Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে জেলা রাজ্য

শববাহি গাড়ি বিকল, সংক্রমণের ভয়ে ফেরাল গ্যারেজ

বঙ্গবাণী নিউজ, পূর্ব বর্ধমান: সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ফোন পেয়ে বর্ধমানের এক বাসিন্দা ফোন করেছিলেন পাল্লা রোড পল্লীমঙ্গল সমিতির কাছে। কাঞ্চন সাহা নামে এক ব্যক্তি বুধবার দুপুরে ফোন করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছে অনুরোধ করেন, তার বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা গিয়েছেন। কোন গাড়ি পাচ্ছেন না তিনি তার বাবার মৃত দেহটি অন্তত বাড়ি অবধি পৌঁছে দেবার জন্য। অ্যাম্বুল্যান্সে অনেক বেশী টাকা দাবি করছে। এরপরেই পল্লীমঙ্গল সমিতির শববাহি শকট গাড়িটি এসে সেই বেসরকারি হাসপাতাল থেকে দেহ নিয়ে বর্ধমান শহরে কাঞ্চন সাহার বাড়িতে পৌঁছে দেয়। গাড়ির চালক তেলের খরচ ও তাঁর মজুরি বাবদ এক হাজার টাকা নিয়ে আবারও পাল্লা রোড পল্লীমঙ্গল সমিতির অফিসের দিকে রওনা দেয়।


গাড়ি নিয়ে আসার সময়ে শক্তিগড় থানার আমড়া মোড় এলাকায় গাড়িটি আচমকা খারাপ হয়ে যায়। গাড়ির চালক শিবু মন্ডল ফোন করে সমিতির অফিসে জানালে তিনজন সদস্য বাইকে করে ঘটনাস্থলে আসে এবং চার-পাঁচ জন মিলে ঠেলে গাড়িটি স্থানীয় একটি গ্যারাজে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে গাড়ির কাজ করতে অস্বীকার করে ওই গ্যারাজ মিস্ত্রী। শববাহি গাড়ি। করোনা রোগী নিয়ে যাওয়া হয়েছে ভেবে আরও দু’টি গ্যারাজও অস্বীকার করে গাড়িটি সারিয়ে দিতে। জাতীয় সড়ক দিয়ে এরপর গাড়িটি ওই ৪-৫ মিলে ঠেলে টাটা কোম্পানীর একটি শো-রুমে নিয়ে আসেন।

সব মিলিয়ে ততক্ষুনে গাড়িটি ঠেলে প্রায় ১২ কিলোমিটার নিয়ে আসা হয়ে গিয়েছে। হাঁপাচ্ছেন সবাই। কিন্তু শক্তিগড়ের টাটার অনুমোদিত সার্ভিসিং সেন্টার থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় গাড়িটিতে তারা কাজ করবেন না। জীবানু সংক্রমন হতে পারে। তাই কোন মেকানিক এই গাড়ির কাজ করতে রাজি হচ্ছেন না। অসহায় অবস্থায় সমিতির সদস্যরা ফোন করে বিষয়টি শক্তিগড় থানায় জানায়। পাল্লারোড পল্লীমঙ্গল সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্দীপন সরকার বলেন, ‘শক্তিগড় থানার ওসি বিষয়টি জানার পরে নিজে ফোন করে টাটার সার্ভিসিং সেন্টারে বলে দেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাকে ফোন করে সার্ভিসিং সেন্টার থেকে বলা হয় গ্যারাজটা আমাদের পুলিশের নয়।

সেটাও আমরা পুলিশকে জানালে ওসি সঙ্গে সঙ্গেই থানার একজন অফিসার কে গ্যারাজে পাঠান। তারপরে আমাদের ওই গাড়ি নিজেদের খরচে স্যানিটাইজ করে দিতে হয় দু’বার। এরপরে গাড়ির কাজ শুরু হয়। এখনও গাড়ি হাতে পাইনি আমরা।’ পুলিশ গিয়ে সার্ভিসিং সেন্টারের কর্মীদের বলেন, যেখানে রতন টাটা বিলাসবহুল হোটেল ছেড়ে দিচ্ছেন করোনা যোদ্ধাদের জন্য। যেখানে অক্সিজেন সাপ্লাই দিচ্ছেন এই সংকের মুহূর্তে তিনি। সেখানে তাঁর কোম্পানীর লোকেরা করোনার রোগী নিয়ে যাওয়া হয়েছে এই সন্দেহে কিভাবে একটা গাড়ির কাজ করতে অস্বীকার করতে পারেন? তাও এই সময়ে। শক্তিগড়ের টাটার ওয়ার্কশপের ম্যানেজার চিন্ময় দত্ত বলেন, ‘একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আমরা স্যানিটাইজ করে দিতে বলেছিলাম শুধু। যাইহোক আমারা গাড়ির কাজ করছি। আজকের মধ্যেই হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *