হুল উৎসব থেকে তির-ধনুক নিয়ে হামলা, তিরবিদ্ধ উপ-প্রধানের ভাই, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী, হলফনামা জমা দেবার ক্ষেত্রে জরিমানা দিতে হল পাঁচ হাজার টাকা, আজ ঘোষণা হতে পারে নারদ মামলার রায়, বুধবার থেকে পনেরো শতাংশ ভাড়া বাড়ছে ওলা উবেরের,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে জেলা

ঢাক কাঁধে ভোট পুজোয় ঢাকিরা

বঙ্গবাণী ব্যুরো ডেস্ক:- গ্রাম্য পরিবেশের মধ্য দিয়ে বড়ো হয়ে ওঠা গ্রাম্যবাংলার ওপর এক অদ্ভুত আকর্ষণ রয়ে গেছে আমার ছোটো থেকেই। সময় পেলেই বর্ধমান শহরের আশে পাশের গ্রামগুলিতে আমি প্রায়শই ঘুরতে বেড়িয়ে পড়ি।এরকমই একদিন ঘুরতে ঘুরতে কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে বর্ধমান স্টেশন থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার ব্যবধানে বর্ধমান ২ব্লকের অন্তর্গত বৈকুন্ঠপুর নামক একটি গ্রামে গিয়ে পৌঁছায়।বেশ সুন্দর সাজানো গোছানো গ্রামটি। হাঁটতে হাঁটতে গ্রামের একদম শেষ প্রান্তে যখন পৌঁছায় হঠাৎই কানে আসে একটা সুন্দর ঢাকের তালিমের শব্দ। তাকিয়ে দেখি খড়ের ছাউনির একটি ছোট্ট কুঁড়েঘর,গোটা বাড়ি জুড়ে যার দারিদ্রতার চিহ্ন, ঘড়ের প্রতিটি আনাচে কানাচে ছুঁয়ে আছে ঘোর অন্ধকার। ও দেখুন বলতেই ভুলে গেলাম!পরিচয়পর্ব সারার পর জানতে পারলাম বাড়ির মালিক হলেন মানিক রুইদাস। পেশায় সে ঢাকি।আপনাদের এখন মনে হতেই পারে ভোটের সময় আমি হঠাৎ ঢাকির কথা কেন তুললাম? আরে ,বাঙালির কাছেও তো ভোট এখন পুজোর সমান আর পুজো মানেই ঢাকের কাঠির বোল।

        প্রসঙ্গত, এবারের এই নির্বাচনের আঙ্গিকে ঢাকিদের কদর জোরকদমে। আজ এই প্রার্থীর হয়ে ডাক পাচ্ছে তো কাল আরেক প্রার্থীর হয়ে। মানিক বাবুদের ঢাকের দল ডাক পেয়েছিল বর্ধমান উত্তরের নিশীথ কুমার মালিকের হয়ে বিনিময়ে পেয়েছিল ৫০০ টি টাকা ।ঠিক তার কয়েকদিন পরেই বর্ধমান দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থীর পদযাত্রায় টানা ২ ঘন্টা ঢাক বাজিয়ে আয় করেছিল ৮০০ টি টাকা।আসলে ২দিনের এই ১২০০ টাকা রোজগার মানিক,ভোলা,রামপদ,বাবু সকলের কাছেই  স্বপ্নের মতো।সেই স্বপ্নটাই তাদের কাছে অনেকাংশেই বাস্তবায়িত হয়ে যাচ্ছে ভোটকে ঘিরে।মানিক বাবুর কথায় 'ভোট নিয়ে আমাদের তেমন মাথাব্যাথা নেই, তবে ভোটের আগমনে দু পয়সা উপার্জন হচ্ছে আমাদের কাছে এটাই বড়ো ব্যাপার।রাজনীতির আমরা কিছু বুঝি না'।এর হিসাব নির্বাচন কমিশন নেবে কি নেবে না সেটা একান্তই তাদের বিবেচ্য বিষয় কিন্তু, অভাবী এই মানুষগুলোর কাছে ভোট পূজোয় বলুন আর ভোট উৎসব এক অন্য মাত্রা এনে দিয়েছে এবারে। ।গত বছর করোনা মহামারীর কারণে তাদের আয় প্রায় শিকেয় উঠেছিল, ফলত খেত মজুরের কাজ করে বা অন্যের বাড়িতে কাজ করেই তারা প্রত্যেকেই দিন গুজরান করেছেন।তবে নির্বাচনের আগে এই কটা মাস তাদের কাছে পুজোর আমেজটা ফিরে এসেছে আবার।রাজনীতির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই তারা বোঝে না কোন দল জিতবে আর কে হারবে তারা শুধু বোঝে ছোটোখাটো  উপার্জনের মধ্য দিয়ে জীবনের সব দুঃখ -কষ্ট- দারিদ্রতাকে ভুলে আনন্দে বাঁচার রসদটুকু।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *