Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

জেলা রাজ্য

বন্ধ স্কুল, বেতন নয়! করোনা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ালেন স্কুলমাস্টার

বঙ্গবাণী ব্যুরো নিউজ :করোনা সংক্রমণের জেরে বন্ধ স্কুল। শিক্ষকরা বাড়িতে বসে বসে বেতন নিচ্ছেন! এ অভিযোগ প্রায়শই দেখা যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে এসব অনুযোগ-অভিযোগ পেরিয়ে অনেকে এগিয়েও দিচ্ছেন সাহায্যের হাত। এমনই এক উদাহরণ ভাতার ব্লকের রাধানগর গ্রামের শিক্ষক শেখ জানে আলম। এলাকার করোনা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে চেয়ে লিখিত আবেদন করেছিলেন বিডিওর কাছে।

এভাবেই করোনা আক্রান্তদের বাড়ি গিয়ে সাহায্য করছেন শিক্ষক জানে আলম । ছবি – আমিরুল ইসলাম

শেখ জানে আলম ১২ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন । বর্তমানে বড়বেলুন বড়কালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। কিন্ত করোনা সংক্রমণের জেরে গত দেড় বছর ধরে বন্ধ স্কুল। আর বাড়ি বসে বেতন না নিয়ে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন, বিডিওর অনুমতি মিলতেই শুরু করেছেন কাজ। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছ থেকে পাওয়া পিপিই কিট পরে বন্ধুর বাইকে চেপে চলে যাচ্ছেন বড়বেলুন, রাধানগর, হাড়গ্রাম এবং তৎসংলগ্ন এলাকায়। ফল, সবজি, ওষুধ, মাছ, মাংস থেকে মুড়ি, দুধও পৌঁছে দিচ্ছেন আক্রান্তদের বাড়িতে। বৃহস্পতিবার বড়বেলুন গ্রামের করোনা আক্রান্ত ত্রিশটি পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছেন পাঁচশো গ্রাম মাংস ও দু পোয়া দুধ।

এভাবেই করোনা আক্রান্তদের বাড়ি গিয়ে সাহায্য করছেন শিক্ষক জানে আলম । ছবি – আমিরুল ইসলাম

শেখ জানে আলম বলেন, ‘’এরমধ্যে যে কতটা আনন্দ সেটা আমি বোঝাতে পারবো না। কোভিড আক্রান্ত পরিবার গুলি এই মুহূর্তে অনেকটা নির্ভরশীল। তাঁরা বাড়ির বাইরে বের হতে পারছেন না। এই মানুষগুলোর পাশে যদি এই সময়ে না থাকি তাহলে আর কবে দাঁড়াব। মহামারি এলে পালাতে নয়, মানুষের পাশে থেকে লড়াই করতে হয়। সেটাই আমি চেষ্টা করছি। এতদিন বাড়িতে বসেই আছি। স্কুল বন্ধ। সরকার বেতন বন্ধ করেনি। আমিও চাই আমার মতন অনেকেই এগিয়ে আসুন। বিন্ধু থেকেই সিন্ধু হবে। এতবড় বিপর্যয়ে সরকারের পাশে আমরাও দাঁড়াই। আমার ৯৬৪৭৬৯০৩৫২ মোবাইল নম্বর সবাইকে দিয়ে রেখেছি। কোন সমস্যা হলে যেন ফোন করেন তাঁরা।’’

তাঁর এই কাজের প্রশংসা করে ভাতার ব্লকের বিডিও তপন সরকার বলেন, ‘রাধানগরের শিক্ষক জানে আলম আমাদের কাছে আবেদন করেছিলেন। আমরা ওনাকে কাজ করতে বলেছি। খুবই ভালো উদ্যোগ। এই সময়ে মানুষের পাশে এভাবে থাকাটা। বিএমওএইচ কে আমরা বলেছি, ওষুধ, পিপি কীট সহ ওনাকে যতটা সাহায্য করা যায় সেটা করার জন্য। খুবই ভালো কাজ করছেন এই শিক্ষক।’

এভাবেই করোনা আক্রান্তদের বাড়ি গিয়ে সাহায্য করছেন শিক্ষক জানে আলম । ছবি – আমিরুল ইসলাম

বাবা শেখ আলকাশও খুশি ছেলের এই সিদ্ধান্তে। তিনি জানান, শিক্ষকদের অনেক দায়িত্ব। সমাজ গঠনে শিক্ষকরা সচেতন হলে আমাদের এই ঘুণ ধরতে বসা সমাজে অনেক উন্নতি হবে। ওর এই কাজে আমার খুব আনন্দ হচ্ছে। এতে যদি আমার সংসার টানাটানি করেও চালাতে হয়, আমি রাজি আছি।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *