www.bongobanii.com, www.bongobanii.com, www.bongobanii.com, www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com www.bongobanii.com, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

মতামত লেখকের

অতীতক্ষয়ী ভবিষ্যত: প্রসঙ্গ সুন্দরবন (২)

সুজন ভট্টাচার্য

অসুন্দরিক সভ্যতা

ইদানিং একটা কথা খুব শোনা যাচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সুন্দরবন থেকে মানুষের বসতি হঠাতে হবে। সুন্দরবন বলতে আজ আমরা যে স্থানকে বুঝি, সেটা যে এক আংশিক মানচিত্র, সেটা আমরা আগেই দেখেছি। পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত সুন্দরবনের জলপ্রবাহের দুই মূল শরিক হল বিদ্যাধরী এবং ইছামতী। বর্তমান হাড়োয়া ব্লকে বিদ্যাধরীর নদীর তীরেই ছিল চন্দ্রকেতু গড়, যা আলেকসান্দারের সময়ে এক শক্তিশালী রাজ্য হিসাবে বিবেচিত হত। অর্থাৎ খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দেও সুন্দরবনে শুধু যে মানুষের বসতি ছিল এমন নয়, একটি পরাক্রান্ত রাজ্যও সেখানে গড়ে উঠেছিল। সেই রাজ্যের অস্তিত্ব অবশ্য ছিল সুন্দরবনের উত্তর-পশ্চিমাংশের সীমায়। দক্ষিণ সীমানায় অর্থাৎ সমুদ্র সন্নিহিত অঞ্চলে বসতি গড়ার কোনো নিদর্শন আছে কি? সাগর দ্বীপে কপিল মুনির মন্দিরের প্রসঙ্গে যদি ধরেও নেওয়া যায় ছিল, তাহলেও সেগুলো বিচ্ছিন্ন ও অল্পসংখ্যক মানুষের বসতি হওয়াই উচিৎ।

ইসাসের জেরে এবারে জলমগ্ন কপিলমুনির আশ্রম ।। আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে আশ্রম – ছবি নেট সৌজন্যে

মুঘল আমলের ফর্মানে সুন্দরবনের প্রসঙ্গ এলেও সেখানে জনবসতির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। মাছ আর মধু ছাড়া অন্য কোনো সম্পদের অভাবে মানুষের বসতি বিস্তারের কারণও ছিল না। চেহারাটা বদলাল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতা দখলের পর। মুঘল সরকার এই ঘন জঙ্গলে পা রাখার কোনো উৎসাহ দেখায়নি। সুন্দরবনের অন্যতম অকৃষি উৎপাদন ছিল সমুদ্র বা খাঁড়ির জল থেকে লবণ তৈরি করা। কিন্তু দেশিয় লবণের উপর ৬৫০% রাজস্ব চাপিয়ে দেওয়া হল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে। স্বভাবতই সুন্দরবনে লবণ উৎপাদনের আর কোন বাণিজ্যিক উপযোগিতা রইল না। রাজস্বের ক্ষতি ছিল অনিবার্য। এই পরিস্থিতিতে ১৭৮৩ সালে যশোরের ম্যাজিস্ট্রেট টিলম্যান হেঙ্কেল সুন্দরবনের অলাভজনক জঙ্গল উচ্ছেদ করে ফাঁকা জমি উদ্যোগীদের হাতে তুলে দেবার প্রস্তাব দেন। হেঙ্কেলের প্রস্তাব ছিল সাত বছর আবাদ করার পরে তবেই সেই জমি থেকে রাজস্ব আদায় করার। এর ফলে নিঃসন্দেহে মানুষ এগিয়ে আসবে সুন্দরবনে বসত গড়ার জন্য।

১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস চালু করলেন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। এই বন্দোবস্ত অনুযায়ী গোটা বাংলাকেই অসংখ্য ছোট-বড় জমিদারদের হাতে তুলে দেওয়া হল, নির্দিষ্ট বার্ষিক খাজনার বিনিময়ে। ফলে সুন্দরবনের একেকটা মহলও ডাকে চড়ল, কোনো না কোনো জমিদারের নামে পত্তনি হল তার। ফসল হোক না হোক, খাজনার পরিমাণ কিন্তু নির্দিষ্ট। বছরে সেই খাজনা মেটাতে জমিদার বাধ্য। খাজনা মেটাতে হলে জমিদারকেও খাজনা আদায়ের পথ প্রশস্ত করতে হয়। তাই নতুন নতুন জমিতে রায়তের পত্তনির প্রসঙ্গ উঠে এল। এই সময়ই জমিদারদের চোখ পড়ল সুন্দরবনের দিকে। তারাই জঙ্গল উচ্ছেদ করে নতুন নতুন বসতির আবাদ করালেন, অন্যান্য জায়গা থেকে মানুষকে টেনে এনে বসতি করালেন। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ উচ্ছেদ করে গড়ে উঠল একের পর এক নতুন গ্রাম। হাসনাবাদ, সুলকুনি আবাদ, বাউনিয়া আবাদ নামগুলো থেকেই জঙ্গল হাসিল করার সেই ইতিহাস টের পাওয়া যায়।

সুন্দরবন অঞ্চলের নদীগুলোয় জোয়ারভাটার খেলার তীব্রতা খুবই প্রবল। জোয়ার আর ভাটার সর্বোচ্চ জলস্তরের পার্থক্য স্থানবিশেষে ১৫-২০ ফুটও হয়ে দাঁড়ায়। আবার নরম এটেল মাটির স্তরকে যেখানেসেখানে কেটে একেকটা নদী অজস্র শাখাপ্রশাখা তৈরি করেছে, আবার ইচ্ছেমত মিলেও গেছে। ফলত সুন্দরবন অঞ্চলে, বিশেষত দক্ষিণ ও পূর্বাংশে নিদেনপক্ষে ২৫-৩০ কিমি লম্বা একটানা ভূখণ্ড মিলবে না। আর তাই গোটা সুন্দরবনকে অজস্র দ্বীপের সমষ্টি বলেই গণ্য করা উচিত। আবাদ হাসিল করা হয়েছিল চাষাবাদের জন্যই। কিন্তু সুন্দরবনের নদীগুলোর নোনা জলে তো সেটা সম্ভব নয়। তাই দরকার পড়ল মিষ্টি জলের উৎসের। খনন করা হল পুকুর। আবার জোয়ার বা জলস্ফীতির কারণে কৃষিজমি কিংবা পুকুর বা বসতি যাতে নষ্ট না হয়, তাই নদীর ধারে বসান হল জমিদারি বাধ। আর এই করতে গিয়েই দ্বীপভূমির মাঝখানের উচ্চতা গেল কমে। ফলে প্রত্যেকটা দ্বীপই হয়ে দাঁড়াল গামলার মত, যার চারপাশ উঁচু, আর মাঝখানটা ঢালু। আবার একই সঙ্গে যাতায়াতের সুবিধা কিংবা বর্ষার জল দ্রুত নামানোর তাগিদে কাটা হল অজস্র খাল।এখন সেই খালগুলোও হয়ে দাঁড়িয়েছে মারণফাঁদ।

জোয়ারের সময়ে মাতলা ।। ভাটার সময়ে মাতলা

ভূ-প্রাকৃতিক কারণেই সুন্দরবনে ভাঙাগড়ার খেলা চলে অবিরাম। মূলত গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের মাধ্যমে হিমালয়ের শিলাচূর্ণ বয়ে আসে বঙ্গোপসাগরে। সুন্দরবনের যাবতীয় ছোটবড় নদীর মূল উৎস দুটি, বিদ্যাধরী আর ইছামতী। দক্ষিণ ২৪ পরগণার সদাবিক্ষুব্ধ দুই নদী মাতলা আর রায়মঙ্গলও তাই। গঙ্গা আর ব্রহ্মপুত্র পথে বয়ে আসা পলি এই বহুমুখী নদীনালার স্রোতের টানে ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। একদা বিদ্যাধরী আর ইছামতীর সঙ্গে গঙ্গার সরাসরি যোগ ছিল। ফলে মিষ্টি জলের প্রবাহ ছিল এই দুই নদী কিংবা তাদের শাখাপ্রশাখায়। এর ফলে গঙ্গার পলি ভাটার সময় সরাসরি বয়ে যেত মোহনায়। কিন্তু দীর্ঘদিন সেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে নদীগুলো এখন জোয়ারের জলেই পুষ্ট। স্বভাবতই জোয়ারের সময় অবাধে পলি ঢুকে আসে উজানে আর ভরাট হয়ে আসছে নদীখাত। এইভাবে সুন্দরবনের নদীগুলোর জলধারণ ক্ষমতা দ্রুতহারে কমছে। আবার একইসঙ্গে রয়েছে সাইক্লোনের সমস্যা। নিয়মিতভাবে প্রবল ঘুর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার প্রবণতা রয়েছে বঙ্গোপসাগরের।

বহুদিন ধরেই সুন্দরবন ঘুর্ণিঝড় আর জলস্ফীতির যৌথ হামলার সম্মুখিন হয়ে আসছে। এই অবস্থায় সুন্দরবনের নিরাপত্তার গ্যারান্টি হতে পারে একমাত্র ম্যানগ্রোভ প্রাচীর। সুন্দরী বা গেওয়া মূলত সমুদ্রের ধারেই জন্মায়। আবার গরান বা বান জন্মায় নদীর তীরে। কেওরা দু জায়গাতেই দেখা যায়। এই গাছগুলোর শিকড়ের জাল কেবল নিজেকেই দৃঢ়ভাবে মাটিতে আটকে রাখে না। বিস্তৃত এলাকা জুড়ে অনেক গভীর পর্যন্ত শিকড়ের জাল পলি আটকে দেয়। ফলে নদীর পাড়ের বাধের সামনে নতুন করে মাটির স্তর জমে। এর ফলে বাধ আরও পোক্ত হয়। আবার ভূমিক্ষয়ও হ্রাস পায়।একই সঙ্গে সাইক্লোনকেও একটা স্তর পর্যন্ত প্রতিহত করে ম্যানগ্রোভ প্রাচীর। কিন্তু নির্বিচারে আবাদ গড়তে গিয়ে সেই ম্যানগ্রোভ প্রাচীরকেই উচ্ছেদ করতে হল। আর এরপর থেকেই সুন্দরবনের সমস্যার সূত্রপাত।

১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহের সময়ই দেখা গেল হুগলী নদীর নাব্যতা কমে আসতে শুরু করেছে। তদানীন্তন ভাইসরয় লর্ড ক্যানিং কলকাতার বিকল্প বন্দর স্থাপনের জন্য মাতলা আর বিদ্যাধরীর সঙ্গমস্থানের কাছে সুন্দরবনের একটি অংশকেই বেছে নিলেন। ৮৬৫০ একর বনভূমি সাফাই করে ১৮৬২ সালে কাজ চালু হল ক্যানিং বন্দরের। পণ্য পরিবহনের জন্য সেই বছরই তদানীন্তন বেলিয়াঘাটা (বর্তমানের শিয়ালদহ দক্ষিণ) স্টেশনের সঙ্গে রেলপথে যুক্ত করা হল পোর্ট ক্যানিংকে। পরিণতিতে শ্মশান হয়ে গেল ম্যানগ্রোভ অরণ্য। এই উন্মাদ প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিলেন ঝড় বিশেষজ্ঞ হেনরি পিডিংটন। এই পিডিংটনই সাইক্লোন শব্দটির জন্মদাতা। রাজনৈতিক ক্ষমতাবানরা প্রায়শই বিশেষজ্ঞদের মতামতে কান দেন না, বিশেষ করে সেই অভিমত যদি তাদের ব্যক্তিগত আকাঙ্খার বিপরীত হয়। তাই পিডিংটন বাতিল হয়ে গেলেন। আর সেই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘… everyone and everything must be prepared to see a day when, in the midst of horrors of a hurricane, they will find a terrific mass of salt water rolling in, or rising up upon them, with such rapidity that the whole settlement will be inundated to a depth of from five to fifteen feet’.

প্যাডিংটনের আশঙ্কা পাঁচ বছরের মধ্যেই সত্যি হল। ১৮৬৭র ১ নভেম্বর এক প্রবল সাইক্লোন বয়ে গেল ক্যানিং পোর্টের উপর দিয়ে। লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল লর্ড ক্যানিং-এর সাধের বন্দর। ‘The station house, goods sheds, and the railway hotel were all blown down; the Port Canning Company’s store hulk Hashemy carried away a great portion of the Railway Jetty, and the fresh water tanks were salted by the storm-wave’. ঠিক এই ভাষাতেই প্রতিবেদন লেখা হয়েছিল ১৮৬৭-৬৮ সালের বাংলা সরকারের অ্যানুয়াল রিপোর্টে।

আর ৯ বছর পরে অর্থাৎ ১৮৭৬ সালের ৩১ অক্টোবর মেঘনা মোহানায় হানা দিল ৪০ ফুট উঁচু জলের ঢেউ, মারা গেলেন কমপক্ষে ২,৫০,০০০ মানুষ। সাইক্লোনের পরেই এল অনাহার আর কলেরা। পৃথিবীর মায়া কাটাতে বাধ্য হলেন আরো এক লক্ষ মানুষ। তবুও নতুন করে আবাদ তৈরি আর ম্যানগ্রোভ ধ্বংস বন্ধ হল না সুন্দরবনে। একার হাতে গোসাবায় ৯০০০ একর জমিতে ম্যানগ্রোভ উচ্ছেদ করে জনহিতৈষীর খেতাব পেয়ে গেলেন স্কটিশ ব্যবসায়ী স্যার ড্যানিয়েল ম্যাকিনন হ্যামিলটন।

(ক্রমশঃ)

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *