Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

জেলা

গরমে পাখি বাঁচাতে উদ্যোগ বনাধিকারিকের

সায়ন্তী মণ্ডল, পশ্চিম মেদিনীপুরঃ প্রচণ্ড গরমে জঙ্গলের গাছে জলের হাড়ি বেঁধে পাখি বাঁচানোর উদ্যোগ বনাধিকারিকের। গরমে  জলসংকটে জঙ্গলের বহু পাখির মৃত্যু হয়। সে কথাই মাথায় রেখে জঙ্গলের গাছে গাছে মাটির হাড়ি বেঁধে, মাটিতে জলের পাত্র রেখে তাতে প্রতিদিন জল দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন। এই উদ্যোগ নিয়েছেন মেদিনীপুর বন বিভাগের ভাদুতলা রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার পাপন মহন্তর।পাখি বাঁচাতে জঙ্গলের গাছের তলায় কম করে ১০০০ টি মাটির হাড়ি রাখা হয়। যার থেকে জল পেয়ে অনেক পাখির জীবন বাঁচবে বলে মনে করছেন। নিজের এই উদ্যোগের পাশাপাশি বনাধিকারিকের আর্জি ‘যেন সবাই এমন উদ্যোগ নেন। বাড়ির প্রত্যেকে দুটো-একটা করে গাছে হাড়ি বেঁধে জলের ব্যবস্থা করলে, এই প্রচন্ড গরমে বাঁচতে পারে অনেক পাখির প্রাণ।’বনাধিকারিকের অফিসার পাপন মহন্তর হিসেবে যেখানেই তিনি গেছেন, সেখানেই প্রশাংসা কুড়িয়েছেন নিজের কাজের জন্য। একই সঙ্গে খুব সহজে জঙ্গলমহলের মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পারেন।

রেঞ্জ অফিসার পাপন মহন্ত বর্তমানে মেদিনীপুর বন বিভাগের ভাদুতলা রেঞ্জের অফিসার। ভাদুতলার পাশাপশি দায়িত্ব সামলাচ্ছেন মেদিনীপুর রেঞ্জেরও। অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনের পাশাপশি অন্য কিছু করার ঝোঁক তাড়া করে বেড়ায় তাঁকে। পিড়াকাটায় থাকাকালীন অফিস চত্বরকে সাজিয়ে ছিলেন বিভিন্ন ফুলের গাছ লাগিয়ে। প্লাস্টিকের বাতিল বোতল কেটে তাতে বিভিন্ন মরশুমি ফুলের চারা লাগিয়ে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে তুলেছিলেন। যা তারিফ করতে হয়েছে সকলকে। এবার গরমে পাখি বাঁচাতে গাছে হাড়ি বাঁধা, গাছের তলায় জলের পাত্র রাখার উদ্যোগ নিয়েছেন। শালবনির ভাদুতলার বিস্তৃর্ণ জঙ্গল এলাকয় একাজ করছেন স্থানীয় কিছু উৎসাহী যুবককে নিয়ে।

কেন এমন উদ্যোগ? প্রশ্ন শূনে রেঞ্জ অফিসার মাপন মহন্ত বলেন, ‘নেশা। বন ও বন্যপ্রাণ রক্ষার দায়িত্ব পালন করি। জঙ্গলে ঘুরে দেখতে পায় দিনে দিনে কীভাবে বন্য প্রাণ শেষ হয়ে যাচ্ছে। অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এসব করতে ভালো লাগে। প্রচন্ড গরমে জলের অভাবে কত পাখি মারা যায়। এসব দেখেই স্থানীয় কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে গাছে গাছে হাড়ি বেঁধে জল দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। বেঁধে দিয়েই দায়িত্ব শেষ নয়। নজরও রাখছি। দেখছি কত পাখি এসে ওই হাড়ি থেকে জল খাচ্ছে। তিনি বলেন, ওদেরও বাঁচাতে হবে। শুধু বনকর্মী বা আধিকারিক নয়, সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রত্যেকে একটা-দুটো করে হাড়ি বেঁধে জল দেওয়ার ব্যবস্থা করলে অনেক পাখির প্রাণ রক্ষা হবে।’

পাখি প্রেমী পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘অসাধারণ উদ্যোগ। কোনো ভাষায় এই উদ্যোগের প্রশংসা করা যায়না। পরিবেশে আমাদের চারপাশে নানান ধরনের পাখি আমরা দেখতে পায়। সব পাখি গাছে উঠে জল খেতে বা স্নান করতে পারেনা। উনিযে তলাতেও জলের পাত্র রাখার উদ্যোগ নিয়েছেন সত্যি প্রশংসনীয়। এমন উদ্যোগ আমাদের সবার নেওয়া উচিত।’

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *