Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

জেলা

লকডাউন ও আর্থিক সংকটে বলি চিত্তরঞ্জনের এক বাসিন্দা

বঙ্গবাণী ব্যুরো ডেস্ক,আসানসোলঃ একদিকে করোনায় প্রতিদিন জেলাজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। সামান্য কাজের বিনিময়ে যারা অর্থ পেতেন তারাও কর্মহীন হওয়ায় এখন ধীরে ধীরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। এমন এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে চিত্তরঞ্জনের ফতেপুর এলাকায়। মৃত ওই ব্যক্তির নাম নিতিশ দাস(৫৭)। তিনি ছিলেন ওই অঞ্চলের বাম সংগঠনের একনিষ্ঠ কর্মী। দিনের বেশিরভাগ সময়টাই  ফতেপুর  বামপন্থী  দলের অফিসেই সময় কাটাতেন ।বামদের ভালো খারাপ সব সময়ই তিনি ছিলেন কাজের মানুষ । শোনা যায় একসময় তাকে চিত্তরঞ্জন রেল কারখানায় চাকরিতে ঢোকানোর চেষ্টা পর্যন্ত করেছিলেন বাম নেতৃত্ব কিন্তু তিনি দলের কাজ করবেন বলে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এমনই এক আদ্যন্ত বাম সমর্থক, কর্মী নীতীশ দাস যাকে সকলেই নান্টু নামে চেনেন,কেবলমাত্র আর্থিক সংকটের কারনেই  তিনি  কার্বলিক অ্যাসিড খেয়ে আত্মহত্যা করলেন বলে তার  ভাইপোর দাবী। 

অকৃতদার নীতীশবাবু থাকতেন চিত্তরঞ্জনের ফতেপুর এলাকায় ৪৯ নম্বর রাস্তার শেষের দিকে একটি মাটির বাড়িতে। রোজগারপাতি বিশেষ ছিলনা। ভাইপো  তারা দাস  জানান, স্কুলের ছেলে-মেয়েরা যারা অভাবে অনেকেই যারা ফিস জমা দিতে যেতে পারতেন না  তাদের সেই ফিস তিনি জমা দিতেন। সেই কাজের বিনিময়ে হয়তো দশ কুড়ি টাকা মিলত । কখনো কারোর আবাসন ফাঁকা থাকবে সেজন্য ঐ  বাড়ি পাহারা দেওয়ার জন্য কিছু অর্থ পেতেন। একটি ক্যাটারিং সংস্থার তিনি কর্মী ছিলেন। এই ধরনের  সৎ কাজ করে যেটুকু পারতেন অর্থ সংগ্রহ করে চালিয়ে নিতেন নিজের সংসার । কিন্তু গত করোনার সময় থেকেই স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় সমস্যা তৈরি হল এবং লকডাউনে তার ক্যাটারিং এর কাজও  চলে যাওয়াতে সমস্যা আরও বেড়ে গেল। ফলত অভাব হল ত্যর নিত্য সঙ্গী। গতকাল ৩ মে সকালে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। এদিকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ স্থানীয় মানুষজন মাঠের দিকে গিয়ে ঝোপ-জঙ্গলের মধ্যে গাছের তলায় একটি দেহ দেখতে পান। খোঁজ খবর নিয়ে তারা জানতে পারেন এই দেহটি  নীতিশ বাবুর। তার দেহের পাশে পড়েছিল কার্বলিক অ্যসিডের বোতল। সম্ভবত এই কার্বলিক অ্যাসিড খেয়ে তিনি নিজেকে শেষ করেছেন। মৃত্যু যে রাতের দিকে কখনো হয়েছে তা বোঝা যায় তার মুখের দিক থেকে দেহের বেশ কিছুটা অংশ বন্য জন্তুর খুবলে নেওয়া দেখে। চিত্তরঞ্জনের ফতেপুর এর বাসিন্দা এবং সালানপুর ব্লকের তৃণমূল ছাত্র সংগঠনের নেতা মিঠুন মন্ডল বলেন উনি অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। উনার কোনো শত্রু ছিল না। আমরা গত লকডাউনেও ওনাকে যতটা পেরেছি সাহায্য করেছি। উনি এবার  ভোটের   দুদিন আগে এসে আমাকে বলেছিলেন এই বিধানসভায় এবার আমাদের দলে কোনো প্রার্থী নেই তাই আমি ভোট টা নষ্ট করব না। যে স্থানীয় বিধায়ক এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচুর উন্নয়ন করছেন। তাই এবার  তৃণমূলকে ভোট দেব। ভোটে জিতল আমাকে দুটো লাড্ডু খাওয়াস।  ভোটের দিন উনি আমাকে জানান ভোট দিয়েছেন তৃণমূলকে।  আমি ওনাকে মিষ্টি খাওয়াতে পারলাম না।কেননা নির্বাচনী গণনায় সারাদিন কাটার পর আর সময় করতে পারিনি ওনার সাথে দেখা করার।আজকে এই মর্মান্তিক ঘটনা তে  খুব কষ্ট হচ্ছে। কান্না পাচ্ছে। এমন একটা ভালো মানুষ এভাবে মারা গেলেন তা মেনে নেওয়া কঠিন ।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *