হুল উৎসব থেকে তির-ধনুক নিয়ে হামলা, তিরবিদ্ধ উপ-প্রধানের ভাই, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী, হলফনামা জমা দেবার ক্ষেত্রে জরিমানা দিতে হল পাঁচ হাজার টাকা, আজ ঘোষণা হতে পারে নারদ মামলার রায়, বুধবার থেকে পনেরো শতাংশ ভাড়া বাড়ছে ওলা উবেরের,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে জেলা

সাঁইবাড়ি হত্যাকান্ড নিয়ে মীনাক্ষী মুখার্জির বিতর্কিত পোস্ট, আবার সামনে আনল সাঁইবাড়ির ঘটনাকে

বঙ্গবাণী ব্যুরো নিউজ: সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জির বর্ধমানের সাঁইবাড়ি হত্যাকান্ড সম্পর্কে করা পোস্ট নিয়ে তোলপাড় নেট দুনিয়া। মীনাক্ষী মুখার্জি ফেসবুকে তার পোস্টে শহীদ বেদীর একটি ফলক এর ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, ” ১৯৭১ সালের ১২ ই জুন সাঁইবাড়ি কুখ্যাত গুন্ডা নব সাঁইয়ের নেতৃত্বে কংগ্রেসী ঘাতকবাহিনী খণ্ডঘোষ থানার গোটা আহ্লাদীপুর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়ে খুন করে চারজন কমরেডকে।‌ শহীদ দিবসে ৪ বীর শহীদকে শ্রদ্ধা জানাই । লাল সালাম শহীদ কমরেড সৈয়দ মির্জ্জা, আনসার মির্জ্জা, শিবুরাম, শরৎ দলুই।” আর এই পোস্টের পর থেকে শুরু হয়েছে তাকে ঘিরে নানা বিতর্ক।

সাঁই বাড়ি

১৯৭০ সালের ১৭ ই মার্চ সকালে সিপিএমের সশস্ত্র সর্মথকরা হামলা চালায় বর্ধমানের প্রতাপেশ্বর শিবতলা লেনের সাঁইবাড়িতে। তাদের হাতে খুন হন সাহেবের দুই ছেলে মলয় সাঁই এবং প্রণব সাঁই এবং তাদের গৃহশিক্ষক জিতেন রায়। বীভৎস এই হত্যালীলা দেখে তখন কেঁপে উঠেছিল গোটা ভারতবর্ষ।
কিন্তু পরবর্তীকালে ১৯৭৮সালের ৬ই মার্চ এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বেকসুর খালাস করে দেয় অ্যাডিশনাল সেশন জজ (৩য় কোর্ট)। যে নারকীয় খুনের ঘটনা সারা ভারতবর্ষের প্রতিটা মানুষের মুখে মুখে ঘুরতো সেই খুনের ঘটনার মূল অভিযুক্ত নিরুপম সেন ,অমল হালদার , অনিল বোস, সুবোধ চৌধুরী, সুশীল ভট্টাচার্য্য, রামনারায়ন গোস্বামী, আবদার রসিদ, আশ্বিনী হাজরা প্রমুখ প্রায় ৭০ জনের কেউই সাজা পাননি। ফলে আজও সদস্যদের মনের মধ্যে জ্বলছে বিচার না পাওয়ার আগুন।

তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাঁইবাড়ি হত্যাকান্ড নিয়ে কমিশন তৈরি করেন। কিন্তু সেই কমিশনের কোনো প্রভাব আজও দেখা যায়নি প্রতিবারই ভোটের সময় কংগ্রেস সিপিএম জোটের সমীকরণে সাঁইবাড়ি হত্যাকান্ড সামনে আসে। এবারও ঠিক তাই ভোটে কংগ্রেস সিপিএম জোটের ভরাডুবির পর সাঁইবাড়ি হত্যাকান্ড নিয়ে আবার শুরু হয়েছে কথা। তবে এবারে সেই কথা টেনে এনেছেন সিপিএমের প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। আর তাতেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রত্যুত্তরে সাঁইবাড়ির ছেলে উদয় সাঁই বলেছেন, “যারা বাড়িতে ঢুকে এরকম হত্যা করেছিলেন তারা কত বড় গুন্ডা? তার জবাব দিক আগে। তিনি বলেন , সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ডের মূল সাক্ষী ছিলেন তার দাদা আইনজীবী নব কুমার সাঁই। তাই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। সমস্ত নথি লোপাট করা হয়।
এ প্রসঙ্গে বর্ধমান পৌরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর তথা সাঁইবাড়ি বর্তমান পুত্রবধূ উমা সাঁই বলেন, তার ভাসুর নবকুমার সাঁই নামী উকিল ছিলেন । তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়। কংগ্রেস-সিপিএম জোট করেছে। তাই আজ কংগ্রেসের বলার কিছু নেই।
মীনাক্ষীর বিতর্কিত মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি জানিয়েছেন , কে এই মীনাক্ষী? তিনি কোথায় ছিলেন? তার বয়স কত? তিনি কি ছিলেন সেই সময়? কে একটা কোথায় বেদী করে কি লিখে রাখলো সেটাই বিশ্বাস করতে হবে?
সাঁইবাড়ির ছেলে বিজয় সাঁই বলেন, ” সিপিএমই আসল গুন্ডা। তারাই গুন্ডাগিরি শুরু করেছিল। ১৯৭১ সালের ১২ জুন দাদা যখন আদালত থেকে ফিরছিলেন তখন তাকে গাড়িতে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় আহ্লাদীপুরে। সেখানেই তাকে খুন করা হয়। কংগ্রেসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কংগ্রেস আসলে এখন তরমুজ কংগ্রেস। অর্থাৎ যার বাইরেটা সবুজ ভিতরটা লাল (সিপিএম)।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *