Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

জেলা নস্টালজিয়া রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গের সেলিম আলি, বার্ডম্যান অমরেশ মৈত্র

বঙ্গবাণী ব্যুরো নিউজ :অমরেশ মৈত্র, নামটা হয়তো কেউ সেভাবে শোনেনি। কারণ প্রচার বিমুখ এই মানুষটা সারাজীবন নিজের সংগ্রহশালা নিয়েই ব্যস্ত থেকেছেন। প্রচারের আলোয় আসতে চাননি কখনই। কে এই অমরেশ মৈত্র?
পৃথিবীর একজন অন্যতম ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের নাম অমরেশ মৈত্র। প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক এই মানুষটিকে বলা হয় পশ্চিমবঙ্গের সেলিম আলি। ৮৪ বছরের বৃদ্ধ অমরেশ বাবুর মতো পাখি সম্পর্কে এমন পড়াশোনা, জ্ঞান ও গবেষণা অবাক করার মত।‌

অমরেশ মৈত্র


কিভাবে হয়ে উঠলেন সংগ্রাহক?
নবম শ্রেণীতে পড়াকালীন একদিন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে তার কানে এল একটি শিশু পড়ছে কাকের বাসায় কোকিলের ডিম পাড়ে এবং কাক কোকিল শাবককে পালন করে বলে কাকে পর-ভৃৎ বলে। সেই তার মনে প্রথম প্রশ্ন জাগলো যে দুটি পাখি ভিন্ন দেখতে কিন্তু ডিম দেখতে কি রকম? তখনই ঠিক করলেন দেখতে হবে স্বচক্ষে । সেই শুরু হলো তার পাখির ডিম সংগ্রহ । ১৯৫২ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলার বিভিন্ন জেলায়, গ্রামে, বনে ঘুরে বেড়িয়েছেন ডিম সংগ্রহের জন্য। এই নেশা তাকে টেনে নিয়ে গেছে বাংলার বাইরেও।

কি আছে তার সংগ্রহে?
কৃষ্ণনগরের অমরেশ বাবুর বাড়ির একটি ঘর তার সংগ্রহশালা। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের সব রকম পাখির ডিম আছে। এমন কিছু পাখির ডিম ও আছে যে পাখিগুলি আজ বিলুপ্ত। আছে কিছু সাপ ও পরিযায়ী পাখির ডিম ও।‌ প্রায় ১২০ ধরণের পাখির ৪০০ টির বেশী ডিম তার সংগ্রহে রয়েছে।
শুধু পাখির ডিম নয়, তার সংগ্রহে আছে পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলা থেকে সংগ্রহ করা ২২০ রকমের ধান। যার মধ্যে বেশ কিছু ধানের প্রজাতি এখন দুষ্প্রাপ্য। ১৯৬৪ সালে যখন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ঠিক করলেন জাপান থেকে উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ আনা হবে , তখনই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে হারিয়ে যাবে আমাদের দেশের ধান । তাই শুরু করলেন ধান সংগ্রহ করা।

এই দৃশ্যমান সংগ্রহ ছাড়াও আরো যে এক বিশাল সংগ্রহশালা আছে তার মাথার মধ্যে।
রয়েছে ঘুঘু পাখির গল্প। ঘুঘু পাখির প্রথম মিলন যার সাথে হয় সে তার সাথেই সারাটা জীবন কাটিয়ে দেয়। বিবাহ-বিচ্ছেদের রীতি নেই ঘুঘু পাখিদের সমাজে। সঙ্গী বা সঙ্গিনী মারা গেলে অন্যটি বাকি জীবন বিধবা বা বিপত্নিক হিসেবে অতিবাহিত করে।
আবার বাবুই পাখিদের সমাজে পুরুষ বাবুই হলো স্থপতি ।আর নারী পাখি হলো আবহবিদ। পুরুষ বাবুই-বাসা অর্ধেক বানিয়ে নারী পাখিদের তার বাসা দেখতে আসতে ডাকে। কোনো পাখি বাসা দেখে উড়ে যায় ।আবার কোনো পাখি বাসা দেখে পছন্দ হলে সেই বাসায় বসে থাকে। তখন পুরুষ পাখিটি বুঝতে পারে মেয়ে পাখিটির বাসা পছন্দ হয়েছে। তারপর হয় তাদের ভালোবাসা, মিলন ।নারী পাখি এবং পুরুষ পাখি দুজনে মিলে বাসাটি দিনরাত এক করে গড়ে তোলে ।গোবর দিয়ে বন্ধ করে দেয় বাসার যেকোনো ফুটোফাটা। যাতে ডিম গড়িয়ে মাটিতে না পড়ে যায়।
পাখিদের জীবনের এত নিখুঁত বিবরণ অমরেশ মৈত্র ছাড়া আর কারও পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। বিভিন্ন কাগজে ম্যাগাজিনে তার সম্বন্ধে লেখা হলেও তিনি সবসময় থেকেছেন প্রচারের আলো থেকে অনেক দূরে, তার পাখির জগতের সাধনায় নিমগ্ন।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *