Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

জেলা

গেরুয়া হাওয়ায় দক্ষিণে পদ্ম ফোটাতে মরিয়া সন্দীপ

ভোট প্রচারে সন্দীপ

বঙ্গবাণী ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: আশ্বিন  মাসে পদ্মের চাহিদা অনেকটাই বাড়ে। পদ্মচাষীরা এই সময় থেকেই কার্যত  পুকুর গুলিতে পরিচর্চা শুরু করে দেন। তবে এ সময়ে জলকষ্ট থাকে। জমি তৈরী থাকলে বর্ষার জলে পুকুরের অল্প জলে থাকা পদ্মের গেড়ো থেকে গাছ বড় হতে সময় লাগে না। ব্যবসায়ী ছেলে সন্দীপ নন্দী এবারে সেই পদ্ম ফোটাতেই খুব চুপি সারেই পদ্মের চাষ শুরু করেছেন বর্ধমান পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ড জুড়েই। বাজারে, চায়ের ঠেকে, রাস্তায়, কোন জায়গা বাদ রাখছেন না পদ্মের গেড়ো বপনে। বাম আমালে একটা ভালো স্লোগান উঠেছিল,‘এ লড়াই বাঁচার লড়াই।’ তাঁর সঙ্গে থাকা অনুগামীরা অবশ্য কিছুটা সে স্লোগান কে  উল্টে দিয়ে বলছেন, ‘এ লড়াই বাঁচানোর লড়াই।’ এবারে ভারতীয় জনতা পার্টির বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী তিনিই। তাই অনেকটাই বেশী দায়িত্ব নিয়ে সন্দীপ নন্দী প্রতিদিন ঘুরে বেড়াচ্ছেন মানুষের দরজায়।  বিশ্বস্ত অনুগামীদের নিয়ে। বিশ্বস্ত অনুগামীদের রেখেছেন কারণ তাঁকে ঘিরেও যে দলে ক্ষোভ  রয়েছে কয়েকজনের। একজনতো গোঁজ প্রার্থী হিসেবে নিজেকে আদি বিজেপি দাবি করে মনোনয়ন পত্র দাখিলও করে দিয়েছে। ফলে সঙ্গে থাকা কেউ যদি তাঁর কোন অসতর্ক মুহূর্তের কোন ছবি তুলে শাসক দলের কাছে পাঠিয়ে দেয়, তাহলে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের তালিকায় পড়ে যেতেন পারেন। তাই সে দিকেও রয়েছে নজর। ২৩টা ওয়ার্ডের আনাচ-কানাচ ইতিমধ্যেই চষে ফেলেছেনএখনও বাকি রয়েছে ১২টি। সেগুলিও দ্রুত সেরে ফেলতে চান। সামনেই রয়েছে বড় প্রচার। মেগা প্রচারে তাঁর হয়ে বর্ধমানে আসছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, সরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এছাড়া রাজ্য স্তরের নেতারা তো আসবেই। কিন্তু তার আগে এলাকায় নিজের প্রচারটা একেবারে তৃণমূল স্তর থেকেই করে নিতে চাইছেন সংঘের এই প্রাক্তনী।

এভাবেই মানুষের কাছে ভোট ভিক্ষা সন্দীপের

বর্ধমান শহরেরই ৪ নম্বর ইছলাবাদের বাসিন্দ সন্দীপ নন্দী ১৯৯০ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের আদর্শে সংঘ পরিবারের সদস্য হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। প্রায় ৬ বছর পূর্ব বর্ধমান জেলার সভাপতি হিসেবে সংগঠন কে মজবুত করেছেন তিনি।

স্ত্রী শুক্লার স্বামীর প্রতি একরাশ ক্ষোভ, মান-অভিমান জন্মেছিল একটা সময়ে, অন্য কোন কারনে নয় ব্যবসা প্রায় ছেড়ে দিয়ে সর্বক্ষণের পার্টি কর্মী হয়ে যাওয়ায়। এখন অবশ্য স্বামীর ক্রম উত্তরণে যোগ্য সহধর্মীনি হিসেবে পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করছেন তিনিও। নন্দী দম্পতির একমাত্র ছেলে আকাশ বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক।

প্রচারের বিভিন্ন মুহূর্তে সন্দীপ নন্দী

২০১১ সালে এই বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই দলের প্রার্থী হয়ে লড়াই করেছিলেন সন্দীপ নন্দী। কিন্তু সেবারে রাজ্য জুড়ে বয়ে চলা তৃণমূলের দমকা হাওয়ায় মাত্র ৫ হাজার ২২১টি ভোট পেয়েই সন্তুষ্টু থাকতে হয়েছিল তাঁকে। বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার কনভেনার  কল্লোল নন্দন বলেন, ‘২০১১ সালে রাজ্যে পালা বদলের সত্যিই একটা হাওয়া ছিল। মানুষ চেয়েছিল সিপিএমের ৩৪ বছরের অপশাসন থেকে মুক্তি পেতে। ঠিক এবারে যেমনটা চাইছে রাজ্যের মানুষ। বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভায় এবারে পদ্ম ফুটবেই। দীর্ঘদিন পুরসভায় কোন নির্বাচন হয়নি। মানুষ পরিষেবা পাচ্ছে না। শহরের উন্নয়ণের যে ছবিটা আমরা দেখছি সেটা আর ভালো লাগছে না দেখতে। আর এজন্যই আমাদের স্লোগান আর নয় অন্যায়। এবারেই হবে আসল পরিবর্তন।’ খালবিল মাঠ এলাকার অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক পরিমল দত্ত বলেন, ‘আমাদের এলাকা সামান্য জলেই ডুবে যায়। প্রতিবারই প্রতিশ্রুতি পেয়েছি। সিপিএম দিয়েছে, তৃণমূল দিয়েছে। দেখি এবারে বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে তাঁরা কি করেন।’ নতুনগঞ্জের বাসিন্দা তন্নি মেহেরা বলেন, ‘পরিবর্তনে সামিল ছিলাম আমরাও। পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি কিছুই।’

দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিজের স্টাইলে প্রচার সন্দীপ নন্দীর

যাঁকে ঘিরে এত কিছু সেই সন্দীপ নন্দী বলেন, ‘অনেক কুৎসা, অপপ্রচার হয়েছে আমাকে নিয়ে। আমি সব জানি। সময়ে সব উত্তর পেয়ে যাবেন। শুধু এটাই বলতে পারি দল আমার উপরে বিশ্বাস, আস্থা রেখেছে। আমি দল কে সে সম্মানটা এই আসনে জিতে যেন ফিরিয়ে দিতে পারি সেই আশীর্বাদই চাইছি মানুষের কাছে। বহু মানুষ বহু ধরণের অভিযোগ করেছেন, করছেন। আমরা সব লিখে রাখছি। সময় এলে একটা একটা করে অভিযোগ ধরে আমরা সমাধান করব সে কথা মানুষকে দিয়েছি। সংখ্যা তত্ত্বের বিচারে আমি বিশ্বাসী নই কোনদিনই। বিজেপির একজন কর্মী বা সমর্থক আমার কাছে যে মূল্য রাখে , আমার কাছে একশো জনেরও সেই একই দাম। কাউকে কোনদিন অসম্মান করতে বাবা-মা শিক্ষা দেয়নি। আর কাউকে জ্ঞানত অসম্মান করিনা এটা আমার চরিত্র। জিতলে কাজ করব এটা সবাই বলে। আমি বলছি, বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের যে সমস্যার কথা শুনেছি তাঁদের মুখ থেকে সেই সমস্যার সমাধান আগে করব। মানুষ সমস্যায় থাকলে নতুন কাজ হলেও মন ভারাক্রান্ত থাকে। তাই সমস্যার সমাধান করে এলাকার উন্নয়ণে হাত দেবো।’

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *