www.bongobanii.com, www.bongobanii.com, www.bongobanii.com, www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

মতামত লেখকের

সন্ত্রাস

ডাঃ অনির্বাণ বিশ্বাস

অনেকদিন পর রমজান আলি আজ চেম্বারে এল, ওর বৌ শামিমা বিবির হাত ধরে। রমজান আরও বুড়ো হয়ে গেছে। হাঁপাচ্ছে। চোখে কম দেখে। কানেও কম শোনে।

আমার দশ বছর আগের রমজানের কথা মনে পরে।ও একা আসতো।  নিজের হাঁপের কষ্টের থেকেও জীবনসংগ্রামের কষ্টের কথা বলত। ওর হাত কাঁপতো। ও কাঁদতো , তখন রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সময়……

— কিগো চাচা,আজ কেমন আছো ? হাঁপাও ক্যান ? ইনহেলার নেও না?

‘নেই ডাক্তার বাবু…কিন্তু কাজ হয় না…কিন্তু আমি অন্য কথা কইতে আসছি’

— মানে?

‘আপনি আমার ছেলেটারে বুঝান ! ও দিন রাত রাজনীতি করে । সরকারি দল না…বিরোধী দলের’

— সব্বোনাশ ! বল কি !’ আমি আঁতকে উঠি। পরিস্থিতি ভাল নয়। সরকার তার দানবীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করে সব বিরুদ্ধাচরন দমাতে চাইছে। আমি হাসপাতালে চাকরি করতে গিয়েও ভুক্তভুগী। চারদিকে খুন মারামারি চলছে।

‘আপনার সাথে অনেক পার্টির লোকের চেনাশোনা আছে। পুলিশের সাথেও আছে। আপনি বলেন। কাল এমএলএর ছেলেরা এসে শাসাইছে। রেহানুদ্দিনকে খুন করবে বলছে।’

চাচা আমার হাত ধরে কাঁদতে থাকে।

আমি চুপ থাকি। আমার কি ক্ষমতা ! বৃদ্ধকে কি করে বুঝাই। কাঁপা হাতে রমজান চোখ মোছে।

‘তুমি রেহান কে বোঝাতে পারছ না?’

‘ও শোনে না। কিছু কইলে চেঁচায় ! কয়,আমি তোমার মত গোলাম হইয়ে থাকতে পারব না। আমরা এই সরকারকে পাল্টাবই …’

এরপর রমজান প্রায়ই আসত। ওর আতঙ্ক উৎকন্ঠা আমায় বলত। ও কাঁদত। ওর হাত কাঁপত।

সেদিন রমজান এল। চোখমুখ লাল। দুদিন ঘুমায় নি। সঙ্গে শামিমা বিবি। দুজনে খুব একচোট কাঁদলে।

রেহান…….

রেহান তখন বাড়িতে ছিল। একদল উন্মত্ত লোক বাড়ি ঘিরে ফেলল। রমজান ঘরের বাইরে এসে জানতে চায়,

‘তোমরা কারা ? কি চাই?’

‘তোমার ব্যাটা কই ? শালার বড় বার বাড়ছে…চারদিকে ভাষন দেয়…তাই না ?’

চেঁচামেচিতে রেহান ভেতরের ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। রমজান ,শামিমা আটকাতে যায়। দুইজনকে ধরে ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে শিকল দেওয়া হয়।  পাশের খোলা জানলা দিয়ে বাপ-মা চিৎকার করে,

‘ওরে ছাইড়ে দাও। হে আল্লা ! বাঁচাও’

ঘুঁষি লাথি মারতে মরতে রেহানকে উঠানে ফেলা হয়। দুইজন দুই হাত চেপে ধরে। একজন ওর বুকের ওপর বসে চিৎকার করে,‘শালা চুথিয়া ! আমি নজরুল, আমাকে জানিস না ?  এতবার না করছি শুনিস নাই ! তোর কথা বলা বার করছি’

এরপর একটি বড় সাঁড়াশি দিয়ে রেহানের জিভ টেনে বার করা হয়।….

‘তোমরা ওর কিছু কইরো না..ওকে আমি আটকায় রাখবো..তোমরা ওকে ছাড়…’ অসহায় রমজান আলি জানলা থেকে চিৎকার করে। কাঁদতে কাঁদতে দরজা ধাক্কায়…বন্ধ দরজা খুলতে চায়।

ছুড়ির এক টানে জিভ দুটুকরো হয়। মুখ দিয়ে গলগল করে রক্ত বেরোয়। ঘিরে থাকা জনতা পাশবিক উল্লাসে চিৎকার করে।

শামিমা বেগম চিৎকার করে অজ্ঞান হয়। ধাক্কাধাক্কিতে দরজা খুলে গেলে রমজান কাঁদতে কাঁদতে বাইরে আসে।

‘হে আল্লা,তুমি এটা কি করলা’  রেহান গোঙাচ্ছে। মুখ রক্তে ভেসে যাচ্ছে। রমজান উদভ্রান্তের মত হাত জোড় করে সকলের পায়ে পড়ে।

‘তোমরা ছেলেটারে হাসপাতালে নিয়া চল…’

উল্লসিত জনতা চুপ। কেউ উত্তর দেয় না। কেউ সাহায্যের হাত বাড়ায় না।

একটু দুরে নারকেল গাছের নিচে এমএলএ সাহেব দাঁড়িয়েছিলেন। পাশে নজরুল । রমজান পা জড়িয়ে ধরে।

‘ছেলেটারে বাঁচাও বাপ’ ।

এমএলএ মুখ ঘুরিয়ে নেন ।

রেহানের রক্তাক্ত মুখ থেকে গোঙানি আসছে । বুড়ো রমজান আর কিছু ভাবতে পারে না। রেহানকে দু হাতে ধরে টানতে থাকে। হাঁপাতে থাকে। ছেলের অতবড় শরীর বুড়ো প্রানপনে টানে। উঠোন থেকে বেরিয়ে একটু গেলেই রাস্তা। বুড়ো রমজান ছেলেকে টানে…পারে না…তবু টানে। এমএলএর ইশারায় দুইজন রমজানের পথ আটকায়। যেতে দেবে না।

হাঁপাতে হাঁপাতে রমজান ফ্যাল ফ্যাল করে তার আশে পাশের মানুষগুলোকে দেখে…….

রেহানুদ্দিন……

এক ঝটকায় বর্তমানে আসি। দশ বছর আগের ঘটনা,ডাক্তার অনির্বাণ বিশ্বাসের মনে রাখলে চলবে কি করে ?

‘চাচা,কি কষ্ট ?’

আমার স্থলিত স্বরে আমিই চমকাই।

( চরিত্রগুলোর নাম কেবল পরিবর্তিত)

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *