হে মত্তমান! 

মানুষের মধ্যে অনেক মানুষ থাকে। সে ভাবে সে স্বতন্ত্র। কিন্তু সে অমুকের চামচ, তমুকের হাতা, কিসিকা সসপ্যান, কিসিকা আন্ডা মিলেমেশে ডালফ্রাই। হোমোজিনিয়াস মিক্সচার। যখন হেটারো হয়, এক ব্যক্তিত্ব অন্যকে চিনতে পারে। এটাও বুকুদার ফান্ডা। সে আবার কার ঝান্ডা নেড়ে পেয়েছে তা সেই জানে। 

কিন্তু সারাক্ষণ আগলে রাখা ব্যাপারটা ওর সহ্য হয়না ইদানীং। কোনও মেয়ের সাথে কথাবার্তায় একটু লেই কাটলেই ও কেমন সিঁটিয়ে যায়। ছেলের বাপ বুকুদার গন্ডা গন্ডা পরকীয়াকে ‘জিনা ইসিকা নাম হ্যায়’ ও মানতে পারেনা। মায়ের কিছু হলে বাবার ব্যস্ততা আর উদ্বেগের চাপাটিই বেশি টেস্টি মনে হয়। হেলদিও। সাথে এটাও মনে হয় ওর বিয়ে হলে ও হবে ল্যেদা জনগন। একদিকে বাবা-মা, অন্যদিকে বৌ। বুথ জ্যাম, রিগিং, ব্যালট লুট এসবই মনে আসে। ফ্রিজড হয়ে যায়। সম্পর্ক টেকা তো দূর। ঘন হতে না হতেই ছানা কাটা। তানিশা আছে নিজের মতো। নিজের কথা বলে। ওর কথা শোনে। ইনবক্সে কে ঢিল ফেলছে বলে। প্রথম প্রথম মত্তর একটু ঝাল লাগতো। পরে সিজিনড হয়ে গেলো। সেই মেয়েই কিছুদিন চুপচাপ। সাড়াশব্দ নেই। অনেক আগুনের পর বরফ একটু গললো। মাইনে পাচ্ছে না। টাকার দরকার। তিনদিন আগে মত্তর মাইনে ঢুকেছে। একসাথে তিনমাসের। নিজেকে ময়ূর সিংহাসনে বসা শাহজাহান মনে হচ্ছে। এ সময় তানিশা পুরো ব্ল্যাক আউট করে বসে আছে। সেদিন জানতে পারলো ও সোশাল ওয়েলফেয়ার এ মাস্টার্স করতে চায়। এন জি ও সেক্টরে এটার কদর আছে। ডিসটেন্সেই করবে। অনেকটা খরচের বেশিটাই মাইনের টাকায় হয়ে যাবে। কিছু শর্ট পড়ছে। 

আগামীকাল ভর্তির শেষ দিন। কথাটা জানতে পারলো আগের রাতে। হোয়াটস এপে। বললো — যেটা কম পড়ছে সেটা ও ধার দেবে। তখনই তানিশা বলল — একটা ব্যবস্থা ঠিকই হয়ে যাবে। তোমার কাছ থেকে নিলে আমার নিজের ওপর ভরসা থাকবে না।

লাড্ডু ফুটতে গিয়েও চুপসে গেলো। আজ স্কুল থেকে ফিরেই ফোন করেছিল। উল্টোদিকে, খাদ থেকে আওয়াজ এলো। ব্যবস্থা হয়েছে। মত্ত থাকতে পারলো না। কোথায় আছে জেনে নিয়েই ফোন কেটে দিল। সটান হাজির।

মত্তর খেয়াল হল ওকে দেখলেই মেঘের কোলে রোদ হাসার রিমেকটা বেজে ওঠে। কিন্তু মেরি  কমের খুন দৌড়ুচ্ছে বলে কথা। দীর্ঘ যুদ্ধের পর জানতে পারলো দিদার স্মৃতি দুলজোড়া বিক্রি করেছে। মত্তর নাকের পাটা ফুললো। একজন মানুষও কি ওকে একটু মানুষের মতো ভাবতে পারেনা। সাইড থেকে কে যেন বলল — আজ অমর্ত্য নয় মত্ত হবার দিন। 

জোর করে তানিশাকে নিয়ে গিয়ে হাজির হল সেই দোকানে। ভদ্রলোককে সিন্ধুক খুলে গল্প বলতে, তিনিও হেসে বের করে দিলেন দিদার স্মৃতি। কার্ডটা ঢোকালো। বটন টিপলো। হিসাব বরাব্বর।

 আকাশে মেঘ। জলে টইটম্বুর। মাটিতে পড়লেই বীজের খোল ভেঙ্গে অঙ্কুরোদগম। তানিশা কোনও জন্মে ভীম ছিল। এ জন্মে মেরি কম। আজ আবার বিলো দ্য বেল্ট। গল্প বলল। ওষধি কুমারের। খোকা কার সেই নিয়ে কনফিউশন। দুই মা লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান মূর্তি। মাঝে দাঁড়ি। দুদিক থেকে খোকাকে ধরে টান। খোকা কাঁদতেই আসল মা হাত ছেড়ে দিলো। পাছে খোকা ব্যথা পায়। মত্ত তাকিয়ে আছে। কনক্লুশনের অপেক্ষায়। তানিশা বলছে —

— সবার কিছুটা স্পেস লাগে। মানুষেরও। সম্পর্কেরও। তুমি একটা খোকা। চেঁচিয়ে উঠলেই ছেড়ে দেবো। ভয় পেও না। ওঁরাও ছেড়ে দেবেন। ভালোবাসলে ব্যথা টের পাওয়া যায়। তুমি তো মুখ ফুটে কিছু বলতে পারবে না, তাই আমিই বললাম।

মত্ত দেখলো দুদিক থেকে দুপক্ষই ছেড়ে দিচ্ছে। আছাড় খেল বলে। ভাগ্যিস জলে আছে। বুকুদা একশো শেষ করে দেওয়ালে পুশ করে পরেরটা শুরু করেছে। ব্রেস্ট স্ট্রোক। মত্তও তাই করলো। দিব্যি সাঁতার কাটতে পারছে। হাঁফ ধরছে না। জলের ভেতর তানিশার মুখ। শরীরটা মাছের। গোল্ড ফিশ। একশো মিটার শেষ করে আবার পুশ করলো। ওই তো তানিশা। বুকুদা ঘাড় ঘোরালো। অবাক! মত্ত থামেনি তো! এদিকে মত্ত দেখলো ওর পাখনা হয়েছে। পা দুটো লেজ। রঙ নীল। থ্রাস্ট তৈরী করছে জলে। মত্ত বলল — আর আমার হাঁফ ধরবে না বুকুদা। সাঁতার শিখে গেছি।

সংসারের ঘেরাটোপের কাচে চোখ রেখে মুচকি হাসলেন তৈলঙ্গস্বামী!

2 COMMENTS

  1. দারুণ লাগল। মজার ছলে সংসারের সার চেনালো লেখক।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *