Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

জেলা রাজ্য

বছর পেরিয়ে গেছে, ত্রিপুরারি মুখার্জি এখনও পাননি সরকারি প্রকল্পের ঘর

বঙ্গবাণী ব্যুরো নিউজ :গতবার আম্ফানে ভেঙে পড়েছে ঘর তারপর থেকেই অন্যের আশ্রয় দিন কাটছে গৃহবধূ আশা মুখার্জি এবং তার পরিবারের। বারবার আবেদন করলেও মেলেনি সরকারি প্রকল্পের ঘর।

ত্রিপুরারি মুখার্জির সেই বাস অযোগ্য বাড়ি

পূর্ব বর্ধমানের গলসি 1 নম্বর ব্লকের গলি গ্রামের বাসিন্দা পুরোহিত ত্রিপুরারি মুখার্জির পরিবার। বছর খানেক আগে থেকেই তাদের বাড়ির জরাজীর্ণ অবস্থা। আম্ফানের প্রভাবে তা একেবারেই বাস অযোগ্য হয়ে ওঠে। তারপরই ত্রিপুরারি মুখার্জি তার স্ত্রী এবং দুই পুত্রকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। যেখানে ৭-৮ ফুটের একটি ঘর ও সামনে তিন ফুটের একটি বারান্দা হয়ে ওঠে এই পাঁচজনের বাসস্থান, রান্নাঘর এবং খাওয়ার জায়গা। ভূমিহীন পরিবার হওয়ায় উপার্জন বলতে সেরকম কিছুই নেই। পূজার্চনা করে সামান্য যেটুকু আয় হয় তাই দিয়েই কোনো রকমে দিন কাটে তাদের। লকডাউন এর পরে পুজো-পাঠ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে অভাব তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। না আছে ঠিকমতো দুমুঠো অন্ন, না আছে নিজেদের মাথা গোঁজার ঠাঁই , তার ওপরে লাঞ্ছনা-গঞ্জনা বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন আশা । তিনি বলেন, ‘অবস্থা খুব খারাপ। এক বছর ধরে চেষ্টা করছি তাও বাড়ি হচ্ছে না। সরকারকে জানিয়েছি । বিডিও অফিসে দরখাস্ত দিয়েছি। পঞ্চায়েত অফিস থেকে এসে ফটো তুলে নিয়ে গেছে । কিন্তু কোন কাজ হয়নি। স্বামী সামান্য পূজা করেন। একজনের ইনকামের ওপর ভিত্তি করে চারজন খাই। শাক ভাত নুন ভাত যেদিন যেমন পাই তেমন খাই। দিন রাত চলে শাশুড়ি র গঞ্জনা, বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। ‘

আশা মুখার্জি

ত্রিপুরারি বাবুও সংবাদমাধ্যমে জানান, ‘আমি দিন আনি, দিন খাই। বাড়ি বাগানোর ক্ষমতা নেই। বাড়ি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে মায়ের বাড়িতে কোন রকমে মাথা গুঁজে আছি। আগের বছর জানুয়ারি মাসে পঞ্চায়েত অফিস থেকে বাড়ির ফটো তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু তারপর থেকেই বলেন হচ্ছে হবে, হচ্ছে হবে । কিন্তু হয়নি কিছুই। সরকারকে জানিয়েছি। পঞ্চায়েতে জানিয়েছি। বিডিও অফিসে জানিয়েছে। কিন্তু ঘর পাইনি। খুব কষ্ট করেই দিন কাটছে। সরকারের কাছে চাই যে ঘরটা যেন সুষ্ঠুভাবে হয়ে যায়। ‘

নেই কোনো সঠিক নির্দিষ্ট উপার্জন ।‌ না নিজের সন্তানদের মুখে ঠিকমত দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতে পারেন। না আছে বাড়ি করার মতো অর্থ সামর্থ্য। তাই এখন নিরুপায় হয়ে সরকারের সাহায্যের আশায় দিন কাটাচ্ছেন ত্রিপুরারি বাবু ও তার পরিবার।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *