Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

এই মুহূর্তে জেলা রাজ্য

পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ,তোপের মুখে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা

বঙ্গবাণী ব্যুরো ডেস্ক:  গোটা রাজ্যের পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও ফলাফল ঘোষণা পরে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা ঘটেছে। যার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সন্দীপ নন্দী এবং বর্ধমান উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রাধাকান্ত রায় জেলাশাসকের কাছে এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনার তালিকা দিয়ে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুঠপাটের পাশাপাশি ঘর থেকে বিতাড়িত মানুষদের ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে এসে শান্তি স্থাপনের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বদের থেকে এই অভিযোগ ওঠার পর বুধবার তড়িঘড়ি বর্ধমান ১নং ব্লকের মিলিক পাড়ায় সন্ত্রাস কবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান জেলাশাসক প্রিয়াংকা সিংলা, জেলা পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই রাজ্যে তৃণমূলের সন্ত্রাসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল গোটা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জানা গেছে, প্রশাসনের কাছে খবর ছিলই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল প্রথমে বর্ধমানে আসবেন। যথারীতি বৃহস্পতিবার সকালে বর্ধমানে এলেন কেন্দ্রীয় তপশীলি জাতি কমিশনের ৫ জন সদস্যের দল। এই দলে ছিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান বিজয় সাপলা, ভাইস চেয়ারম্যান অরুণ হালদার, ডিরেক্টর অজিত সাহু সহ মোট ৫জন। এদিন তাঁরা প্রথমেই যান জামালপুরের নবগ্রামে। সেখানে তপশীলি জাতি সম্প্রদায়ভুক্ত নিহত বিজেপি সমর্থক কাকলী ক্ষেত্রপালের বাড়িতে যান। যদিও এদিন গ্রামে কথা বলার মত কেউই ছিলেন না। বর্তমানে কাকলী ক্ষেত্রপালের স্বামী অনিল ক্ষেত্রপাল অসুস্থ অবস্থায় বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি রয়েছেন। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে নার্সিংহোমে দেখা করেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ খবরও নেন। এরপরই তাঁরা চলে যান বর্ধমান ১নং ব্লকের বেলকাশ গ্রাম পঞ্চায়েতের মিলিকপাড়ায়। কিন্তু এরই মাঝে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দেয়। জামালপুরের তৃণমূল বিধায়ক অলোক মাঝি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের এই পরিদর্শনকে রীতিমত সমালোচনার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলটি কেন্দ্রের তপশীলি জাতি কমিশনের। তাঁদের রাজনীতি বিচার করা উচিত নয়। কিন্তু এদিন তাঁরা নবগ্রামে নিহত বিজেপি সমর্থকের বাড়িতে গেলেও তৃণমূল সমর্থক বিভাস বাগ, রায়নার সমসপুরের গণেশ মাঝি মারা গেলেও তাঁর সম্পর্কে কোনো খোঁজখবরই নেননি। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলটি কার্যতই বিজেপি কর্মী সমর্থকদেরই খোঁজ খবর নিয়েছেন। এটা অত্যন্ত লজ্জার।

এদিকে, এদিন মিলিকপাড়ায় গিয়ে সেখানের অত্যাচারিত মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। কমিশনের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, কোনো রাজনীতির সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নেই। এখনও পর্যন্ত বাংলা থেকে ভোট পরবর্তী দলিত সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচারের ১৬০০ টি অভিযোগ জমা পড়েছে কেন্দ্রের কাছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা বাংলায় এসেছেন। কিছু ঘটনাস্থলও তাঁরা ঘুরে দেখছেন। নবগ্রামে তৃণমূল সমর্থকদের বিরুদ্ধে খোঁজখবর না নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, নবগ্রামে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এব্যাপারে প্রশাসনের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নবগ্রামে গিয়ে তিনি জানতে পারেন কাকলী ক্ষেত্রপালের স্বামী বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি রয়েছেন। তাই তাঁরা সেখানে গিয়ে কথা বলেন। বিজেপি সমর্থকদের বিষয়েই কেবল খোঁজখবর নেওয়ার তৃণমূলের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, তাঁরা দলিত শ্রেণীর ওপর অত্যাচারের বিষয়টি দেখছেন এখানে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। এদিন মিলিকপাড়ায় গিয়ে সেখানের অত্যাচারিতদের সঙ্গে কথা বলার পর বিজয় সাপলা জানিয়েছেন, মিলিকপাড়ায় কেবলমাত্র দলিত মানুষদের ওপরই অত্যাচার করা হয়েছে। ১২টি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে তাঁরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনাও করবেন। অন্যদিকে, মিলিকপাড়া পরিদর্শনের পর প্রতিনিধি দলটি চলে যান বর্ধমান সার্কিট হাউসে। সেখানে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। জানা গেছে, এই ঘটনায় প্রশাসন কি কি ব্যবস্থা নিয়েছে, ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কি কি ধারায় কেস দেওয়া হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা – প্রভৃতি সমস্ত বিষয়েই খোঁজ খবর নেন। এদিন সার্কিট হাউসে এই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দেখা করেন জেলা বিজেপির কর্মকর্তারাও। তাঁরাও এদিন জেলা জুড়ে তৃণমূলের সন্ত্রাস নিয়ে অভিযোগ জানান কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের কাছে। বৈঠক সেরে বিজয় সাপলা জানিয়েছেন, জেলাশাসকের সঙ্গে তাঁদের আলোচনা হয়েছে। আগামী ৫দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেবার ব্যবস্থা নেবার কথা জানিয়েছেন জেলাশাসক। এদিকে, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল মিলিকপাড়া পরিদর্শনে এসে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা মুখপাত্র প্রসেনজিত দাস। তিনি অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল এদিন মিলিকপাড়ায় গিয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়েছেন। এরফলে জেলার শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবার আশংকা দেখা দিতে পারে। অবিলম্বে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের বিরদ্ধে ব্যবস্থা নেবার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, এদিনই বর্ধমান জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নবগ্রামে রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত কাকলী ক্ষেত্রপাল এবং বিভাগ বাগের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বিষয়ে জেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় আবেদন জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের কাছে।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *