হুল উৎসব থেকে তির-ধনুক নিয়ে হামলা, তিরবিদ্ধ উপ-প্রধানের ভাই, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী, হলফনামা জমা দেবার ক্ষেত্রে জরিমানা দিতে হল পাঁচ হাজার টাকা, আজ ঘোষণা হতে পারে নারদ মামলার রায়, বুধবার থেকে পনেরো শতাংশ ভাড়া বাড়ছে ওলা উবেরের,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

জেলা দেশ

দুই রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বর্ধমানের লক্ষ্মীপুর মাঠ এলাকা

বঙ্গবাণী ব্যুরো ডেস্ক:- ভোট মিটতে না মিটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল বর্ধমান শহর। শনিবার ছিল পঞ্চম দফার ভোট। এরপর থেকেই দফায় দফায় বিজেপি – তৃণমূলের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। রবিবার দুপুরেও বর্ধমান শহরের ৩নং ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর মাঠ এলাকাতে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। বর্ধমানের রসিকপুর মসজিদতলা এলাকার একটি বুথে বিজেপি কর্মীদের খাবার দিতে যাওয়ায় সিদ্ধার্থ রায় নামে এক বিজেপি কর্মীকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তাকে ড্রেনেও ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আর এই ঘটনায় পাল্টা বিজেপি কর্মী সমর্থকরা লক্ষ্মীপুর মাঠ এলাকার কয়েকটি বাড়ি এবং স্থানীয় একটি ক্লাবে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয় গোটা এলাকায়। যদিও এলাকার বাসিন্দাদের দাবী, দুপক্ষের মধ্যে বিষয়টি মিটমাটও হয়ে যায়।

এদিকে, এই ঘটনার পর এদিন দুপুরে বিজেপি জেলা কমিটির নেতা বিশ্বজিত সেনের নেতৃত্বে একটি মিছিল মেহেদিবাগান থেকে পাঞ্জাবীপাড়া পরিক্রমা করে। তা নিয়ে শুরু হয় প্রাথমিক চাঞ্চল্য। এরপর ঠিক কিছুক্ষণ পরেই লক্ষ্মীপুর মাঠ এলাকায় ঢোকেন বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাস। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইফতিকার আহমেদ, নুরুল আলমের নেতৃত্বে তৃণমূল কর্মীরা। তাঁরা এদিন যে সমস্ত বাড়ি এবং ক্লাবে ভাঙচুর হয়েছে সেগুলি খতিয়ে দেখেন। আর পরিদর্শন সেরে ফেরার পথে হঠাৎ একদল তৃণমূল সমর্থক তেড়ে যান বিজেপি সমর্থকদের বাড়ির দিকে। বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর চেষ্টা করেন। এই সময় মহিলারা বাধা দিতে এলে কয়েকজন মহিলাকে চুলের মুঠি ধরে মারধর করার চেষ্টা করেন তৃণমূল কর্মীরা। আর এতেই আগুনে ঘি পড়ে। মূহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা।

বিজেপি কর্মীরা একজোট হয়। বিশেষত মহিলারা হাতে লাঠিসোটা, অস্ত্র নিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ভয়ে এলাকা ছেড়ে ছুটে পালান খোকন দাস সহ অন্যান্য নেতারা। এই সময় উত্তেজিত বিজেপি সমর্থকদের হাতে ধরা পড়ে যান এই এলাকারই বাসিন্দা প্রদীপ হাজরা। তাঁকে রাস্তায় ফেলে বাঁশ, লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারা হয়। তার মাথা ফেটে যায়। এরপরই এলাকায় ঢোকেন পুলিশ কর্মীরা। ইতিমধ্যে এই সংঘর্ষের খবর পেয়ে বাজেপ্রতাপপুর মাঠপাড়া এলাকা থেকে কয়েকশো তৃণমূল সমর্থক রেললাইন পেরিয়ে এসে পিছন থেকে আক্রমণ চালাতে থাকেন বিজেপি কর্মীদের ওপর। ফলে ফের উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, এদিন দুপুরে লক্ষ্মীপুর মাঠে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে সংঘর্ষের জের হিসাবেই এদিন কাঞ্চননগর এলাকায় এই সংঘর্ষ বাধে। তৃণমূল এবং বিজেপি উভয়েই উভয়ের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, এদিন দুপুরবেলায় বেলপুকুর এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের ৪টি বাইকে আগুন ধরিয়ে দেয় বিজেপি সমর্থকরা। পাল্টা তৃণমূল সমর্থকরা বকুলতলা এলাকায় এক বিজেপি সমর্থক বাইক নিয়ে যাবার সময় তাঁকে বেধড়ক মারধর করার পর তাঁর বাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি এদিন এই এলাকাগুলিতে একাধিক তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস ভাঙচুর, দলীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে।

এদিকে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাস জানিয়েছেন, বিজেপি নেতা খোকন সেনের নেতৃত্বে বিজেপি গোটা শহর জুড়ে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। বোম মারছে, বাড়ি ভাঙচুর করছে। পুলিশ, প্রশাসনকে জানিয়েও লাভ হচ্ছে না। পুলিশ প্রশাসন বিজেপির কেনা গোলাম হয়ে গেছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা বিশ্বজিৎ সেন ওরফে খোকন সেন জানিয়েছেন, তৃণমূল গোটা শহর জুড়ে খোকন দাসের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এই ঘটনায় তাঁরা চুপ করে বসে থাকবেন না। এরকম হলে তাঁরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *