Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

জেলা রাজ্য

রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শিল্পীদের এখন সরকারি রেশনের ওপর নির্ভর করেই চলছে দিন যাপন

বঙ্গবাণী ব্যুরো নিউজ :অতিমারী আবহে মুখ থুবড়ে পড়েছে ডোকরা শিল্প। শিল্পীদের সঙ্গী হয়েছে অভাব। সরকারি রেশনের ওপর নির্ভর করে কাটছে জীবন ।তা সত্ত্বেও কেউ কেউ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার। তাদের আশা কোনো একদিন এই বিপর্যয় কাটবে এবং আবারো তাদের শিল্পকর্মের নিদর্শনগুলি তাদের যোগ্য স্থান পাবে।

ডোকরা শিল্পের কদর বিশ্বজুড়ে। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম ১ ব্লকের দরিয়াপুর গ্রামের ডোকরাপাড়ার শিল্পীরা পিতল দিয়ে তৈরি করেন তাদের শিল্প সামগ্রী। এই গ্রামের প্রায় ৮০ টি পরিবার বসবাস করে। তাদের প্রত্যেকেই ডোকরা শিল্পী। তাদের অপূর্ব শিল্প কর্মের জন্য গ্রামের পাঁচজন শিল্পী রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছেন।
দরিয়াপুরের শিল্পীদের হাতে তৈরি সামগ্রীর চাহিদা কলকাতা এবং দিল্লীতে খুবই বেশি। তাদের হাতে তৈরি বিভিন্ন মূর্তি চাহিদা সারা দেশ এবং বিদেশের বাজারে । কিন্তু গতবছর লকডাউন এর সময় থেকে সেই চাহিদা কমতে কমতে এখন একেবারে প্রায় নেই বললেই চলে। ২০২০-র মার্চ মাস থেকে বন্ধ তাদের উপার্জন ।আর তারপর থেকেই কার্যত পেটের ক্ষিদে চেপে রেখে চলছে জীবন সংগ্রামের লড়াই।

শিল্পী শুভ কর্মকার বলেন, ” কাজ আমাদের ধ্যান-জ্ঞান । ১৮০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস আগুনের ধারে বসে অনায়াসে কাজ করতে পারি । কিন্তু সূর্যের রোদে রাজমিস্ত্রির কাজ আমাদের দিয়ে হবে না। অনেকেই অর্থকষ্টে অন্য কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ঘরের চিকিৎসার খরচ অবধি নেই। রেশনের খাদ্যদ্রব্যে প্রতিদিনের খিদে মিটে যাচ্ছে। কিন্তু মন ভালো নেই । পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার মূর্তি বানাবো।”
আরেক রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শিল্পী রামু কর্মকার জানান, “এমন পরিস্থিতিতে হবে কেউ আশা করিনি। প্রত্যেক শিল্পীর ঘরে অনেক মূর্তি তৈরি হয়ে পড়ে আছে ।যার মূল্য ১৫-২০ হাজার টাকা। অথচ বিক্রির জায়গা নেই । কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কেউ জানিনা। মন ভালো রাখার জন্য কেউ কেউ কাজ করছেন ।তবে কাঁচামাল কিনে কেউ মূর্তি বানিয়ে রাখার সাহস দেখাচ্ছেন না। পিতলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে। তাই এখন মূর্তি বানিয়ে লাভের মুখ দেখা কঠিন। শিল্পীরা বলেন দু’বছর আগে এক কেজি পিতলের দাম ছিল ৩৫০ টাকা। এখন সেই পিতল কিনতে হয় ৪০০ টাকা দিয়ে। দশটা ৬ ইঞ্চি সাইজের আদিবাসী ফিগার বানাতে ১ কেজি পিতল লাগে। আনুষঙ্গিক খরচ পড়ে আরো ৩০০ টাকা। একজন শিল্পীর ৪ দিন সময় লাগে ১০ টি মূর্তি ফিনিশিং করতে। এতকিছুর পরেও একটি মূর্তি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দামে বিক্রি করতে পারিনা। “

করোনা বিধি অনুযায়ী বন্ধ হয়ে গেছে বড় মেলা এবং উৎসব। যার ফলে ডোকরা শিল্পীদের তৈরি ডোকরা সামগ্রী মানুষের কাছে প্রদর্শনই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই কবে আবার সব পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং তারা উপার্জনের পথ খুঁজে পাবে তা বলা খুবই কঠিন।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *