Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে জেলা রাজ্য

কোভিড রোগীর পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ পরিজনেদের

বঙ্গবাণী নিউজ, পূর্ব বর্ধমান: বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে রোগীর আত্মীয় পরিজনেরা অকারণে ভিড় বাড়াচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বারেবারে তাদের বের করে দিলেও নানা অজুহাতে ভিতরে একপ্রকার জোর করেই ঢুকে পড়ছেন তারা। বাধ্য হয়ে বুধবার সকাল থেকে করোনা ওয়ার্ডে হাসপাতালের নিজস্ব নিরাপত্তা রক্ষীর ছাড়াও পুলিশ মোতায়েন করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এদিনও দেখা গিয়েছে কেউ জানলা দিয়ে খাবার দিচ্ছেন রোগীকে। কেউ সিকিউরিটি কে ঠেলেই ভিতরে ঢুকে যাচ্ছেন। বীরভূম থেকে আসা সঞ্জীব পাত্র বলেন, ‘আমার মা ভিতরে একা রয়েছে। নার্সরা দেখছে না। মাস্ক খুলে পড়ে যাচ্ছে। তাই দেখার জন্য গিয়েছি।’ তারও সংক্রমন হতে পারে সে কথা বলায় সঞ্জীবের উত্তর, ‘হলে হবে। না ঢুকলে করোনা হবে না গ্যারান্টি দিতে পারবেন?’ কাটোয়া হাসপাতাল থেকে এসেছিলেন সুকুমার সাহা বলেন, ‘বাবার করোনা হবার পরে কাটোয়া হাসপাতাল থেকে প্রথমে কৃষি ভবনে পাঠানো হয়।

সেখান থেকে এখানে নিয়ে আসি। কিন্তু তার পরে এখানে এসে পরিষেবা পাচ্ছি না। নার্সরা ঠিকমতন ওষুধ দিচ্ছে না। শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, ঠিকমতন অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে না। কাউকেই জানানো যাচ্ছে না।’


রোগীর পরিবারের লোকেরা পরিষেবা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ করলেও, তাঁরাও যে পরিষেবা দিতে বিঘ্ন ঘটাচ্ছেন সেটা মানতে রাজি নন । নার্সরা তাঁদের সাধ্যমত চেষ্টা করলেও নার্সের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম সেটা কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছেন। রায়না থেকে মা কে ভর্তি করেছেন শেখ কালাম। তিনদিন পরেও মা সুস্থ হয়নি তাঁর। তিনি বলেন, ‘আমরা ভিতরে ঢুকলে যদি সমস্যা হচ্ছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, তাহলে ভিতরে রোগীরা কেমন আছে সেটা কেন বলছেন না সময়ে। তাহলে আমরা ভিড় করব না। ঠিকমতন খাবার দিচ্ছেও না। আমাদের ভিতরে ঢোকার জন্য পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে এটা মানতে পারছিনা।’ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক দীনবন্ধু নাগা বলেন, ‘আমরা পরিষেবা দিচ্ছি না একথা কেউ বললে বিশ্বাস করবে না। করোনা নিয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সবাই একসঙ্গে লড়াই করছে। ওয়ার্ডে কেউ জোর করে ঢুকে গেলে আমাদের কিছু করার থাকছে না। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার প্রবীর সেনগুপ্ত বলেন, ‘আগের থেকে বহিরাগত লোকের ভিতরে ঢোকার সংখ্যা কমেছে।

ভিতরে যে নিময় মেনে ঢোকা উচিত সেটা রোগীর পরিবারের লোকেরা মানছেন না। আমরা অনুরোধ করছি। জোর করে গলা ধাক্কা দিয়ে তো কাউকে বের করে দিতে পারছিনা। সেটা মানবিকও হবে না। নার্সরা সাধ্যমতন চেষ্টা করছেন। নার্সের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ৮ তারিখেই স্বাস্থ্যভবন থেকে চুক্তিভিত্তিতে নার্স নিয়োগের চিঠিও এসেছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত নার্স নেবার জন্য। আর কন্ট্রোল রুমে খবর দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু রোগীর পরিজনের এত অধৈয্য হয়ে পড়ছেন, সময় দিচ্ছেন না। হয়তো পরিজন ভর্তি ওনাদের চিন্তা স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের সবার কথাই ভাবতে হচ্ছে। অক্সিজেনের কোন সমস্যা আমাদের নেই। রোগীর অক্সিজেন লাগলে সে পাচ্ছে। কেউ এ অভিযোগ করে থাকলে মিথ্যা বলেছেন। আমরা সমস্ত রকমভাবেই লড়াই চালাচ্ছি করোনা নিয়ে। জানলা দিয়ে খাবার কেউ কেউ দিচ্ছেন। কি করা যায় বলুন। হাসপাতাল থেকে সুষম পুষ্টিকর খাবার নিয়ম করেই দেওয়া হচ্ছে করোনা আক্রান্তদের।’

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *