Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

জেলা দেশ রাজ্য

করোনা কালে অসময়ের বন্ধু, রীতা, কৃষ্ণা, দীপান্বিতা, ঝুমঝুমি, মৃদুলা’রা

বঙ্গবাণী ডেস্ক,পশ্চিম মেদিনীপুরঃ এই করোনা পরিস্থিতিতে মেদিনীপুরে অসময়ের বন্ধু হয়ে উঠেছে রীতা, কৃষ্ণা, দীপান্বিতা, ঝুমঝুমি, মৃদুলা’রা। এই কঠিন পরিস্থিতিতে জীবন বাজি রেখে করোনা সংক্রমিত পরিবার ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই প্রমীলা বাহিনী। নিজেরাই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের নম্বর দিয়ে দিয়েছেন। ফোন করলেই মিলছে পরিষেবা। এঁরা কারোর বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন, আবার কারোর অনুরোধে হাসপাতালে রোগীর কাছে ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছেন। রোগী ভর্তি করতে হাসাপাতলে ছুটে যাছেন। প্রতিনিয়ত খোঁজ-খবরও রাখছেন তাঁরা। অনেকেই এই প্রমীলা বাহিনীর কাজকে কুর্ণিশ জানিয়েছেন।

খড়্গপুরের বাসিন্দা দেবলীনা নিয়োগী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমার বাবা করোনা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর বন্ধুরা মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেন। বাড়িতে মা’ও ভীষণ অসুস্থ। মাকে ছেড়ে আমি বাবার কাছে যেতেও পারছিনা। এমন সময় হাসপাতাল থেকে বাবা কিছু জিনিসপত্র চেয়ে পাঠান। আমি নিরুপায় হয়ে পড়ি। আমরা বন্ধুদের মাধ্যমে রীতা আন্টিদের নম্বর পেয়ে যোগাযোগ করার পর সাহায্য চাই। উনারা কী করতে হবে বলে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান। এবং ওইদিন প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে গিয়ে বাবার প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দিয়ে আসেন। এই করোনা পরিস্থিতিতে এটা আমার কাছে অনেক বড় উপকার।’

গতবছর লকডাউনের পর থেকেই এঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মানুষের সেবায়। প্রত্যেকেই গৃহবধূ। প্রত্যেকের বয়স ৪৫ থেকে ৫৫ ‘র মধ্যে। সংসার সামলে এই কঠিন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সংকল্প করেছেন তাঁরা। গতবছর লকাডাউনের সময় দুঃস্থ মানুষের কাছে চাল, ডাল, আলু, মুড়ি ইত্যাদি খাদ্য সামগ্রী সাধ্য মতো পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন সারাবছর। মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে সাড়া দিয়ে শহরে ছাপ ফেলেছেন এই প্রমীলা বাহিনী। ‘শালবীথি’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তৈরি করেছেন গত বছর জুন মাসে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ তখন সাহসের সঙ্গে মানুষকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন রীতা, কৃষ্ণা, দীপান্বিতা, ঝুমঝুমিরা।

করোনা পরিস্থিতিতে যখন অধিকাংশের মধ্যে ছুঁই ছুঁই ভাব, জীবন বাজি রেখে এই ধরণের কাজ করার সিদ্ধান্ত? প্রশ্নের উত্তরে রীতা বেরা বলেন, ‘বিবেকের তাড়নায়। এই কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থাকা প্রয়োজন বলেই আমরা এ কাজ করছি। রীতা বলেন, আমরা নিজেদের যতটা সম্ভব সেভ রেখে করোনা সংক্রমিত বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দুয়ার পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। শালবীথির সদস্যা রীতা বেরা, কৃষ্ণা চ্যাটার্জী, দীপান্বিতা খান, মৃদুলা ভুঁইয়ারা বলেন, ‘উপকার করার মানসিকতা হঠাৎ করে গড়ে উঠে না। ছোট থেকেই এধরণের মানসিকাতা ছিল। আমরা কাউকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। আবার আমাদের দেখে কেউ কেউ অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষ মানুষের পাশে না দাঁড়ালে কী হবে?’

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *