হুল উৎসব থেকে তির-ধনুক নিয়ে হামলা, তিরবিদ্ধ উপ-প্রধানের ভাই, শালবনি কোবরা ক্যাম্পে জওয়ানের আত্মহত্যা, করোনায় মৃতদের পরিবারকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কসবা কাণ্ডে অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবকে মনোরোগী বলে দাবি করলেন আইনজীবী, বালি তোলা সহ নানা সমস্যার সমাধান করতে হবে বৈঠকে বললেন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, পরিত্যক্ত পিপিই কিট পরে শহরের রাস্তায় ঘুরছে মানসিক ভারসাম্যহীন, আতঙ্ক মেদিনীপুরে, জনপ্রিয় অভিনেতা বর্তমানে মাছ ব্যবসায়ী, হলফনামা জমা দেবার ক্ষেত্রে জরিমানা দিতে হল পাঁচ হাজার টাকা, আজ ঘোষণা হতে পারে নারদ মামলার রায়, বুধবার থেকে পনেরো শতাংশ ভাড়া বাড়ছে ওলা উবেরের,

Latest Trending Online News Portal : Bongobani.com

Sports News District News National News Updates

মতামত লেখকের

আলিপুরদুয়ারের পর্যটনে প্রাপ্তির ভাঁড়ার শূন্য !

অভীক গুপ্ত, আলিপুরদুয়ার :সাতবছর আগে নতুন জেলা হিসেবে এই দিন আত্মপ্রকাশ করেছিল আলিপুরদুয়ার। নতুন জেলা ঘোষনার দিন  মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, আলিপুরদুয়ারকে দেশের পর্যটন মানচিত্রের শীর্ষে দেখতে চান। নতুন জেলা ঘোষনার পরে সিঞ্চুলা পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত তাশিগাঁও-লাপচাখাঁ থেকে তোর্ষার পাড় পর্যন্ত পর্যটনের সাথে জড়িত সকল স্টেকহোল্ডাররা আশায় বুক বেঁধেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে যখন বলেছেন পর্যটনের উপরে জোর দিতে, সেখানে নিশ্চিত কোন ব্যবস্থা হবে। সাত বছর পরে সেই প্রশ্নই ঘুরছে এখন সবার মুখে। পর্যটনে কি পেল আলিপুরদুয়ার? দীর্ঘ সাত বছর বাদে সেদিনের কথার ওপর ভিত্তি করা হলে দেখা যাবে বাস্তবের ছবিটা একেবারেই আলাদা। রাস্তাঘাটের বেশ কিছু উন্নতি হলেও এই অঞ্চলের পর্যটন জগতের যে দাবিদাওয়া ছিল   সাত বছর আগে আজও রয়ে গিয়েছে সেই একই দাবি।

জেলা জুড়ে এখনও এই অবস্থা। ছবি – প্রতিবেদক

এই অঞ্চলের পর্যটনের ভিত্তি মুলত হোমস্টেগুলো। আজ অবধি সিংহভাগ হোমস্টে গুলোর রেজিস্ট্রেশন হয়নি। ফলে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। জৈন্তীর পর্যটন ব্যবসায়ী এবং আলিপুরদুয়ার ডিস্ট্রিক্ট ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মানব বক্সী বলেন,‘আজ অবধি ডুয়ার্সের রাণী জৈন্তীর শতাব্দী প্রাচীন জনপদের মানুষকে পাট্টা দেবার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো পাট্টা তো দেয়া হলোই না উল্টে জৈন্তীর অস্তিত্ব ভূমি রাজস্ব দফতরের নথি থেকে মুছে ফেলা হলো। রাতারাতি সরকারি খাতায় অস্তিত্বহীন করে দেওয়া হলো !এলাকার মানুষকে পাট্টা দেবার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো পাট্টা তো দেয়া হয়নি।  জয়ন্তীর চুড়ায় থাকা বক্সাদুয়ারের সদরবাজার পর্যন্ত পুরনো বক্সারোডকে সংস্কার করে গাড়ি চলাচলের যোগ্য রাস্তার দাবি দীর্ঘদিনের।সে দাবি আজও পূকণ হয়নি।’

প্রকৃতি সাজিয়ে রেখেছে জেলাকে এখনও এভাবেই। চায় সরকারের সহযোগিতা। ছবি – প্রতিবেদক

কালচিনির বিডিও প্রশান্ত বর্মন ঘোষণা করেন  বক্সাফোর্টের মাঠে ফুটবল এবং আর্চারি চর্চার জন্যে ইনডোর স্টেডিয়াম করবে সরকার। যেখানে এখনো সন্তানসম্ভবা মাকে বাঁশের সাথে বেঁধে  স্ট্রেচারে করে দুর্গম পাহাড়ি পথ বেয়ে পাঁচ-ছয় কিলোমিটার  নামতে হয়, সেখানে স্টেডিয়াম? তবে সম্প্রতি তিন শয্যার একটা ছোট স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরীর কথা ঘোষনা করেছে ব্লক প্রশাসন। স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুমতি মিললে শুরু হবে কাজ।

এ গহনে হারাতে মন কার না চায়। ছবি- প্রতিবেদক

অথচ আলিপুরদুয়ার কে প্রকৃতি নিজের হাতেই যেন একটু করে সাজিয়ে তুলেছে। বহু জায়গা রয়েছে শুধু যোগাযোগের অভাবে পর্যটন শিল্পে নাম তুলতে পারছে না। সূত্রের খবর এই সাত বছরে  জেলাপ্রশাসনের সাথে বনদফতর ও বিভিন্ন পর্যটনভিত্তিক সংগঠনের একটিও সভা হয়নি এলাকার সার্বিক উন্নতি নিয়ে। এখনও অবধি ভুটানঘাটে পর্যটকদের  যাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেনি জেলা প্রশাসন।  সেখানে যুব আবাস বানিয়ে ফেলা হল। চিলাপাতার মতো জনপ্রিয় জঙ্গলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হোমস্টে, রিসোর্ট মালিকরা প্রতিমুহূর্তে বনবিভাগের অসহযোগিতার কথাই তুলে ধরছেন। চিলাপাতা ইকোট্যুরিজম সোসাইটির সভাপতি গণেশ সা বলেন, ‘চিলাপাতা রেঞ্জের তিনটে বন বস্তি রয়েছে। রাভা জনজাতির নৃত্যশিল্পীরা যারা জঙ্গল সাফারীর পরে ট্যুরিস্টদের লোকনৃত্য পরিবেশন করে মনোরঞ্জন করেন, সেই শিল্পীরা রোজগারহীন অবস্থায় আছেন । বিগত চোদ্দমাস ধরে, তাদের পাশে এখানকার বনদফতর ন্যূনতম সাহায্য করেনি তাদের।’ বক্সা টাইগার রিজার্ভের মোড়ককে বাঁচিয়ে রাখার জন্যে বনবিভাগ বাঘ আনার কথা বললেও আনা হচ্ছে না বাঘ। আবারও বলা হয়েছে আসম থেকে কুড়িটি বাঘ নিয়ে আসা হবে।  জ্বালানি তেলের দাম না মেটানোর জন্যে বনদফতরকে পেট্রোল, ডিজেল দেওয়া বন্ধ করে পেট্রোল পাম্পগুলো। এত কিছুর পরেও এখনও আশায় বুক বেঁধে আছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কয়েক হাজার মানুষ। এখনও তাঁদের স্থির বিশ্বাস, মুখ্যমন্ত্রী নিজে যখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তখন নিশ্চই তিনিই ব্যবস্থা নেবেন।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *