Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

জেলা রাজ্য

প্রেমিকার প্রেরণায় দ্বাদশ শ্রেণি ফেল ছাত্র হয়ে উঠলেন আইপিএস অফিসার

বঙ্গবাণী ব্যুরো নিউজ :প্রবাদ আছে কোনো সফল পুরুষের পেছনে সব সময় একজন নারীর হাত থাকে। আবারও সেই প্রবাদকে বাস্তব রূপ দিল আইপিএস অফিসার মনোজ শর্মার কাহিনী। টেম্পোচালক থেকে প্রেমিকার প্রেরণাতেই দ্বাদশ শ্রেণীর ফেল হওয়া ছাত্র হয়ে উঠলেন আইপিএস অফিসার।

নবম-দশম এবং একাদশ শ্রেণিতে তৃতীয় বিভাগ থেকে পাশ করেছিলেন মনোজ শর্মা ।কিন্তু দ্বাদশ শ্রেণীতে তিনি ব্যর্থ হন। তারপর তিনি বুঝতে পারেন তার খারাপ ফলের জন্য কোথাও চাকরি পাবেন না। তাই টেম্পো চালানো শুরু করেন । বাড়ির অবস্থা ততটাও ভাল ছিল না যাতে তিনি আবার পড়াশোনা শুরু করতে পারেন। তাই তিনি তাঁর ভাইয়ের সাথে টেম্পো চালানোকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন।

অর্থের অভাবে ভিক্ষুকের সাথে ঘুমিয়েছেন, কখনো ধনী ব্যক্তিদের কুকুর দেখাশোনার কাজ করেছেন এবং লাইব্রেরী গার্ডের চাকরি করেছেন। সেখানে তিনি ডিউটি দেওয়ার সময় রাতে বইও পড়তেন। সাময়িকভাবে ব্যর্থ হলেও পড়ার নেশা তাকে কখনো ছেড়ে যায়নি।আইপিএস হওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে মনোজ শর্মা জানিয়েছেন, গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষার কারণে তার ইংরেজি খুবই দুর্বল ছিল । ইউপিএসসি ইন্টারভিউয়ের সময় তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে আপনি যদি ইংরেজি না জানেন তাহলে আপনি কিভাবে শাসন করবেন। এমনকি সেই ইন্টারভিউয়ে একটি অনুবাদ করতে দেওয়া হয়েছিল মনোজকে, যেখানে মনোজ ট্যুরিজম বানানের জায়গায় টেরিরিজম লিখেছিলেন।

কিন্তু দিল্লিতে থাকাকালীন তার জীবনে আসে এক নারী। তার সেই প্রেমিকাই তাকে উদ্বুদ্ধ করেছিল এবং সাহস যুগিয়েছিল এই পথে হাঁটতে।তার প্রেরণাতেই এই সব রকম বাধা কাটিয়ে মধ্যপ্রদেশের দ্বাদশ শ্রেণী ফেল সেই যুবক হয়ে উঠলেন আইপিএস অফিসার। তৈরি করলেন বাস্তব জীবনের এক রূপকথার গল্প। এক সাক্ষাৎকারে মনোজ শর্মা বলেন , তিনি যে মেয়েটিকে ভালবাসতেন তাকে তিনি বলেছিলেন সে যদি তার সাথে থাকে তবে তিনি সারা জগত পাল্টে দেবেন। তার প্রেমিকা তাকে সমর্থন করেন এবং উৎসাহিত করেন। এবং তারপরেই মনোজ শর্মা চতুর্থ প্রয়াসে আইপিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

মনোজ শর্মার স্কুল জীবনের প্রাথমিক ব্যর্থতা এবং সাধারণভাবে পাস করা নিয়ে তার বন্ধু ডেপুটি কমিশনার অনুরাগ পাঠক “12th Fail” নামে একটি বই লিখেছেন । লেখক বলেন , “এই বইটি লিখে প্রকাশ করার পিছনে একটাই উদ্দেশ্য , যে সমস্ত ছাত্র পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ভীতি প্রকাশ করে তাদের ভয় কাটানোর জন্য। তিনি বলেন যদিও মনোজই আমার গল্পের মুখ্য চরিত্র। তবুও আমি এমন কয়েকজনের নাম এখানে উল্লেখ করেছি যারা পড়াশোনা বা ক্লাসে ভালো ফলাফল না করতে পারলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।”

এ বিষয়ে মনোজ শর্মাও এক মত। তিনি বলেন , ” স্কুল জীবনে কোনদিনও ভালো নম্বর পেয়েছি বলে আমার মনে পড়ে না। একটি স্কুল জীবনের পরীক্ষার ফলাফল কোনদিন অদূর ভবিষ্যতে মাপকাঠি বাতলে দিতে পারেনা। “বহু ছাত্র-ছাত্রী আছে যারা স্কুলের পরীক্ষায় ভালো ফল করতে না পারার কারণে বাবা-মায়ের বকুনিতে আত্মঘাতী হয়। মনোজ শর্মা বিশেষত তাদের কাছে জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর এক নিদর্শন।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *