হুল উৎসব থেকে তির-ধনুক নিয়ে হামলা, তিরবিদ্ধ উপ-প্রধানের ভাই, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী, হলফনামা জমা দেবার ক্ষেত্রে জরিমানা দিতে হল পাঁচ হাজার টাকা, আজ ঘোষণা হতে পারে নারদ মামলার রায়, বুধবার থেকে পনেরো শতাংশ ভাড়া বাড়ছে ওলা উবেরের,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

জেলা দেশ

বাড়ছে সংক্রমণ, অধিকাংশের মুখেই দেখা মিলছে না মাস্কের

পশ্চিম মেদিনীপুরঃ দেশজুড়ে আছড়ে পড়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। হু হু করে বাড়ছে সংক্রমন। তাতেও হুঁশ ফেরেনি মানুষের। মাস্ক পরতে অনিহা। বাসে, ট্রেনে, বাজারে-দোকানে যাওয়া মানুষজনের অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই। কারও কারও মাস্ক আছে থুতনিতে বা পকেটে। মানুষকে ফের মাস্ক পরা অভ্যস্ত করতে রাস্তায় নেমে ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। রাজ্যের অন্যান্য জেলার সঙ্গে পশিম মেদিনীপুরেও বাড়ছে করোনা সংক্রমন। গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় নতুন করে সংক্রমিত হয়েছে ৮৯ জন।

মেদিনীপুর শহরের বিভিন্ন মোড়ে অভিযানে নেমে পুলিশের সাফ কথা, ‘হয় মাস্ক পরুন, নয়তো ফিরে যান। মাস্ক না পরে রাস্তায় বেরোবেন না। মাস্ক ছাড়া রাস্তায় বেরোলেই ধরা হবে।’ জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘সমস্ত থানাকে বলা হয়েছে মাস্ক পরার ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করতে। ফের অভ্যেস তৈরি করতে এখন এই অভিযান চলবে।’

মাস্ক না পরার জন্য পথচলতি মানুষের নানা অজুহাত পুলিশের কাছে। মাস্ক না পরে রাস্তায় বেরোনো লোকজনকে কর্তব্যরত পুলিশদের জিজ্ঞাসা, মাস্ক কোথায়? কেন মাস্ক না পরে বেরিয়েছেন? কেউ কেউ বললেন, ‘মাস্ক আছে স্যার, পকেটে। কেউ আবার বাইকের পিছনে বসে থাকা নিজের বউয়ের দিকে হাত দেখিয়ে বললেন, ওর ব্যাগে আছে, পরে নিচ্ছি। পিঠে স্কুল ব্যাগ নিয়ে সাইকেল চালিয়ে পুলিশের সামনে হাজির বছর ষোলর এক কিশোর। পুলিশ তাকে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসা করলন, মাস্ক পরোনি কেন? কিশোরটি পুলিশকে বলল, এখন যে আর মাস্ক পরতে হয়না। আমার এক বন্ধু বললো! পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে একটি মাস্ক দিয়ে বললেন, বাড়ির বাইরে বেরোলেই মাস্ক পোরো। আর বন্ধুকেও বোলো যেন মাস্ক পরে রাস্তায় বেরোয়।’

মাস্ক না পরার জন্য পুলিশের ধরপাকড় দেখে, অনেকে দাঁড়িয়ে পুলিশকে ধন্যবাদ জানালেন। কেউ বললেন দিন কয়েক এটা করুন। ক’দিনেই অভ্যেস ভুলে গেছে। পথচলতি প্রবীন এক ব্যক্তি পুলিশকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘এভাবে হবেনা। দেখছেন না অধিকাংশের কাছে মাস্ক আছে পকেটে। পাছায় একটা ডাণ্ডা মেরে দিন, দেখবেন কাল থেকে মাস্ক পরে বেরোবে।

অন্তত ঘন্টা তিনেক রাস্তায় বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে পুলিশ মানুষকে বোঝালেন, ‘দয়া করে মাস্ক পরুন। আপনাদের ভালোর জন্য আমরা বলছি। রিক্সাওয়ালা, ভ্যান চালক, দরিদ্র বেশকিছু মানুষকে মাস্ক দিলেন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা। সামর্থ আছে এমন বেশকিছু লোককে মাস্ক কিনিয়ে পরতে বাধ্য করালেন। কিছু লোককে বাড়ি ফিরিয়ে দিলেন। বেশিরভাগ মানুষ পুলিশকে ধন্যবাদ জানালেন। তবে মানুষ কতটা সচেতন হবে সেটায় প্রশ্ন! 

পরিস্থিতির মোকাবিলায় ঙ্গলবার মেদিনীপুর সার্কিট হাউসে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। উপস্থিত ছিলেন, রাজ্যের পঞ্চায়েত সচিব তথা পশ্চিম মেদিনীপুরের নোডাল অফিসার এম ভি রাও। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সার্বিক আলোচনা হয়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব রকম ব্যবস্থা গ্রহন করতে বলা হয়েছে। মাস্ক পরা, বাজারে ভিড় কমানো সব কিছু নজর রাখতে বলা হয়েছে। বৈঠকে উঅস্থিত ছিলেন জেলাশাসক রশ্মি কমল, পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিমাই চন্দ্র মণ্ডল, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুন্ডু সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। 

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *